সংবাদদাতা, কাঁথি: জমি অধিগ্রহণ না হওয়ায় দীঘা-নন্দকুমার ১১৬বি জাতীয় সড়কে পিছাবনি থেকে দীঘা পর্যন্ত জাতীয় সড়ক সম্প্রসারণের কাজ থমকে। একই কারণে থমকে রয়েছে বালিসাই থেকে রামনগরের নিমতলা পর্যন্ত বাইপাস নির্মাণের কাজ। পিছাবনি পর্যন্ত ফোর লেনের রাস্তা হলেও পিছাবনির পর থেকে দীঘার অলঙ্কারপুর পর্যন্ত জাতীয় সড়ক আগের মতোই ডবল লেনের এবং সংকীর্ণ রয়েছে। এর ফলে প্রতিদিনই চাউলখোলা, বালিসাই ও রামনগর প্রভৃতি গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় যানজট লেগেই থাকে। এমনিতেই দীঘা সহ অন্যান্য পর্যটন কেন্দ্রে যাওয়ার গাড়ির সংখ্যা বাড়ছে। ৩০ এপ্রিল দীঘার জগন্নাথধাম উদ্বোধন হয়ে গেলে জাতীয় সড়কে পর্যটকদের গাড়ির ভিড় যে কয়েকগুণ বাড়বে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। তখন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষ এবং পর্যটকদের ভোগান্তি বাড়বে। তাই অবিলম্বে জাতীয় সড়ক সম্প্রসারণ এবং বাইপাস নির্মাণের কাজ শুরুর দাবি তুলেছেন এলাকার বাসিন্দারা এবং পর্যটকরা সহ সংশ্লিষ্ট সকলেই।
উল্লেখ্য, নন্দকুমার থেকে দীঘা পর্যন্ত ৯০ কিলোমিটার জাতীয় সড়ক। নন্দকুমার থেকে কাঁথি এবং কাঁথি থেকে পিছাবনি পর্যন্ত অংশ সম্প্রসারণ হয়ে গিয়েছে। পিছাবনি থেকে দীঘা পর্যন্ত জাতীয় সড়ক সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। সড়ক সম্প্রসারণ, বাইপাস রাস্তা নির্মাণ সহ অন্যান্য কাজের জন্য প্রায় ৪০০ কোটি টাকার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। আগেই আর্থিক অনুমোদন করেছে কেন্দ্রীয় সরকারের জাতীয় সড়ক পরিবহণ দপ্তর। কিন্তু যেহেতু পিছাবনি থেকে দীঘা জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হয়নি, তাই কাজও শুরু হয়নি।
পিছাবনির পর চাউলখোলা বাসস্টপে প্রচুর দোকানপাট যেমন রয়েছে, তেমনি চাউলখোলা হয়ে মন্দারমণি যাওয়ার জন্য পর্যটকদের প্রচুর প্রাইভেট কার আসে। এরফলে প্রতিনিয়ত চাউলখোলায় যানজট সৃষ্টি হয়। বালিসাইতে বড় বাজার রয়েছে। বালিসাইতে প্রতিদিনই কয়েকবার যানজট হয়। ভোগান্তির শিকার হন স্থানীয় মানুষজন সহ দীঘাগামী কিংবা দীঘাফেরত পর্যটকরা। আর রামনগর তো এলাকার প্রাণকেন্দ্র বলে পরিচিতি। সেখানে অজস্র দোকানপাট, বড় বাজার রয়েছে। রামনগর থেকে এগরা অনেকগুলি বাসও যাতায়াত করে। সঙ্গত কারণে রামনগরেও প্রতিনিয়ত যানজট লেগে থাকে। বাইপাস রাস্তা নির্মাণ হলে এই সমস্ত জায়গায় যানজট কমবে বলে আশা। এর আগে ২০২২ সালে সাড়ে ছ’কিলোমিটার বাইপাস রাস্তা তৈরির জন্য বালিসাই থেকে রামনগর পর্যন্ত ন’টি মৌজায় জমি অধিগ্রহণের বিজ্ঞপ্তি জারি হয়। এরপর জমি অধিগ্রহণের কাজ শুরু হয়। এপর্যন্ত চারটি মৌজায় জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। এখনও অনেক কাজ বাকি।
রামনগরের বাসিন্দা, রামনগর-১ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি নিতাইচরণ সার বলেন, বাইপাস রাস্তা নির্মাণ হলে এলাকাবাসী সহ পর্যটকরা উপকৃত হবেন। পঞ্চায়েত সমিতি সব রকমের সহযোগিতা করবে। পূর্তদপ্তর সূত্রে খবর, যদিও এর আগে পিছাবনি থেকে দীঘা রাস্তা এবং বাইপাস তৈরির জন্য টেন্ডার ডাকা হয়েছিল। সেখানে যে ঠিকাদার সংস্থা কাজ করবে, সেটাও চূড়ান্ত হয়ে যায়। কিন্তু জমি অধিগ্রহণ না হওয়ায় কোনও কাজ শুরু করা যাচ্ছে না। পূর্তদপ্তরের (জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ) এগজিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার জয়ন্তকুমার গড়াই বলেন, রাজ্য সরকারের তরফে জমি পাওয়া গেলে বাকি প্রকল্পের কাজ শুরু হবে। অতিরিক্ত জেলাশাসক (ভূমি) বৈভব চৌধুরী বলেন, জমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত সমস্যা ধীরে ধীরে মেটানোর চেষ্টা চলছে। জেলা পরিষদের সভাধিপতি উত্তম বারিক বলেন, রাজ্য সরকার এবং জেলা প্রশাসন ১১৬বি জাতীয় সড়কের বাকি কাজ শুরু করার জন্য সবরকমের সহযোগিতা করছে। দ্রুততার সঙ্গে কাজ শুরু হবে।