নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: নির্বাচন কমিশন চূড়ান্ত ভোটার তালিকা (প্রথম পর্ব) প্রকাশ করেছে শনিবার দুপুরে। আর তারপর থেকে ভয়াবহ চাপের মুখে পড়েছেন রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের বিএলওরা। রাত ফুরোতেই তাঁদের বাড়ির সামনে জড়ো হচ্ছেন শয়ে শয়ে বিচারাধীন বা নাম বাদ যাওয়া ভোটার। ফোন বেজেই চলেছে সারাক্ষণ। বিএলওরা বিক্ষুব্ধ ভোটারদের কটূক্তি ও হুমকির মুখে পড়তে হচ্ছে অনেককে। শুধু তাই নয়, বিক্ষোভ ও হুমকিতে বিএলওদের পরিবারের সদস্যরাও তীব্র মানসিক অবসাদে ভুগছেন। অনেক ক্ষেত্রে খোদ বিএলওর নামই তালিকা থেকে বাদ পড়েছে বা বিচারাধীন হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। এই অবস্থায় আগামী দিনে বিক্ষুব্ধ ভোটারদের হামলার শিকার হতে পারেন ভেভে ভয়ে কাঁটা হয়ে রয়েছেন বিএলওর দায়িত্ব
পালন করা স্কুলশিক্ষক সহ অন্যান্য সরকারি কর্মীরা।
রবিবার নোয়াপাড়ার এক মহিলা বিএলও ইআরও-কে মেসেজ করে তাঁর অসহায়তার কথা জানিয়েছেন। ওই বিএলও এসএসসি (গ্রুপ -সি) পরীক্ষার পরিদর্শক ছিলেন। তাই এদিন সকালে বাড়ি থেকে বেরিয়ে পরীক্ষাকেন্দ্রে চলে যেতে হয়। কিন্তু সকাল থেকে প্রচুর মানুষ তাঁর বাড়িতে হাজির হয়। তাঁকে না পেয়ে তাঁর ৭১ বছর বয়সি মাকেও তারা কটূক্তি করে বলে অভিযোগ। তাতে অসুস্থ বৃদ্ধা শারীরিক ও মানসিকভাবে অবসাদগ্রস্ত হয়ে পড়েন। ওই শিক্ষিকা ইআরও-কে বলেছেন, ‘শতাধিক লোক আমার বাড়িতে এসে রাগ দেখালে তা নিয়ন্ত্রণ করা খুব মুশকিল। আমার বৃদ্ধ মা খুব অসুস্থ অনুভব করছেন।’ কামারহাটির একটি বুথে খসড়া তালিকায় ৫৯১ জনের নাম ছিল। তার মধ্যে ২৫৬ জনকে শুনানিতে ডাকা হয়। চূড়ান্ত তালিকায় মোট ৮৩ জনের নাম বিচারাধীন বলা হয়েছে। ওই বিএলও বলেন, ‘দিন-রাত ফোন আসছে। বাড়িতে ভোটারদের ভিড়। সবাই বলছে, তোমাকে সব তথ্য দিয়েছি। নিশ্চয়ই তুমি কোনো ভুল করেছ। না হলে আমাদের নাম কেন বিচারাধীন হবে? আমরা দিল্লির কমিশন বুঝি না। তোমাকে কাগজ দিয়েছি। নাম তোলার দায়িত্ব তোমার। চরম মানসিক অবসাদে রয়েছি। আমার এক বন্ধু বিএলওর এই চাপ সহ্য করতে না পেরে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছে।
জানি না, কত দিন এই চাপ সহ্য করতে পারব!’
বনগাঁ দক্ষিণ বিধানসভার চাঁদপাড়ার ১৭২ নম্বর পার্টের বাসিন্দা দীপাঞ্জন বিশ্বাস। তিনি পাশের ১৩২ নম্বর পার্টের বিএলও। শনিবার ভোটার তালিকা প্রকাশের পর তিনি দেখেন, তাঁর নিজের নামই ‘ডিলিটেড’। দীপাঞ্জনবাবু বলেন, ‘আমি একজন বিএলও। ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় ঠাকুরদা, বাবা ও মায়ের নাম রয়েছে। কিন্তু বাবার নামের বানান ভুলের কারণে লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির শুনানিতে ডাকা হয়েছিল। শনিবার তালিকা প্রকাশের পর দেখি, ছোটো ভাই সহ পরিবারের সবার নাম রয়েছে। শুধু আমার নাম নেই। আমারই যেখানে এই অবস্থা, অন্য ভোটারদের কী বোঝাব?’