সংবাদদাতা, বালুরঘাট: লাইসেন্স পুনর্নবীকরণ না হওয়ায় বালুরঘাট পুরসভার মাতৃসদন বন্ধ হয়ে গেল। স্বাভাবিকভাবে রোগী ভর্তি নেওয়াও আপাতত বন্ধ। যাঁরা ভর্তি ছিলেন, তাঁদের ছুটি দেওয়া হয়েছে। কার্যত নোটিস ঝুলিয়ে মাতৃসদনে পরিষেবা দেওয়ার কাজ বন্ধ হওয়ায় শোরগোল পড়ে গিয়েছে বালুরঘাট শহরে। ক্ষুব্ধ শহরবাসী।
পুরসভা সূত্রে খবর, মাতৃসদনে রোগী পরিষেবা বন্ধ হলেও স্বাস্থ্য বিষয়ক নানা কাজকর্ম চলবে। দমকলের লাইসেন্সের জন্যও আবেদন করেছে পুর কর্তৃপক্ষ। সেই লাইসেন্স পেলেই স্বাস্থ্যদপ্তরের কাছে ক্লিনিকাল এস্টাব্লিসমেন্ট সার্টিফিকেটের জন্য আবেদন করবে পুরসভা।
পুরসভার চেয়ারম্যান সুরজিৎ সাহার কথায়, স্বাস্থ্য দপ্তরকে জানানো হয়েছিল। স্বাস্থ্য দপ্তরের পরামর্শ অনুযায়ী আপাতত বন্ধ রাখা হচ্ছে রোগী পরিষেবা। আমরা দমকলের লাইসেন্সের জন্য আবেদন করেছি। সেটা পেয়ে গেলেই স্বাস্থ্য দপ্তরের সার্টিফিকেট নিয়ে পুনরায় রোগী পরিষেবা চালু করা হবে।
পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, দু’বছর লাইসেন্স রিনিউ করেনি পুরসভা। ফলে গত ২ জুলাই মাতৃসদন বন্ধের নির্দেশ দিয়েছিল দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর। মাস দুয়েক সময় চেয়ে জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরকে চিঠিও করে পুরসভা। কিন্তু পুরসভার সেই আবেদন খারিজ করে দেয় জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর ও প্রশাসন। এনিয়ে প্রশাসন এবং স্বাস্থ্য দপ্তরের সঙ্গে বৈঠকও হয়। তারপরই প্রশাসনের এই নির্দেশ।
মাতৃসদনে রয়েছে ৩০ টি বেড। প্রসূতি ও নবজাতকদের চিকিত্সার জন্য এখানে ৪৫ জন স্থায়ী এবং অস্থায়ী কর্মী রয়েছেন। বালুরঘাট শহর এবং শহরের বাইরে থেকে বহু রোগী এখানে আনা হয়। মাতৃসদন বন্ধ থাকায় অনেকে ঘুরে যাচ্ছেন। বালুরঘাটের বাসিন্দা বিমল ঘোষ বলেন, অল্প খরচে এখানে পরিষেবা পেয়ে যেতাম। কিন্তু এখন বন্ধ।
পুরসভা কেন এতদিন লাইসেন্স রিনিউ করেনি, সেই প্রশ্ন তুলেছেন বিজেপির টাউন সভাপতি সমীর প্রসাদ দত্ত। তাঁর অভিযোগ, রোগীদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মাতৃসদন চলছিল এতদিন। রোগীরা পরিষেবা পাচ্ছেন না, এটা পুরসভার ব্যর্থতা। আরএসপি নেতা প্রলয় ঘোষও বলেছেন, তৃণমূলের বোর্ড কোনো কাজ করেনি। এরা শুধু মানুষের টাকা লুটেছে। দু’বছর ধরে পুরসভার চেয়ারম্যানরা কী করেছেন? পুরসভার ব্যর্থতার জেরে শহরের মানুষের ভোগান্তি হচ্ছে। নিজস্ব চিত্র