Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ফরাক্কায় নানা রঙের ১০৫টি বোমা উদ্ধার

ফরাক্কায় নানা রঙের ১০৫টি বোমা উদ্ধার
  • ১৫ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: বাক্সের মধ্যে রয়েছে লাল ও কালো রঙের চকচকে বস্তু। আপাত দৃষ্টিতে দেখে মনে হবে, শিশুদের খেলার বল। রাস্তায় যদি পড়ে থাকে, যে কেউ খেলার বল ভেবে হাতে তুলবে। না হলে ছুঁড়ে ফেলবে। আর তখনই ঘটবে বিস্ফোরণ। এমনই অভিনব নানা রঙের বল বোমা উদ্ধার ঘিরে মুর্শিদাবাদের ফরাক্কায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে। 
Advertisement
ফরাক্কার শঙ্করপুরের ছাই পুকুর লাগোয়া পাম্পহাউস থেকে গত সোমবার প্রচুর পরিমাণে বোমা উদ্ধার হয়। একটি টিনের বাক্সের মধ্যে সাজানো ছিল বিভিন্ন বোমা। সেখানে যেমন বল বোমা ছিল, তেমনই ছিল কৌটো বোমাও। মোট ১০৫ টি বোমা উদ্ধারের ঘটনায় বেশ চাঞ্চল্য ছড়ায়। বোমাগুলি সদ্য তৈরি হয়েছে বলে মত পুলিসের। মালদহ থেকে বম্ব ডিসপোজাল ইউনিট এসে বোমাগুলিকে অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে নিষ্ক্রিয় করে। জঙ্গিপুর জেলা পুলিস গোটা ঘটনাটি চেপে যাওয়ার চেষ্টা করে। তবে স্থানীয় বাসিন্দারা একসঙ্গে শতাধিক বোমা উদ্ধারের কথা জানতে পেরে বেশ আতঙ্কিত। 
সাধারণত নির্বাচনের সময় মুর্শিদাবাদ জেলাজুড়ে বোমা তৈরি শিল্পের আকার নেয়। ফাঁকা জমি, ফসলের খেত ও পরিত্যক্ত বাড়িতে দেদার বোমা বাঁধার কাজ হয়। কিন্তু, এই অসময়ে এত বোমা কেন বাঁধা হচ্ছিল, সে ব্যাপারে পুলিসও চিন্তিত। এই ঘটনায় পুলিস মামলা রুজু করে দু’জনকে পাকড়াও করেছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে জানার চেষ্টা চলছে, কোথা থেকে এই বোমা তৈরির মশলা ও বারুদ তারা এলাকায় এনেছিল। 
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ছাইপুকুর লাগোয়া ওই এলাকা দুষ্কৃতীদের মুক্তাঞ্চল। সেখানে অহরহ বোমা বাঁধা ও বোমা আনা নেওয়া হয়। রাজনৈতিক নেতাদের মদতেই এই কারবার চলে। তারাই এই বোমা তৈরি করেছিল বলে পুলিস মনে করছে। 
স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, পুলিস সবই জানে। নেতাদের সন্তুষ্ট করতে সেভাবে দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। মাঝে মধ্যেই বোমা উদ্ধার হলেও সেভাবে গ্রেপ্তারিও দেখা যায় না। জেলা পুলিসের এক আধিকারিক বলেন, বোমাগুলি নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। 
সম্পর্কিত সংবাদ