Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ফের চোরের হানা রাজগ্রামে, সন্ধে হলেই গৃহবন্দি আতঙ্কিত বাসিন্দারা

ফের চোরের হানা রাজগ্রামে, সন্ধে হলেই গৃহবন্দি আতঙ্কিত বাসিন্দারা
  • ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
সংবাদদাতা, রামপুরহাট: মুরারইয়ে ফের চোরের উপদ্রব। এবার রাজগ্রাম বাজার থেকে দুশো মিটার দূরে আম্ভুয়া এলাকায় একটি বাড়ির গ্রিলের তালা কেটে চুরির চেষ্টা করে দুষ্কৃতীরা। বাড়ির মালিক পেশায় ইলেকট্রিক সামগ্রীর ব্যবসায়ী রিঙ্কু ইসলাম বলেন, গ্রিলের দরজার বাইরে ও ভিতর মিলিয়ে দুটো তালা মারা ছিল। সকালে উঠে দেখি বাইরের তালা কাটা। পরে প্রতিবেশীদের থেকে জানতে পারি, রাতে তাঁরা কয়েকটি মোটর বাইকের আওয়াজ পেয়েছিলেন। রিঙ্কু বলেন, যা অবস্থা তাতে দেখছি সিসি ক্যামেরা লাগাতে হবে। গ্রামের বাসিন্দারা বলেন, একের পর এক চুরি, ডাকাতি হচ্ছে, কী করছে পুলিস। 
Advertisement
পরপর কয়েকটি চুরি আর ডাকাতির ঘটনায় তটস্থ হয়ে রয়েছেন বাসিন্দারা। বাড়ি ছেড়ে কোথাও যেতেও ভয় পাচ্ছেন। সন্ধ্যা নামার আগেই বন্ধ হয়ে যাচ্ছে সমস্ত দোকানপাট। গত একমাসের মধ্যে ঝাড়খণ্ড সীমানা লাগোয়া মুরারইয়ে বেশ কয়েকটি চুরি, ডাকাতি হয়েছে। গত মঙ্গলবার মুরারইয়ের বাঁশলৈ বাজারে একই রাতে দু’টি সোনার দোকানের শাটার ও ভল্ট কেটে কয়েক লক্ষ টাকা সোনা, রূপোর গয়না ও নগদ হাতিয়ে চম্পট দেয় দুষ্কৃতীরা। সেই ঘটনার সিসি ক্যামেরার ফুটেজ প্রকাশ্যে এসেছে। এরই মধ্যে শনিবার রাতে রাজগ্রাম বাজারে অস্ত্র হাতে আট দুষ্কৃতীর দাপাদাপি এলাকার মানুষকে আরও আতঙ্কিত করে তুলেছে। ওই দুষ্কৃতীরা একটি দোকানের শাটার কেটে চুরির চেষ্টা করে। বাধা দিতে এলে তারা নৈশ প্রহরীর মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে মারধর করে। বাজারের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা দুই সিভিক ভলান্টিয়ারকে তাড়া করে। সিসি ক্যামেরার সেই ফুটেজ এখন সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল। 
মানুষ সবচেয়ে বেশি চিন্তিত তিনদিন পরেও দৃষ্কৃতীরা ধরা না পড়ায়। প্রশ্নের মুখে পুলিস। যদিও সোমবার রাত থেকে এলাকায় সিভিক ভলান্টিয়ারের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। ঝাড়খণ্ড সীমানাগুলিতেও কড়া নজরদারি শুরু করেছে পুলিস। 
রাজগ্রাম বাজারের স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা বলেন, কখন যে ডাকাতি হয় সেই আতঙ্কে কাটাচ্ছি প্রতিনিয়ত। সন্ধ্যা নামার আগেই দোকানপাট বন্ধ করে দিতে হচ্ছে। আগে সন্ধ্যার সময়ে লাগোয়া গ্রামের অনেকে বাজারে আসতেন। তাঁরাও ভয়ে আসা বন্ধ করে দিয়েছেন। ক্রমেই আতঙ্কের অপর নাম হয়ে উঠছে রাজগ্রাম।  ব্যবসায়ী অচিন্ত্য ঘোষ বলেন, চুরি, ডাকাতির পাশাপাশি অস্ত্র হাতে যেভাবে দুষ্কৃতীরা দাপিয়ে বেড়াচ্ছে তাতে আমরা ভীত। জানি না কবে এই আতঙ্ক থেকে মুক্তি পাব। গৃহবধূ রীনা দত্ত বলেন, সূর্য ডুবলেই ভয় লাগছে। কোথাও বেড়াতে যাওয়া তো দূর, বাড়ির বাইরে বেরতেই ভয় লাগছে। প্রচণ্ড আতঙ্কে রয়েছি। ছ’টার পর থেকে রাস্তায় লোক কমে যাচ্ছে। এক অদ্ভূত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। যদিও পুলিস জানিয়েছে, রাতের দিকে রাজগ্রাম বাজারে সিভিক ভলান্টিয়ারের সংখ্যা বাড়িয়ে দশ করা হয়েছে। এছাড়া পুলিসের গাড়ি টহল দিচ্ছে। দুলান্দি, পাথরকাঁটা, কনকপুর এলাকায় ঝাড়খণ্ডের সঙ্গে যোগাযোগকারী রাস্তাতেও নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে দুষ্কৃতীদের চিহ্নিত করার কাজ চলছে।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ