Bartaman Logo
২৪ জুলাই, ২০২৬

রাত দশটায় স্পেশাল ডিউটিতে এলেন পিআইবি আধিকারিকরা

মঙ্গলবার রাতেই ডেকে নেওয়া হল মন্ত্রকের অফিসারদের। তৈরি হল ‘ওয়াররুম।’ যদিও কেন আচমকাই ঩বিকাল সাড়ে পাঁচটায় ছুটির পরেও ফের রাত ১০ টার সময় তাঁদের ডাকা হল, খোলসা করা হয়নি কাউকেই।

রাত দশটায় স্পেশাল ডিউটিতে  এলেন পিআইবি আধিকারিকরা
  • ৮ মে, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: মঙ্গলবার রাতেই ডেকে নেওয়া হল মন্ত্রকের অফিসারদের। তৈরি হল ‘ওয়াররুম।’ যদিও কেন আচমকাই ঩বিকাল সাড়ে পাঁচটায় ছুটির পরেও ফের রাত ১০ টার সময় তাঁদের ডাকা হল, খোলসা করা হয়নি কাউকেই। স্রেফ বলা হল, রাইসিনা রোডের ওপর ‘ন্যাশনাল মিডিয়া সেন্টারে’ হাজির হতে। স্পেশাল ডিউটি। তথ্য-সম্প্রচার মন্ত্রকের নির্দেশ মেনে তাই ছুটির পরেও একে একে ফের ডিউটিতে জড়ো হলেন প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরোর প্রিন্সিপাল ডিজি থেকে শুরু করে অ্যাডিশনাল ডিজিস্তরের আধিকারিকরা। একজোট হলেন পাঁচতলায়। 

Advertisement

এভাবে আচমকাই ডাক পড়ায় সকলেই আন্দাজ করতে শুরু করলেন, পহেলগাঁও পরিস্থিতিতে কিছু একটা ঘটতে চলেছে। কিন্তু কী, সেটা অজানা। ঘড়ির কাঁটা ঘণ্টা তিনেক পেরতেই মন্ত্রকের উপর মহল থেকে এল ‘অ্যালার্ট’। তৈরি থাকুন। গুরুত্বপূর্ণ প্রেস রিলিজ তৈরি করতে হবে। কিন্তু বিষয় কী? বলা হল না। নির্দেশ মেনে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় তৈরি হয়ে গেলেন অফিসাররা। আধ ঘণ্টা টান টান উত্তেজনা। রাত ১-৩৫ নাগাদ রাতজাগা পিআইবি অফিসারদের জানানো হল, ‘ডান। পাকিস্তানে পাল্টা আক্রমণ করেছি আমরা। প্রেস বিবৃতি তৈরি করে তা প্রকাশ করুন।’
লেখা হল, প্রেস বিবৃতি। ঝড়ের গতিতে। অফিসারদের চোখেমুখে একইসঙ্গে জয়ের আনন্দ। সঙ্গে চাপা টেনশনও। লেখা হল, অপারেশন সিন্দুর নামে পাকিস্তানের জঙ্গি শিবির টার্গেট করে নির্দিষ্ট লক্ষ্যে প্রত্যাঘাত করেছে ভারতীয় সশস্ত্র সেনা। কোনও পাকিস্তানি সেনা ঘাঁটিকে টার্গেট করা হয়নি। স্রেফ জঙ্গি শিবির। ন’ জায়গায় অপারেশন। আট লাইনের বিবৃতি লেখা শেষ হতেই প্রতিরক্ষা মন্ত্রক, প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরকে দেখিয়ে নেওয়া হল। গ্রিন সিগন্যাল মিলতেই রাত ১-৪৪ মিনিটে তা প্রকাশ করা হল পিআইবি’র ওয়েবসাইটে। ইংরেজির পাশাপাশি বাংলা, উর্দু, গুজরাতি, খাসির মতো মোট ১৫ টি ভাষায়, একইসঙ্গে। 
তারপর তো ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গে অপারেশন সিন্দুরের কথা জেনেই গেল গোটা দেশ। বিশ্বও। কিন্তু কাজ শেষ হয়নি আধিকারিকদের। সাত সকালেই সমস্ত পিআইবি কর্মীদের মোবাইলে মেসেজ। সকাল সকাল এসে যাবেন। ড্রাইভারদের ডিউটি চলল সারারাত। সেনার প্রত্যাঘাত তো হয়েছে। এবার ঩সোশ্যাল মিডিয়ার প্রত্যাঘাত। সক্রিয় করা হল পিআইবি’র ‘ফ্যাক্ট চেক’ বিভাগকে। পাকিস্তান থেকে আসা উড়ো তথা ভুয়ো খবর পরীক্ষা করে পাল্টা জবাব দিতে কাজে নামানো হল তাদের। প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের থেকে যাচাই করে সমানে চলল পাল্টা প্রত্যাঘাত। ভারতের বিমান গুঁড়িয়ে দেওয়া থেকে শুরু করে নানা খবরকে মোদি সরকার সিলমোহর দিল ‘ফেক।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ