Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ফের শিকার জিনাতের পাহাড় থেকে উদ্ধার ছাগলের দেহ

ফের শিকার জিনাতের পাহাড় থেকে উদ্ধার ছাগলের দেহ
  • ২৭ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
পিনাকী ধোলে, বান্দোয়ান: নিজের মেজাজেই রয়েছে বাঘিনি জিনাত। ফের শিকার করে তা বুঝিয়ে দিল সে। বৃহস্পতিবার ভাঁড়ারিয়া পাহাড়ের একেবারে চূড়া থেকে ফের উদ্ধার হল দু’টি ছাগলের মৃতদেহ। বনদপ্তরের আধিকারিকদের দাবি, একটি ছাগল অর্ধেক সাবাড় করে দিয়েছিল জিনাত। মৃত ছাগলের শরীর একেবারে গরম ছিল। অর্থাৎ, শিকার যে সে আজই করেছে, তা কার্যত পরিষ্কার আধিকারিকদের কাছে।
Advertisement
জিনাতকে ধরতে অবশ্য ‘থালি’ সাজিয়ে রাখা হয়েছে ভাঁড়ারিয়ার জঙ্গলে। হৃষ্টপুষ্ট ছাগল, শুয়োর থেকে শুরু করে মোষ-এলাহি আয়োজন। বাঘিনিকে ‘টোপ’ গেলাতে বনদপ্তরের আধিকারিকরা নিজেরা নাওয়াখাওয়া ভুলেছেন। হাড়হিম করা ঠান্ডায় জঙ্গলেই রাত কাটাতে হচ্ছে তাঁদের। তবুও পাতা ফাঁদে পা না দিয়ে গত পাঁচদিন ধরে বনদপ্তরের আধিকারিকদের রীতিমতো নাকানিচোবানি খাওয়াচ্ছে ‘রায়বাঘিনি’।
বনদপ্তর সূত্রের খবর, শনিবার দুপুরেই ভাঁড়ারিয়া পাহাড়ের একেবারে উপর থেকে একটি আধ খাওয়া ছাগল ও একটি মৃত ছাগলের দেহ উদ্ধার করেন বনকর্মীরা। প্রথমে মনে করা হচ্ছিল, গত মঙ্গলবার রাহামদা গ্রামের যে ছাগলগুলি নিখোঁজ ছিল, সম্ভবত সেগুলিই। যদিও ছাগলের দেহ গরম দেখে ভুল ভাঙে আধিকারিকদের। একেবারে টাটকা শিকার করে খেয়েছে জিনাত। কংসাবতী দক্ষিণের ডিএফও পূরবী মাহাত বলেন, ‘রাহামদার অদূরেই কেন্দাপাড়ায় এদিন বহু ছাগল নিখোঁজ রয়েছে বলে খবর পেয়েছি। গোটা ঘটনার তদন্ত করে দেখা হবে। উদ্ধার হওয়া মৃত ছাগলের দেহের ময়নাতদন্ত করা হবে।’ 
বনদপ্তরের আধিকারিকদের দাবি, ভাঁড়ারিয়ার আশেপাশের গ্রামগুলি থেকে অন্তত ২০-২৫টা ছাগল নিখোঁজ রয়েছে। সম্ভবত সেগুলি জিনাতের জিম্মাতেই রয়েছে। অর্থাৎ, আগামী কয়েকদিনের খাবার তার মজুত রয়েছে। সেই কারণেই গত পাঁচদিন ধরে সে একই তল্লাটে রয়েছে। ছেড়ে যাওয়ার নামই নিচ্ছে না। এক আধিকারিক বলেন, এইসব গ্রামের মানুষের প্রধান জীবিকা বলতে পশু পালন। প্রতিটি পরিবারের অন্তত ২০ থেকে ৩০টি করে ছাগল রয়েছে। গ্রামে গেলেই ছাগলের অস্তিত্ব টের পাওয়া যায়। ছাগলের গন্ধ নাকে গিয়েছে জিনাতেরও। তাই সে বুঝেছে, থাকার জন্য আদর্শ জায়গা ভাঁড়ারিয়াই। তাছাড়া, পাহাড়ে রয়েছে গুহা। রয়েছে জলাশয়। এমন আদর্শ জায়গা ছেড়ে যেতে চাইবেই বা কেন? 
তাই বাঘিনিকে ধরতে তার সীমানা ছোট করতে চাইছে বনদপ্তর। অর্থাৎ, পাহাড়ের চারিদিক ঘেরা হচ্ছে জাল দিয়ে। প্রায় তিন কিলোমিটার জাল লাগানো হয়েছে ইতিমধ্যেই। বনদপ্তরের কর্তাদের দাবি, সীমানা ছোট হলে আর নতুন করে শিকার করতে পারবে না জিনাত। তখন খিদের চোটেই টোপ গিলতে বাধ্য হবে। যদিও, এতদিন ধরে বনদপ্তরের তরফে যা যা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, সবই ব্যর্থ করে দিয়েছে জিনাত। তাই জাল দিয়ে ঘেরার পরিকল্পনা আদৌ ধোপে টেকে কি না, সেটাই এখন দেখার। 
এদিকে, জিনাতের জন্য বাসিন্দাদের জঙ্গলে যেতে নিষেধ করেছে প্রশাসন। বাসিন্দাদের দাবি, ওই জঙ্গলই তাঁদের রুটি রুজির একমাত্র সংস্থান। বহু মানুষের সংসার চলে জঙ্গল থেকে কাঠ পাতা সংগ্রহ করেই, যা একপ্রকার বন্ধই হয়ে গিয়েছে। বাসিন্দাদের দাবি, জঙ্গলের শালপাতা তুলে, কাঠ বিক্রি করেই সংসার চলে অধিকাংশের। রাহামদার আজনা মুর্মু, অনিল টুডু বলেন, এভাবে কতদিন আমাদের বন্দি করে রাখবে বনদপ্তর? সংসার চলবে কী করে? বাহামণি মুর্মু বলেন, এতদিন হয়ে গেল বাঘ ধরতে পারছে না। ছাগল মেরেছে, এবার তো মানুষ মারবে।
সম্পর্কিত সংবাদ