নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: জানুয়ারি মাসের পর আবার। মহারাষ্ট্রের জোট সমীকরণের রহস্য বাড়ছে। উদ্ধব থ্যাকারের শিবসেনার মুখপত্র ‘সামনা’ পত্রিকায় পুনরায় মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশের প্রশংসা। রাজ্য এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের থাকে একজন অথবা দুজন করে ব্যক্তিগত সচিব, সহায়ক কিংবা অফিসার্স অন স্পেশাল ডিউটি। রাজ্যস্তরে যাঁদের ওই মন্ত্রীরাই নিয়োগ করেন কিংবা নাম মনোনীত করে মুখ্যমন্ত্রীর অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়। সোমবার বিজেপি জোট সরকারের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশ জানান, তিনি ১২৫ জন এরকম সহায়ক ও সচিবের নাম প্রস্তাব হিসেবে পেয়েছিলেন। কিন্তু ১৬ জনের নাম ছেঁটে দিয়েছেন। কারণ এই ১৬ জনের বিরুদ্ধে নানাবিধ অভিযোগ রয়েছে। তাঁদের সরকারের কাজে রাখা যাবে না। এই সিদ্ধান্তকেই সাধুবাদ জানিয়ে সামনায় বলা হয়েছে মুখ্যমন্ত্রী আবার খুব ভালো সিদ্ধান্ত নিলেন। সরকার চালাতে হলে এরকমই কঠোর এবং স্বচ্ছ সিদ্ধান্ত নিতে হবে। বস্তুত শিবসেনার এই প্রশংসার অন্যতম প্রধান কারণ হল, যে ১৬টি নাম ফড়নবিশ বাদ দিয়েছেন, তার মধ্যে ১২টি নামই প্রস্তাব করেছেন একনাথ সিন্ধের দলের মন্ত্রীরা অথবা দল।
Advertisement
ইতিমধ্যেই জোটসঙ্গী একনাথ সিন্ধের সঙ্গে বিজেপির চরম দূরত্ব তৈরি হয়েছে। একনাথ সিন্ধে মাঝেমধ্যেই সাতারায় নিজের গ্রামের বাড়িতে চলে যাচ্ছেন এবং সেখানে আম দরবার বসাচ্ছেন। আর এই দূরত্বের সুযোগ নিতে উদ্ধব থ্যাকারের তৎপর। সিন্ধের ক্ষোভের অন্যতম কারণ বিজেপি ক্ষমতাসীন হওয়ার পর উদ্ধব থ্যাকারের দল সম্পর্কে নরম মনোভাব নিয়েছেন। সিন্ধের সন্দেহ, বিজেপি উদ্ধব থ্যাকারেকে আবার জোটে নিতে তৎপর। বস্তুত মহারাষ্ট্রে এই চর্চাই তুঙ্গে। কারণ বিজেপি ঠিক করেছে, একা উদ্ধব থ্যাকারে নয়, শারদ পাওয়ারের দলকেও ইন্ডিয়া জোট থেকে বের করে বিজেপি জোটে নিয়ে আসা যায়। শারদ পাওয়ারের কাছে বিজেপি দূত পাঠিয়েছে বলেও শোনা যাচ্ছে। আসলে বিজেপির প্রধান লক্ষ্য কংগ্রেসকে মহারাষ্ট্রে একা করে দেওয়া। উদ্ধবও বিজেপি সম্পর্কে কোনওরকম কঠোর অবস্থান নিচ্ছেন না। সবমিলিয়ে মহারাষ্ট্রের রাজনৈতিক সমীকরণ এখনও নাটকীয় মোড় নেওয়ার অপেক্ষায়। ফাইল চিত্র



