Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ফরাক্কায় নাবালিকাকে যৌন নির্যাতন, চাঞ্চল্য

ফরাক্কায় নাবালিকাকে যৌন নির্যাতন, চাঞ্চল্য
  • ৫ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, জঙ্গিপুর: বছর নয়ের নাবালিকাকে ধর্ষণ করে খুনের রেশ এখনও কাটেনি। ফের আবারও সংবাদ শিরোনামে ফরাক্কা। এবার চতুর্থ শ্রেণির এক ছাত্রীকে ঘরে ডেকে তার উপর যৌন নির্যাতন চালানোর অভিযোগ ওঠে ষাটোর্ধ্ব বৃদ্ধের বিরুদ্ধে। নাবালিকার চিৎকারে আশেপাশের লোকজন ছুটে আসেন। তাঁরাই নাবালিকাকে উদ্ধার করেন। ওই বৃদ্ধকে বেঁধে রেখে থানায় খবর দেন বাসিন্দারা। রবিবার দুপুরের ওই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়। পুলিস এসে তাকে উদ্ধার করে। পরে অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিস তাকে গ্রেপ্তার করে। ধৃতের নাম কালু মণ্ডল। পুলিস ঘটনার তদন্ত করেছে।
Advertisement
ফরাক্কার এসডিপিও আমিনুল ইসলাম খান বলেন, নাবালিকার মেডিক্যাল পরীক্ষা করা হয়েছে। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে জঙ্গিপুর মহকুমা আদালতে তোলা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
ফরাক্কার বিধায়ক মনিরুল ইসলাম বলেন, অত্যন্ত নিন্দনীয় ঘটনা। মানুষ এতো নীচে নেমে যাবে কল্পনাও করা যায় না। ঘটনার সঠিক তদন্ত করে পুলিস দোষীকে কঠোর শাস্তি দিক।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ওইদিন দুপুরে এলাকায় লোকজন তেমন কেউ ছিল না। দুপুরে খাওয়ার পর বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। নাবালিকা বাইরে একা খেলা করছিল। বৃদ্ধ নাবালিকাকে কিছুর লোভ দেখিয়ে ঘরে ডাকে। তারপর সে যৌন নির্যাতন করে বলে অভিযোগ। নাবালিকা চিৎকার শুরু করে। আশেপাশের লোকজন ছুটে আসেন। তাঁরা এসে ওই বৃদ্ধকে বিবস্ত্র অবস্থায় দেখতে পান। গ্রামবাসীরা খেপে গিয়ে ওই বৃদ্ধকে দড়ি দিয়ে ঘরের মধ্যেই বেঁধে রাখেন। এরপর থানায় খবর দেওয়া হয়। পুলিস এসে বৃদ্ধকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায় ও পরে গ্রেপ্তার করে। নাবালিকাকেও উদ্ধার করে নিয়ে যায় পুলিস। ফরাক্কা হাসপাতালে তার প্রাথমিক চিকিৎসা করানো হয়। সোমবার সকালে জঙ্গিপুর মহকুমা হাসপাতালে তার শারীরিক পরীক্ষা করা হয়।
স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, নাবালিকার একটি বাড়ির পরেই ওই বৃদ্ধ বাস করে। সে সম্পর্কে ওই নাবালিকার দাদু হয়। আগে সে ফরাক্কা রেলস্টেশনে মালবাহকের কাজ করত। বছর কয়েক হল কুলির কাজ ছেড়ে দেয়। তারপর থেকে বাড়িতেই থাকত। মদ, গাঁজা সহ বিভিন্ন নেশায় আসক্ত ছিল বলে স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন।
নাবালিকার বাবা পরিযায়ী শ্রমিক। তিনি বর্তমানে ভিনরাজ্যে রয়েছেন। ওইদিন দুপুরেই ফোনে এই খবর পান। ফোনে তিনি বলেন, মেয়ে বাইরে ছিল, ও ছোট বাচ্চা কিছু বোঝে না। দাদুর বয়সের একজন লোক শিশুর সঙ্গে এমন ব্যবহার করেছে ওকে কঠোর শাস্তি দিক পুলিস। দেশে এত কিছুর পরও ওদের এতটুকু ভয় হচ্ছে না।
যদিও তার বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে ধৃত বৃদ্ধ। এদিন ধৃতকে জঙ্গিপুর মহকুমা আদালতে তোলার সময়ে তাকে এবিষয়ে জানতে চাওয়া হলে বলে, ওকে নাতনির মতো ভালোবাসতাম। আমার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ সঠিক নয়।
প্রসঙ্গত, সপ্তাহ তিনেক আগেই ফরাক্কা থানারই বছর নয়ের এক নাবালিকাকে ধর্ষণ করে নৃশংসভাবে খুন করা হয়। ঘটনার প্রতিবাদে সরব হয় সাধারণ মানুষ ও বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। অপরাধীদের কঠোর শাস্তির দাবি করা হয়। পুলিস সেই ঘটনায় দুই অভিযুক্তের বিরুদ্ধে এদিন চার্জশিট জমা দিয়েছে।  যদিও সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই ফের নাবালিকার যৌন নির্যাতনের ঘটনায় অত্যন্ত উদ্বিগ্ন ও বেজায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। তাঁরা অভিযুক্তর কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
সম্পর্কিত সংবাদ