Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ফড়েরাজের হাত থেকে কৃষকদের বাঁচাতে ‘মুশকিল আসান’ প্রশাসন

ফড়েরাজের হাত থেকে কৃষকদের বাঁচাতে ‘মুশকিল আসান’ প্রশাসন
  • ৮ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: এলাকায় সবই ‘অ্যাডভার্স ল্যান্ড’। সেই জমির কোনও খতিয়ান নেই। ফলে অন্তত হাজারখানেক কৃষক ওইসব জমিতে ধান উৎপাদন করলেও কম দামে তা ফড়েদের কাছে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছিলেন। কারণ, রাজ্য সরকারকে ধান বিক্রি করতে গেলে পোর্টালে রেজিস্ট্রেশনের জন্য প্রয়োজন কৃষকবন্ধু সার্টিফিকেট, নতুবা জমির খতিয়ান। কোনওটাই না থাকায় চরম বঞ্চনার শিকার হচ্ছিলেন জলপাইগুড়ি সদর ব্লকের দক্ষিণ বেরুবাড়ির কয়েকটি গ্রামের কৃষকরা। সরকার ধানের কুইন্টাল পিছু ২৩০০টাকা দাম দিলেও ফড়েরা ১৭০০-১৮০০ টাকায় তা কৃষকদের থেকে কিনছিল। বিকল্প উপায় না থাকায় ওই দামেই ধান বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছিলেন চাষিরা। বিষয়টি জানতে পেরে শনিবার বিকেলে ওই এলাকায় যান সদরের বিডিও মিহির কর্মকার। সঙ্গে ছিলেন কৃষি ও খাদ্যদপ্তরের আধিকারিকরা। বিডিওকে নিজেদের দুরাবস্থা জানান কৃষকরা। ফড়েরাজ নিয়ে সরব হন তাঁরা। কীভাবে ওই এলাকার কৃষকরা সরকারকে ন্যায্যমূল্যে ধান বিক্রি করতে পারবেন, তা নিয়ে কথা বলেন প্রশাসনের উপর মহলে। অবশেষে সমাধান সূত্র বের হয়, কারা ওই এলাকার কৃষক, তা চিহ্নিত করবেন বিডিও। তারপর তিনি ওইসব কৃষককে শংসাপত্র দেবেন। সেই শংসাপত্রের ভিত্তিতে সরকারকে ধান বিক্রির পোর্টালে রেজিস্ট্রেশন করাতে পারবেন দক্ষিণ বেরুবাড়ির কাজলদিঘি, সাতকুরা, বড়শশী, চিলাহাটি, নাওতারি নবাবগঞ্জ সহ বিভিন্ন এলাকার কৃষকরা।
Advertisement
কৃষকদের সঙ্গে বৈঠকের পর বিডিও জানিয়েছেন, রবিবার থেকে ওই এলাকার কৃষকদের চিহ্নিত করে শংসাপত্র দেওয়ার কাজ শুরু হবে। এছাড়া তাঁদের যাতে দূরে ধান বিক্রি করতে যেতে না হয়, সেজন্য এলাকায় ভ্রাম্যমান ধানক্রয় কেন্দ্রের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। প্রশাসন এভাবে ‘মুশকিল আসান’ হয়ে পাশে দাঁড়ানোয় খুশি কৃষকরা। 
সম্পর্কিত সংবাদ