Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ফিটনেস হারানো এসবিএসটিসি বাস কীভাবে রাস্তায় নামল?

ফিটনেস হারানো এসবিএসটিসি বাস কীভাবে রাস্তায় নামল?
  • ১৩ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া: ফিটনেস সার্টিফিকেট নেই। বিমার মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়েছে বহু বছর আগে। তা সত্ত্বেও জেলার সমস্ত সরকারি বাসে নির্দ্বিধায় চলছে যাত্রী পরিবহণ। ঘটছে একের পর এক দুর্ঘটনাও। প্রাণ হাতে নিয়েই বাসে যাতায়াত করতে বাধ্য হচ্ছেন নিত্যযাত্রীরা। বেসরকারি বাসে যাত্রী পরিবহণের ক্ষেত্রে যেখানে কড়া নিয়ম মানা হয়, সরকারি বাসের ক্ষেত্রে তা কেন মানা হচ্ছে না, তা নিয়েই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। 
Advertisement
সোমবার সন্ধ্যায় পুরুলিয়া-বরাকর রাজ্য সড়কে চাপুড়ি এলাকায় কলকাতা থেকে পুরুলিয়া আসার সময় একটি সরকারি বাস(এসবিএসটিসি) দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। বাসের ধাক্কায় চাপা পড়ে প্রশান্ত গড়াই(৩৬) নামে এক সিভিক ভলান্টিয়ারের মৃত্যু হয়। তাঁর বাড়ি পাড়া থানার ভাগাবাঁধ গ্রামে। এছাড়াও রেলকর্মী দেবাশিস সরাগের(৪৫) মৃত্যু হয়। তিনি দক্ষিণ-পূর্ব রেলের আদ্রা ডিভিশনের কর্মরত ছিলেন। ঘটনায় বাসে থাকা ১১ জন যাত্রী গুরুতর জখম হন। পরিবহণ দপ্তর সূত্রের খবর, দুর্ঘটনার কবলে পড়া বাসটির ফিটনেসের মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়েছে সাত বছর আগেই। এমনকী বাসের কোনও বিমাও ছিল না। প্রশ্ন উঠছে, এই অবস্থায় এরকম একটি ‘বিপজ্জনক’ বাস গণপরিবহণের সঙ্গে যুক্ত ছিল কীভাবে? 
পরিবহণ দপ্তরের আধিকারিকরাই জানাচ্ছেন, এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই। কারণ এসবিএসটিসির অধিকাংশ বাসই এই অবস্থায় চলছে। অধিকাংশ সরকারি বাসেরই কোনও বিমা শংসাপত্র নেই। নেই ফিটনেস কিংবা দূষণ সংক্রান্ত সার্টিফিকেটও। অনেক বাস আবার রাস্তায় চলাচলের পক্ষে একেবারেই অযোগ্য। গাড়ির টায়ার থেকে শুরু করে অন্যান্য যন্ত্রাংশ নষ্ট হয়ে গিয়েছে বললেই চলে। তা সত্ত্বেও জোড়াতাপ্পি দিয়ে চলছে বাস। ঘটছে দুর্ঘটনা, প্রাণহানি। দুর্ঘটনাগ্রস্ত বাসের বিমার কাগজ কিংবা ফিটনেস সার্টিফিকেট না থাকায় যাত্রীদেরও বিমার টাকা পেতে চরম ভোগান্তি হচ্ছে। যাত্রীদের দাবি, সরকারের কাছে সাধারণ মানুষের কি প্রাণের কোনও মূল্য নেই? বেসরকারি বাসের ক্ষেত্রে যেখানে এত কড়াকড়ি, সেখানে সরকারি বাসের ক্ষেত্রে কি আলাদা নিয়ম? দক্ষিণবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণের এক কর্তার অবশ্য সাফ যুক্তি, জ্বালানির দাম বাড়লই বেসরকারি বাস নিজেদের চাহিদামতো ভাড়া বৃদ্ধি করছে। কিন্তু, সরকারি বাসের ক্ষেত্রে তা সম্ভব হচ্ছে না। অধিকাংশ সরকারি বাসই লোকসানে চলছে। সরকারি পরিবহণের সঙ্গে যুক্ত অস্থায়ী কর্মীদেরও ঠিকমতো কাজ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তাই হাজার হাজার টাকা ‘বাড়তি’ খরচ করে বিমা কিংবা কিংবা অন্যান্য কাগজপত্রের বিষয়টি বিশবাঁও জলেই রয়ে গিয়েছে।  
পুরুলিয়া বাস ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি প্রতিভারঞ্জন সেনগুপ্ত বলেন, সরকারি গাড়িগুলি দিনের পর দিন লোকসানে চলছে মানে এই না যে সেগুলি সঠিক কাগজপত্র ছাড়া রাস্তায় নামবে। যেহেতু যাত্রী নিরাপত্তার বিষয়টি এখানে সরাসরি যুক্ত, তাই এক্ষেত্রে সরকারের ভাবা প্রয়োজন। প্রশ্ন উঠছে, এভাবে আর কতদিন প্রাণ হাতে করে যাত্রীদের যাতায়াত করতে হবে? সবকিছু জানা সত্ত্বেও কেন কোনও ব্যবস্থা নিচ্ছে না পরিবহণ দপ্তর? 
সম্পর্কিত সংবাদ