Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ফরাক্কার ফিডার ক্যানেলে উদ্ধার মালদহের ইঞ্জিনিয়ারিং ছাত্রীর দেহ

ফরাক্কার ফিডার ক্যানেলে উদ্ধার মালদহের ইঞ্জিনিয়ারিং ছাত্রীর দেহ
  • ১৩ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
সংবাদদাতা, জঙ্গিপুর: প্রায় এক সপ্তাহ নিখোঁজ থাকার পর রবিবার দুপুরে ফরাক্কার ফিডার ক্যানেল থেকে মালদহের কলেজ ছাত্রীর মৃতদেহ উদ্ধার হল। পুলিস জানিয়েছে, মৃতার নাম দীপ্তি ভকত (২০)। তাঁর বাড়ি মালদহ জেলার হরিশ্চন্দ্রপুর থানার বারদুয়ারিতে। পুলিস মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জঙ্গিপুর মহকুমা হাসপাতালে মর্গে পাঠায়। তিনি ঝাড়খণ্ডের দুমকার একটি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের ছাত্রী ছিলেন। সেখানেই তিনি হস্টেলে থাকতেন বলে পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে। প্রায় সপ্তাহ খানেক আগে কলেজ যাওয়ার পথে তিনি রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হন। দিন তিনেক আগে দু’লক্ষ টাকা দিলে ওই ছাত্রীর সন্ধান দেওয়া হবে বলে অজানা ফোন নম্বর থেকে ছাত্রীর বাড়িতে ফোন যায়। মেসেজও আসে। ফলে ছাত্রীকে অপহরণ করা হয়ে থাকতে পারে বলে পরিবারের লোকজন অভিযোগ তুলছিলেন। এদিন তাঁর দেহ উদ্ধারের ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায়।
Advertisement
ফরাক্কা থানার এক পুলিস আধিকারিক বলেন, দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জঙ্গিপুর মহকুমা হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। কয়েকদিন আগেই ওই ছাত্রীর ব্যাগ, মোবাইল উদ্ধার হয়েছিল। পরিবারের লোকজন এদিন দেহ শনাক্তকরণ করেছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে এলে মৃত্যুর কারণ জানা যাবে। গোটা বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
জানা গিয়েছে, গত রবিবার মালদহের বাড়ি থেকে ঝাড়খণ্ডের উদ্দেশে রওনা দেন দীপ্তি। কিন্তু, দুমকায় তিনি পৌঁছননি। ওইদিন ফরাক্কা ব্যারেজ থেকে ছাত্রীর ব্যাগ উদ্ধার হয়। ব্যাগ থেকে মোবাইল, কলেজের কাগজপত্র সহ কিছু জিনিসপত্রও পাওয়া যায়। কিন্তু, ওই ছাত্রীর কোনও হদিশ মেলেনি। পরিবারের দাবি, হরিশ্চন্দ্রপুর রেলস্টেশন থেকে কুলিক এক্সপ্রেস ধরেছিলেন ওই ছাত্রী। বীরভূমের রামপুরহাট স্টেশনে নেমে সেখান থেকে দুমকা যাওয়ার ট্রেনে ওঠার কথা ছিল। ট্রেন যখন মালদহ স্টেশনের কাছে তখন শেষবারের মতো বাড়ির লোকজনের সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছিল। কিন্তু, তারপর আর তাঁর খোঁজ মেলেনি। তারপর থেকে দুশ্চিন্তায় ছিল ছাত্রীর পরিবার। 
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, গত বৃহস্পতিবার রাত ১১টা ও পরের দিন শুক্রবার দুপুর দেড়টা নাগাদ ছাত্রীর বাড়ির নম্বরে মুক্তিপণ চেয়ে এসএমএস আসে। দু’লক্ষ টাকা দিলে ওই ছাত্রীর হদিশ দেওয়া হবে বলে মেসেজ আসে। তেমনটাই দাবি করেছেন মৃত ছাত্রীর জেঠু গুরুচরণ ভকত। তিনি বলেন, কীভাবে ওর মৃত্যু হল বুঝতে পারছি না। তাছাড়া ওই মেসেজ, ফোনই বা কে করল। গোটা বিষয়টি আমাদের কাছে রহস্যজনক। পুলিস সঠিকভাবে তদন্ত করলেই সত্য উদ্ঘাটন হবে।
ছাত্রীর মোবাইলের কল ডিটেলস খতিয়ে দেখছে পুলিস। নিখোঁজ হওয়ার দিনই ওই ছাত্রী তাঁরই এক আত্মীয়ের সঙ্গে একাধিকবার ফোনে কথা বলেছে বলে পুলিস জানতে পেরেছে। তারপরই অজানা নম্বর থেকে পরপর দু’দিন হদিশ দেওয়ার নাম টাকা চাওয়ার ঘটনায় নতুন রহস্য দানা বেঁধেছে। ছাত্রীকে অপহরণ করে মুক্তিপণ না মেলায় খুন করে ফিডার ক্যানেলে ফেলে দেওয়া হল কি না, তা পুলিস তদন্ত করে দেখছে।
সম্পর্কিত সংবাদ