বাপ্পাদিত্য রায়চৌধুরী, কলকাতা: জিনিসপত্রের দাম বাড়ছে হু হু করে। চাল, ডাল থেকে শুরু করে ওষুধ, নিত্যপণ্য বা ফ্ল্যাট— মূল্যবৃদ্ধিতে জেরবার হয়ে যাচ্ছে সাধারণ মানুষ। চাকরিজীবীদের জন্য অবশ্য মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে লড়াই করতে ডিএ বা মহার্ঘ ভাতার ব্যবস্থা আছে। ডিএ কত বাড়বে, তা নির্ভর করে কনজিউমার প্রাইস ইনডেক্স (সিপিআই) বা ক্রেতা মূল্যসূচকের উপর। অভিযোগ, গত ডিসেম্বর মাসের সেই সূচক এখনও প্রকাশ করেনি কেন্দ্র। এই সূচকের উপর নির্ভর করে বিভিন্ন বেসরকারি ও রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থায় মহার্ঘ ভাতা ঘোষিত হয়। আর যেহেতু তা ঘোষণা হয়নি, ফলে কোটি কোটি চাকরিজীবীর বর্ধিত হারে ডিএ পাওয়া নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।
Advertisement
জিনিসপত্রের দাম কতটা বাড়ছে? এর উত্তর খুঁজতে কয়েকটি পণ্যকে বাছাই করে সরকার। সেগুলির দাম একটি নির্দিষ্ট সময়ে কত ছিল এবং এখন কতটা বেড়েছে—তার হিসেব কষে সূচক প্রকাশ করা হয়। সেই পণ্যের তালিকায় চাল-ডাল-আনাজের পাশাপাশি পান, সুপারি, তামাকজাত দ্রব্য থেকে শুরু করে জামাকাপড়, জুতো বা গাড়ি-বাড়িও থাকে। খুচরো বাজারদরের এই সূচকই সিপিআই। যাঁরা শিল্প সংস্থায় কাজ করেন, তাঁদের জন্য অবশ্য আলাদা সূচক—‘ইন্ডাস্ট্রিয়াল ওয়ার্কার্স সিপিআই’। শ্রমমন্ত্রকের আওতায় থাকা লেবার ব্যুরো এই ‘সিপিআই-আইডব্লু’ প্রকাশ করে প্রতি মাসে। ১৯৬০ সালে সূচক নির্ধারণের এই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। শেষবার তার মাপকাঠি বদল হয় ২০১৬ সালে। জিনিসপত্রের দামকে ‘১০০’ ধরে সূচকটি তৈরি হয়। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে সেই সূচক ছিল ১৩৮.৯। গত নভেম্বরে তা হয় ১৪৪.৫। অর্থাৎ, যে জিনিসের দাম ২০১৬’তে ১০০ টাকা ছিল, মূল্যবৃদ্ধির জেরে তা বেড়ে ১৪৪ টাকা ৫০ পয়সা হয়েছে। প্রতি তিন মাস অন্তর মাসিক সূচকের গড় করে, সেই মতো ডিএ দেওয়ার ব্যবস্থা আছে শিল্প ক্ষেত্রে। সংশ্লিষ্ট মহল জানাচ্ছে, বেসরকারি সংস্থার একাংশ কিংবা রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের অফিসার ও কর্মীরাই শুধু নয়, এলআইসিআই, রাষ্ট্রায়ত্ত সাধারণ বিমা সংস্থাগুলি, এমনকী রিজার্ভ ব্যাঙ্ককেও এই সূচকের উপর নির্ভর করতে হয়। ফলে এর উপর নির্ভর করা মানুষের সংখ্যা কোটির উপর বললে অত্যুক্তি হয় না। ডিসেম্বর মাসের সূচকের উপর নির্ভর করে চলতি মাসের বেতন ও পেনশন হওয়ার কথা। কিন্তু তা এখনও ধামাচাপা দিয়ে রেখেছে কেন্দ্রীয় সরকার।
বিষয়টি নিয়ে তোপ দেগেছেন ব্যাঙ্ক কর্মচারীদের সংগঠন অল ইন্ডিয়া ব্যাঙ্ক এমপ্লয়িজ অ্যাসোসিয়েশনের সর্বভারতীয় সভাপতি রাজেন নাগর। তাঁর কথায়, ৬৪ বছর ধরে যে সূচক নিয়মিত প্রকাশিত হচ্ছিল, তাতে এখন ঢিলেমি কেন? এর পিছনে কেন্দ্রের কোনও অভিসন্ধি আছে কি না, সেই আশঙ্কাও এড়ানো যাচ্ছে না। অন্য একটি সূত্র থেকে অবশ্য এব্যাপারে শ্রমমন্ত্রকের ‘স্বাধীনতা’ নিয়েই প্রশ্ন তোলা হয়েছে। অর্থমন্ত্রক হয়ে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর যদি সবুজ সঙ্কেত দেয়, তাহলেই প্রকাশিত হতে পারে সিপিআই। তাতেই হয়তো দেরি হচ্ছে। কেন্দ্রের আর্থিক অবস্থা মোটেই ভালো নয়। তাই হয়তো বর্ধিত ডিএ থেকে ‘বঞ্চনার’ এই ছক, আশঙ্কা অনেকেরই।
বিষয়টি নিয়ে তোপ দেগেছেন ব্যাঙ্ক কর্মচারীদের সংগঠন অল ইন্ডিয়া ব্যাঙ্ক এমপ্লয়িজ অ্যাসোসিয়েশনের সর্বভারতীয় সভাপতি রাজেন নাগর। তাঁর কথায়, ৬৪ বছর ধরে যে সূচক নিয়মিত প্রকাশিত হচ্ছিল, তাতে এখন ঢিলেমি কেন? এর পিছনে কেন্দ্রের কোনও অভিসন্ধি আছে কি না, সেই আশঙ্কাও এড়ানো যাচ্ছে না। অন্য একটি সূত্র থেকে অবশ্য এব্যাপারে শ্রমমন্ত্রকের ‘স্বাধীনতা’ নিয়েই প্রশ্ন তোলা হয়েছে। অর্থমন্ত্রক হয়ে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর যদি সবুজ সঙ্কেত দেয়, তাহলেই প্রকাশিত হতে পারে সিপিআই। তাতেই হয়তো দেরি হচ্ছে। কেন্দ্রের আর্থিক অবস্থা মোটেই ভালো নয়। তাই হয়তো বর্ধিত ডিএ থেকে ‘বঞ্চনার’ এই ছক, আশঙ্কা অনেকেরই।



