Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ফড়েরাজ রুখবে ব্লক ভিত্তিক ম্যাপ, ধান কেনা শুরু

ফড়েরাজ রুখবে ব্লক ভিত্তিক ম্যাপ, ধান কেনা শুরু
  • ২৮ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: নদীয়া জেলায় পুরোদমে শুরু হল ধান কেনার প্রক্রিয়া। এবছর বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে ম্যাপিংয়ের  মাধ্যমে ধান কেনা হবে। এরজন্য ব্লক ভিত্তিক ধান উৎপাদন ও ধান ক্রয়ের একটি ম্যাপ তৈরি করা হয়েছে। সেইমতো যে সব ব্লকে ধান উৎপাদন ও ধন ক্রয়ের পার্থক্য অনেক বেশি, সেই সমস্ত জায়গায় অতিরিক্ত এজেন্সি নিয়োগ করা হচ্ছে। গোটা প্রক্রিয়ার উদ্দেশ্য হল ধান ক্রয় নিয়ে ফড়েদের দাপট কমানো। যাতে চাষিরা সরাসরি সরকারকে ধান বিক্রি করতে পারেন। যা নিয়ে ইতিমধ্যেই জেলা প্রশাসন রাইস মিলের মালিক সহ বিভিন্ন দপ্তরকে নিয়ে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক করেছে। এমনটাই প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে। 
Advertisement
জেলা প্রশাসনের এক আধিকারিক জানান, ‘ধান কেনা নিয়ে কিছু ব্লকে এজেন্সির সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। সেখানে বিভিন্ন সঙ্ঘ ধান কিনবে। আমরা চাষিদের সরকারের কাছে ধান বিক্রি নিয়ে উৎসাহ প্রদান করছি।’
প্রশাসন সূত্রের খবর, কোন ব্লকে কত ধান উৎপাদন হয় এবং তার পরিপ্রেক্ষিতে কত ধান কেনা হয়, তার জেলাওয়াড়ি একটি ম্যাপ করা‌ হয়েছে। তাতে দেখা যাচ্ছে চাপড়া সহ বেশ কিছু ব্লকে ধানের উৎপাদন ও ধানের ক্রয়ের তারতম্য বেশি। অর্থাৎ, সংশ্লিষ্ট ব্লকগুলিতে চাষিরা যে হারে ধান উৎপাদন করছে, সেই অনুপাতে ধান ক্রয় হচ্ছে না। এর থেকে অনুমান করা যায়, ওইসব ব্লকে ফড়েদের দাপট বেশি। এবার সেই ম্যাপকেই ব্লু-প্রিন্ট ধরে নিয়ে ধান কেনার প্রক্রিয়া চলবে বলে জানা গিয়েছে। যদি দেখা যায় সেখানে বিগত বছরগুলির মতো এবছরও উৎপাদন ও ক্রয়ের অধিক তারতম্য তৈরি হচ্ছে, তাহলে তৎক্ষণাৎ ব্যবস্থা নেবে প্রশাসন। যদিও আগাম সেই সমস্ত ব্লকে ধান কেনার এজেন্সির সংখ্যা বাড়িয়েছে জেলা খাদ্যদপ্তর। যেমন, চাপড়া ব্লকেই নতুন করে একটি এজেন্সি বা সঙ্ঘকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ধান কেনার জন্য। গতবছর জেলায় কমবেশি একশোটি এজেন্সি ধান কিনেছিল। এবছর ১২২টি এজেন্সি ধান কিনবে। 
এবছর তিন লক্ষ মেট্রিক টনের বেশি ধান কেনার টার্গেট রয়েছে। কিন্তু ফড়েদের হাত থেকে চাষিদেরকে বাঁচানোই বড় চ্যালেঞ্জ প্রশাসনের। এই নিয়ে রাইস মিলের মালিকরাও এবার সরব হন। প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ জানিয়ে মান্ডিগুলিকে ফড়েমুক্ত করার দাবি রাখা হয়। কারণ, অতীতে দেখা গিয়েছে, চাষির ছদ্মবেশে ধান বিক্রি করে যায় ফড়েরা। গ্রামের প্রত্যন্ত এলাকায় ফড়েরা সময়ে-অসময়ে চাষিদের থেকে স্বল্পদামে ধান কিনে রাখে। যাকে অনেকেই ভাদুড়ে ধান বলে থাকে। রাইস মিল মালিকদের অভিযোগ, সেই ভাদুড়ে ধানের গুণগতমান খুব খারাপ হয়। পাশাপাশি, ফড়েরা চাষিদের থেকে ধান বিক্রি করার জন্য ব্যবহৃত কার্ডগুলোও হাতিয়ে নেয়। তারপর ধান কেনার মরশুম শুরু হলে নির্দিষ্ট মান্ডিতে চাষিদের নিয়ে যাওয়া হয় আঙুলের ছাপ দেওয়ানোর জন্য। অথচ, মুনাফার গোটা টাকাটাই ঢুকে ফড়েদের পকেটে। রাজ্য সরকারের তরফ থেকেই ফড়েদের নিয়ন্ত্রণ করতে একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সিসিটিভি ক্যামেরায় মুড়ে ফেলা হয়েছে মান্ডিগুলিকে। কিন্তু তারপরেও ফড়েদের দৌরাত্ম্য কমানো যাচ্ছে না গ্রামেগঞ্জে। জেলা পরিষদের খাদ্য কর্মাধ্যক্ষ মল্লিকা চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘পুরোদমে ধান কেনার কাজ শুরু হয়েছে। চাষিরা যাতে উপকৃত হন আমরা সেদিকেই নজর রাখছি।’ জেলার রাইস মিল অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক সুমন ঘোষ বলেন, ‘যে সমস্ত ব্লকে ধান উৎপাদন ও ক্রয়ের তারতম্য বেশি সেখানে বিশেষ করে নজর দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি রাজ্য সরকার ধান কেনার ব্যাপারে ফড়েদের দৌরাত্ম্য কমাতে নানা উদ্যোগ নিচ্ছে। কিন্তু ফড়েদের দৌরাত্ম্য যতটা কমিয়ে আনা যায়, ততই চাষিদের পক্ষে ভালো।’
সম্পর্কিত সংবাদ