সুখী গৃহকোণ প্রতিটি মানুষের, প্রতিটি পরিবারের স্বপ্ন। সেই মানুষই সুখী—যার মাথায় ঋণের বোঝা নেই, যাকে প্রবাসজীবনের যন্ত্রণা সইতে হয় না, দিনান্তে অন্তত মোটা ভাত-কাপড়ের দুশ্চিন্তামুক্ত যে। এই আকাঙ্ক্ষার ভিতরে স্বাস্থ্যকর গৃহের কথাটি যে অনুক্ত, তা বলাই বাহুল্য। প্রতিটি নাগরিকের ‘রোটি কাপড়া আউর মকানের’ দায়িত্ব যে রাষ্ট্র অভিভাবকের মতোই গ্রহণ করে সেটিই ‘কল্যাণকামী রাষ্ট্র’। বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্র ভারত নিজেকে কল্যাণকামী রাষ্ট্র বলে দাবি করলেও, দুঃখের বিষয় হল, নাগরিকের প্রতি দায়িত্বপালনে এখনও বহুলাংশে পিছিয়ে রয়েছে। খাদ্যের অধিকারকে আইনি স্বীকৃতি দেওয়ার পরেও ক্ষুধার বিরুদ্ধে লড়াই জারি রয়েছে কোটি কোটি ভারতবাসীর। তাই বিশ্ব ক্ষুধা সূচক (জিএইচআই) এবং মানব উন্নয়ন সূচক (এইচডিআই)-এ আমাদের ছবিটি অত্যন্ত লজ্জাজনক এখনও। সেখানে গৃহসমস্যা কত মারাত্মক তা অনুমান করা শক্ত নয়। একাধিক বেসরকারি রিপোর্টের দাবি, গৃহসমস্যাজর্জরিত ২০টি দেশের পংক্তিতে রয়েছে ভারত। বস্তিবাসীর সংখ্যায় ভারতের তুলনা কই? ইউএন-হ্যাবিট্যাট ২০২১ রিপোর্ট অনুসারে, ২০২০ সালেও ভারতে বস্তিবাসীর সংখ্যা ২৩ কোটি ৬০ লক্ষ বা মোট শহরবাসীর অর্ধেক! ইউরোপের একাধিক বড় দেশের মোট জনসংখ্যারও উপরে ভারতের বস্তিবাসীর সংখ্যা।
Advertisement
স্বাধীনতার অষ্টম দশকের শেষার্ধ্বে পৌঁছেও গৃহসমস্যাটি যখন এতটা করুণ, তখন রাষ্ট্রের ভরসায় থাকবেন কোন সচ্ছল নাগরিক? অনেক কৃচ্ছ্রসাধন করে, এমনকী, জীবনের সহায় সম্বল ঘুচিয়েও নিম্নবিত্ত, মধ্যবিত্ত শ্রেণির লক্ষ লক্ষ মানুষ নিজের বাড়ি তৈরির চেষ্টায় আছেন। পশ্চিমবঙ্গে জনঘনত্ব ক্রমবর্ধমান। তাই শহর এবং শহরতলির পরিবারগুলি সাধ্যের মধ্যে ফ্ল্যাট কিনতেই আগ্রহী। তবে কেনা বললেই তো কেনা নয়। প্রয়োজনীয় নথি যাচাই শেষে ব্যাঙ্কঋণ পাওয়াই দস্তুর। এরপর চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রে বেতন থেকে কাটা যায় ইএমআই। তখন থেকে শুরু হয় আসল লড়াই—অনেকের নুন আনতে পানতা ফুরনোর অবস্থা হয় তখন। তারপরও চুক্তি অনুযায়ী নির্দিষ্ট মাপ এবং গুণমানের ফ্ল্যাট হস্তান্তর করেন না কিছু প্রোমোটার। তাগাদা দিতে দিতে নাকাল হন ক্রেতারা। একই ফ্ল্যাট একাধিক ব্যক্তিকে বিক্রি করে দেওয়ার মতো অপরাধও করে বসেন কোনও কোনও প্রোমোটার। এছাড়া প্ল্যানে এবং জমির দলিল, পরচাতেও বিস্তর গোলমাল ধরা পড়ে কিছু ক্ষেত্রে। হস্তান্তরে বিলম্ব কিছু ক্ষেত্রে এমন পর্যায়ে যায় যে, জীবদ্দশায় ফ্ল্যাট পাওয়া নিয়েই চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে যান কিছু ক্রেতা। বস্তুত, নিজেদের ‘প্রতারিতই’ ভাবতে থাকেন চরম হতাশ ওই ব্যক্তিরা।
এমন কিছু দুঃসংবাদ নজরে আসতেই অসাধু প্রোমাটারদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। রাজ্য পরিষ্কার ঘোষণা করে দিয়েছে, প্রতারিত ক্রেতার অভিযোগ পাওয়া মাত্রই সরকার উপযুক্ত ব্যবস্থা নেবে। এজন্য ক্রেতাকে ওয়েস্ট বেঙ্গল রিয়েল এস্টেট রেগুলেটরি অথরিটির (রেরা) কাছে নির্দিষ্ট নিয়মে অভিযোগ জানাতে হবে। এমনই একটি অভিযোগ নিষ্পত্তির ঘটনা সম্প্রতি সামনে এসেছে। চুক্তিমতো যাবতীয় টাকা মিটিয়ে দেওয়ার পরেও ফ্ল্যাট পাচ্ছিলেন না ক্যান্সার আক্রান্ত এক ব্যক্তি। বুকিংয়ের ১০ বছর পর, রেরার হস্তক্ষেপে অবশেষে রাজারহাটে নিজের ফ্ল্যাট পেয়েছেন তিনি। অনলাইনে তাঁর অভিযোগ পেয়ে তৎপর হন রেরা কর্তৃপক্ষ। অনলাইনেই তাঁর জন্য শুনানির ব্যবস্থা করা হয়। শুনানিসহ একাধিক প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষে গত ডিসেম্বরে ফ্ল্যাটের চাবি হাতে পান তিনি। চুক্তি অনুযায়ী ফ্ল্যাটের কিছু বকেয়া কাজও করে দেওয়ার জন্য প্রোমোটারকে বাধ্য করা হয়েছে। রাজ্য সরকারি সংস্থার এই বেনজির তৎপরতায় মুগ্ধ ওই ক্রেতা। সমস্যাটি নিশ্চয় একমাত্র ওই ব্যক্তির নয়, আরও বহু ফ্ল্যাট ক্রেতাকে এমন তিক্ত অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে। রাজ্যবাসীর প্রত্যাশা, রকমারি সমস্যাগুলির প্রতিটির ক্ষেত্রে রেরা কর্তৃপক্ষকে যেন এমন সুন্দর ভূমিকায় পাওয়া যায়। তাহলে ফ্ল্যাট কেনার আগের যাবতীয় সঙ্কোচ কাটিয়ে উঠতে পারবেন অন্যরা। তাতে সাধারণ মানুষের গৃহসমস্যা হ্রাস এবং গৃহনির্মাণ শিল্পের শ্রীবৃদ্ধি— একসঙ্গে ত্বরান্বিত হবে দুটিই।
এমন কিছু দুঃসংবাদ নজরে আসতেই অসাধু প্রোমাটারদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। রাজ্য পরিষ্কার ঘোষণা করে দিয়েছে, প্রতারিত ক্রেতার অভিযোগ পাওয়া মাত্রই সরকার উপযুক্ত ব্যবস্থা নেবে। এজন্য ক্রেতাকে ওয়েস্ট বেঙ্গল রিয়েল এস্টেট রেগুলেটরি অথরিটির (রেরা) কাছে নির্দিষ্ট নিয়মে অভিযোগ জানাতে হবে। এমনই একটি অভিযোগ নিষ্পত্তির ঘটনা সম্প্রতি সামনে এসেছে। চুক্তিমতো যাবতীয় টাকা মিটিয়ে দেওয়ার পরেও ফ্ল্যাট পাচ্ছিলেন না ক্যান্সার আক্রান্ত এক ব্যক্তি। বুকিংয়ের ১০ বছর পর, রেরার হস্তক্ষেপে অবশেষে রাজারহাটে নিজের ফ্ল্যাট পেয়েছেন তিনি। অনলাইনে তাঁর অভিযোগ পেয়ে তৎপর হন রেরা কর্তৃপক্ষ। অনলাইনেই তাঁর জন্য শুনানির ব্যবস্থা করা হয়। শুনানিসহ একাধিক প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষে গত ডিসেম্বরে ফ্ল্যাটের চাবি হাতে পান তিনি। চুক্তি অনুযায়ী ফ্ল্যাটের কিছু বকেয়া কাজও করে দেওয়ার জন্য প্রোমোটারকে বাধ্য করা হয়েছে। রাজ্য সরকারি সংস্থার এই বেনজির তৎপরতায় মুগ্ধ ওই ক্রেতা। সমস্যাটি নিশ্চয় একমাত্র ওই ব্যক্তির নয়, আরও বহু ফ্ল্যাট ক্রেতাকে এমন তিক্ত অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে। রাজ্যবাসীর প্রত্যাশা, রকমারি সমস্যাগুলির প্রতিটির ক্ষেত্রে রেরা কর্তৃপক্ষকে যেন এমন সুন্দর ভূমিকায় পাওয়া যায়। তাহলে ফ্ল্যাট কেনার আগের যাবতীয় সঙ্কোচ কাটিয়ে উঠতে পারবেন অন্যরা। তাতে সাধারণ মানুষের গৃহসমস্যা হ্রাস এবং গৃহনির্মাণ শিল্পের শ্রীবৃদ্ধি— একসঙ্গে ত্বরান্বিত হবে দুটিই।


