Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ফ্ল্যাট দেওয়ার নামে ৩৫ লক্ষ টাকা প্রতারণা, নিউটাউন থেকে গ্রেপ্তার ২, খানাকুলে শোরগোল

ফ্ল্যাট দেওয়ার নামে ৩৫ লক্ষ টাকা প্রতারণা, নিউটাউন থেকে গ্রেপ্তার ২, খানাকুলে শোরগোল
  • ১২ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, আরামবাগ: ফ্ল্যাট দেওয়ার নামে প্রায় ৩৫ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়। সেই ঘটনার তদন্তে নেমে দুই যুবককে গ্রেপ্তার করল হুগলি গ্রামীণের সাইবার ক্রাইম থানার পুলিস। ফ্ল্যাট দেওয়ার নামে খানাকুলের ব্যবসায়ীর কাছ থেকে নানা প্রলোভনে প্রায় ৩৫ লক্ষ টাকা আদায় করা হয়। প্রতারিত হয়েছেন বুঝে গত ১৪ আগস্ট খানাকুল থানায় অভিযোগ জানান দাইনান গ্রামের বাসিন্দা সুশান্ত ধাড়া। অভিযোগ পেয়ে নির্দিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করে তদন্তে নামে সাইবার ক্রাইম থানা। অভিযোগের চার মাস পর পুলিস দু’জনকে গ্রেপ্তার করেছে। যদিও তাদের কাছ থেকে কোনও টাকা উদ্ধার হয়নি।
Advertisement
পুলিস জানিয়েছে, দক্ষিণ ২৪ পরগনার নিউটাউন থানা ও উত্তর কাশীপুরের বাসিন্দা দু’জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিসের এক আধিকারিক বলেন, প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে অভিযুক্তরা এই প্রতারণার ঘটনায় যুক্ত। টাকা আদায়ে তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টও ব্যবহৃত হয়েছে। বুধবার ধৃতদের আরামবাগ মহকুমা আদালতে তোলা হলে বিচারক চারদিনের পুলিসি হেফাজতের নির্দেশ দেন। 
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বছর আটচল্লিশের সুশান্তবাবু নির্মাণ সামগ্রী সরবরাহের ব্যবসা করেন। তিনি জানিয়েছেন, বছর আটেক আগে মেয়ের হার্ট অপারেশন করতে হয়েছিল। সেই জন্য কয়েক লক্ষ টাকা খরচ হয়। তখন ব্যবসা চালানোর জন্য কিছু টাকা লোনের প্রয়োজন পড়ে। এক ব্যক্তি ফোন করে লোনের জন্য বলে। তার বিনিময়ে একটি পলিসি করার পরামর্শ দেয়। সেইমতো বাবার জমি বিক্রি করে পাওয়া প্রায় ৯০ হাজার টাকা দিয়ে ওই পলিসি করান। 
সুশান্তবাবু বলেন, বছর খানেক আগে ভারতীয় লাইফ ইন্সুরেন্স বিমা রিকভারির দায়িত্বপ্রাপ্ত অফিসার পরিচয় দিয়ে এক ব্যক্তি ফোন করে। সাত বছর আগের করা পলিসি থেকে ম্যাচুইরিটির টাকা পাইয়ে দেওয়ার ব্যাপারে আশ্বাস দেয়। এরপর ম্যাচুইরিটির জন্য ফাইন বাবদ ১২ হাজার ৫৫০ টাকা দিতে হয়। ওই পলিসির ম্যাচুইরিটি বাবদ প্রায় সাড়ে চার লক্ষ টাকা পাওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়। কিন্তু, নানা টালবাহানা চলতে থাকে। একসময় তাদের সঙ্গে আর যোগাযোগ করা যায়নি। তার কিছুদিন পর প্রতারকরা জানায় একটি কনটেস্টের মাধ্যমে আমি ফ্ল্যাট পেয়েছি। সেই ফ্ল্যাট পেতে রেজিস্ট্রি করতে কয়েক লক্ষ টাকা নেয়। তারপরও ফ্ল্যাট পাইয়ে দিতে নানা অজুহাত দিতে থাকে। সেইমতো দফায় দফায় প্রায় ৩৫ লক্ষ টাকা নিয়ে নেয় প্রতারকরা। তারপরও ফ্ল্যাট পাইনি। সুশান্তবাবু বলেন, প্রতারণা চক্রের অনেকেই নানা ফোন নম্বর থেকে দফায় দফায় কল করে। নানা কৌশলে তারা টাকা দাবি করে। আমি বিশ্বাস করে ওই টাকা দিয়েছিলাম। অনেকের থেকে টাকা ধার নিয়ে তা প্রতারকদের দিয়েছি। পরে বুঝতে পারি আমি প্রতারিত হয়েছি। একটি বড় চক্র এই ঘটনায় জড়িত। আমি আমার টাকা ফেরত চাই। তারসঙ্গে অভিযুক্তদেরও কঠোর শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।
সম্পর্কিত সংবাদ