Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

দুর্গাপুরের পারুলিয়ায় পলাশবনে ফটোশ্যুটের হিড়িক

দুর্গাপুরের পারুলিয়ায় পলাশবনে ফটোশ্যুটের হিড়িক
  • ১৪ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, দুর্গাপুর: পলাশভূমি পুরুলিয়ার ছবি যেন উঠে এসেছে দুর্গাপুরের পারুলিয়ায়। চারদিকে কয়েকশো পলাশগাছ। আর সেই সমস্ত গাছভর্তি টকটকে লাল পলাশফুলের চোখ ধাঁধানো সৌন্দর্য। বনের মাথায় আগুনরঙা পলাশের এই ছবিই জানান দিচ্ছে, ঋতুরাজ বসন্ত এসে গিয়েছে। আর এই নিসর্গশোভার মাঝেই ভিড় করছেন মডেল ও ফটোগ্রাফাররা। বসন্তের সাজে সুসজ্জিত কিশোরী, মহিলারা পলাশবনে ফটোশ্যুটে অংশ নিচ্ছেন।

Advertisement

দুর্গাপুর পুরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের পারুলিয়ায় বিক্ষিপ্তভাবে বহু পলাশবন হয়েছে। এলাকার মানুষ পলাশের সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে পলাশগাছ নিয়ে সচেতন হয়েছেন। ফলে এলাকার পলাশবন আরও বেড়েছে। কয়েকবছর ধরে শহর থেকে গ্রামবাসীরা বসন্তের সাজে ওই পলাশবনে এসে ফটোশ্যুট করছেন।
দুর্গাপুরের ফটোগ্রাফার জয়দেব সাহা বলেন, এখন প্রতিটি ঋতুতে ও পুজোপার্বণে মানুষ ফটোশ্যুট করছেন। যা আগে চোখে পড়ত না। শরৎকালের পাশাপাশি বসন্তকালেও ফটোশ্যুটের হিড়িক পড়েছে। আমিও কয়েকবছর ধরে বসন্তের ফটোশ্যুটের জন্য পারুলিয়ার পলাশবনকে সেরার তালিকায় রেখেছি। পলাশফুলের এত অপরূপ দৃশ্য আগে কেবল পুরুলিয়াতেই দেখা যেত।
দুর্গাপুরের কিশোরী মেঘবীথি হালদার বলেন, আমি প্রতিবছর বাবার সঙ্গে এই পলাশবনে ফটোশ্যুটের জন্য আসি। বাবা ফটোগ্রাফি করতে ভালোবাসেন। আর আমি বসন্তের সাজে পলাশবনের মাঝে ছবি তুলতে ভালোবাসি। মেঘবীথির বাবা প্রদীপ হালদার বলেন, পারুলিয়ার পলাশবন যেন একটুকরো পুরুলিয়া হয়ে উঠেছে। এখানে এসে খুব ভালো লাগল।
দুর্গাপুরের মডেল সুচিত্রা সরকার বলেন, দুর্গাপুর শহর ও আশপাশের গ্রামে বিক্ষিপ্তভাবে একটা-দুটো পলাশগাছ দেখা যায়। তবে পারুলিয়ায় এলে মনে হয়, যেন পুরুলিয়ায় চলে এসেছি।
পারুলিয়ার বাসিন্দা পেশায় আইনজীবী মনোজ চন্দ বলেন, দুর্গাপুরের পশ্চিমদিক ছোটনাগপুর মালভূমির পাদদেশের কাছে। এখানকার অনুর্বর ও রুক্ষ লালমাটি পলাশগাছের জন্য অনুকূল। এখন বাইরে থেকে বহু মানুষ এখানে ফটোশ্যুট করতে আসেন। গাছের যাতে কেউ ক্ষতি না করে, সেদিকে আমরা নজর রাখি। বিজরা হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক কাজী নিজামুদ্দিন পলাশ বাঁচাও কমিটি গড়েছেন। তিনি শহরের বিভিন্ন এলাকায় কয়েকবছর ধরে পলাশবন গড়ে তুলছেন। প্রকৃতির সৌন্দর্যায়নে নিজামুদ্দিনবাবুর এই মহৎ উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাই।-নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ