নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ফিজিয়োথেরাপিস্টরাও নামের আগে লিখতে পারবেন ‘ডাঃ’। তাঁদের সর্বভারতীয় নিয়ামক সংস্থা ন্যাশনাল কমিশন ফর অ্যালায়েড অ্যান্ড হেলথকেয়ার প্রফেশনস (এনসিএএইপি) নিজেদের নয়া নিয়মে এই ‘স্বীকৃতি’ প্রদান করেছে। ফিজিয়োথেরাপি বিদ্যার ৪২৭ পৃষ্ঠার পাঠ্যক্রমে কী ধরনের ফিজিয়োথেরাপি পড়াশোনাকে কমিশন মান্যতা দেয়, সেইকথা তারা জানিয়েছে। বলা হয়েছে, স্বীকৃত কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক স্তরের ফিজিয়োথেরাপি পঠনপাঠনকেই তারা মান্যতা দেয়। পাশাপাশি জানিয়েছে, এভাবে ফিজিয়োথেরাপি পড়াশোনা করা পেশাদারদের নামকরণ হবে ‘ফিজিয়োথেরাপিস্ট’ এবং তাঁরা নামের আগে ‘ডাঃ’ এবং নামের পর ‘পিটি’ লিখবেন।
নামের আগে এই ‘ডাঃ’ বসানোর সিদ্ধান্ত আসাতেই তোলপাড় দেশজুড়ে। তুমুল বাগ্বিতণ্ডা ও বিতর্ক শুরু হয়েছে ফিজিয়োথেরাপিস্ট এবং চিকিৎসকদের বিভিন্ন পেশাদারি সংগঠনের মধ্যে। সোশ্যাল মিডিয়াতেও চলছে বাগ্যুদ্ধ। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের হেলথ সার্ভিসেসের শীর্ষকর্ত্রী ডিরেক্টর জেনারেল হেলথ সার্ভিসেস (ডিজিএইচএস) জানান ডাঃ সুনীতা শর্মা। ফিজিয়োথেরাপিস্টদের ‘ডাঃ’ লেখার সিদ্ধান্তে আপত্তি জানিয়ে কড়া চিঠি পাঠান। এমনকি, ওই অংশটি এরপর কমিশনের পাঠ্যক্রম পুস্তক থেকে বাদ দেওয়া হবে বলেও ৯ সেপ্টেম্বর এক চিঠিতে বলা হয়। আইএমএ-র সর্বভারতীয় সভাপতি ডাঃ দিলীপ ভানুশালীকে পাঠানো দু-পাতার চিঠিতে তাঁর যুক্তির সপক্ষে এই ইস্যুতে পাটনা, বেঙ্গালুরু, মাদ্রাজের আদালতের রায় ও তামিলনাড়ু মেডিকেল কাউন্সিলের অ্যাডভাইজারির উল্লেখ করেন। যদিও পরদিন অর্থাৎ ১০ সেপ্টেম্বরই রহস্যময়ভাবে সে চিঠি প্রত্যাহার করেন সুনীতাদেবী। পরিস্থিতি আরও সম্মুখসমরের মতো হয়ে ওঠে, যখন এর তিনদিন পরই, ১৩ সেপ্টেম্বর ফিজিয়োথেরাপিস্টদের সর্বভারতীয় কমিশনের চেয়ারম্যান জনসাধারণের উদ্দেশে এক বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানান, তাঁদের কমিশনের আওতাভুক্ত পেশাদারদের সংশ্লিষ্ট নিয়মাবলি তাঁরাই স্থির করবেন। তাঁদের সঙ্গে আলোচনা না করে অন্যকোনও সংস্থার এই বিষয়ে নেওয়া সিদ্ধান্তকে গ্রাহ্য করা হবে না।
প্রসঙ্গত, প্রায় ১০ বছর ধরে ফিজিয়োথেরাপিস্টরা স্বনির্ভর প্র্যাকটিস (চিকিৎসকদের অধীনে নয়) এবং নামের আগের ‘ডাঃ’ লেখার দাবিতে সোচ্চার হয়ে আসছেন। এ নিয়ে একাধিক রাজ্যে মামলা মকদ্দমাও হয়েছে। কী বলছে দেশের সর্ববৃহৎ চিকিৎসক সংগঠন আইএমএ? সংগঠনের সদ্য প্রাক্তন সভাপতি ডাঃ আর ভি অশোকন বলেন, চিকিৎসক, নার্স, ফিজিয়োথেরাপিস্ট—প্রত্যেকের কাজের পরিধি ও এক্তিয়ার আছে। চিকিৎসকরা মেডিকেল কাউন্সিলের আওতাভুক্ত। ফিজিয়োথেরাপিস্টরা তাঁদের অ্যালায়েড কাউন্সিল স্বীকৃত। তাঁরা ‘ডাঃ’ লিখবেন কেন? ডিজিএইচএস চিঠি পাঠিয়ে ঠিকই করেছিলেন। তুললেন কেন স্পষ্ট নয়। মোট কথা, আমরা আইনি প্রস্তুতি নিচ্ছি। ফিজিয়োথেরাপিস্টদের সর্বভারতীয় সংগঠন ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন অব ফিজিয়োথেরাপিস্টের প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি অরূপকান্তি সাহা বলেন, প্রয়োজনে আমরাও আদালতের দ্বারস্থ হব। একই মত রাজ্যের সরকারি ফিজিয়োথেরাপিস্টদের সংগঠনের সম্পাদক তীর্থদীপ দাসেরও। যদিও বিখ্যাত ফিজিয়োথেরাপিস্ট জীবক মুখোপাধ্যায় বলেন, আসল কথা রোগী পরিষেবা। তাঁদের সুস্থ করা। সেখানে কারওরই ইগোর জায়গা নেই।