নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: মেয়েকে সুস্থ থাকতে হলে রোজ তাঁকে ফল খাওয়াতে হবে। তিন রকম হলে ভালো হয়, ন্যূনতম দু’রকম। চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে প্রতিদিন নিয়ম করে ফল কেনেন দুর্গাপুরের গৃহশিক্ষিকা পারমিতা দাস। এদিন এক ডজন ভালো মানের কলা কিনতে গিয়ে তাঁর ভিড়মি খাওয়ার জোগাড়। একশো টাকার নোট দিয়ে ফেরতের আশায় দাঁড়িয়ে ছিলেন। ফল বিক্রেতা কৌতুকের সুরে জানালেন, দাঁড়িয়ে থেকে লাভ নেই দিদি, কলা এখন সেঞ্চুরি করেছে। আসানসোল আপকার গার্ডেন থেকে নিয়মিত ফল কেনেন অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মী পিনাকী চট্টোপাধ্যায়। ভালো মানের আপেল কিনতে কিনতে তিনি জানান, রিটায়ার্ড মানুষদের প্লেট থেকে ফল উঠে যাবে। ২৫০ টাকা কেজি দরে কি আপেল কেনা সম্ভব! আসানসোল-দুর্গাপুরে ফলের বাজারে যেন আগুন লেগেছে। বড় আকারের পেঁপের দাম ৮০-১০০ টাকা প্রতি কেজি। এক কেজি কমলা লেবুর, আঙুরের দামও ১০০-১২০ টাকা। নিয়মিত যাঁরা ফল খান তাঁরা রীতিমতো বিপাকে পড়েছেন। বিশেষ করে বয়স্করা। ডাক্তারবাবুরা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়তে ফল খেতে বলছেন। ফলের দাম শুনে তাঁদের প্রেশার বাড়ছে। মার্চ মাসের শুরুতেই রমজান মাস শুরু হতে চলেছে। সন্ধ্যায় খেজুর, ফল খেয়েই রোজা ভাঙেন ধর্মপ্রাণ মুসলিমরা। কংগ্রেস নেতা শাহ আলম বলেন, রমজান মাসে আমাদের দরিদ্র মুসলিম পরিবারকে ফল দান করার রীতি রয়েছে। আপনারাই বলুন এই দাম দিয়ে ফল কিনে বাড়িতে খাব না, মানুষকে দান করব। আসানসোল পুরসভার ডেপুটি মেয়র ওয়াশিমূল হক বলেন, গরিব মানুষ ফল না খেতে পেলে ওদের মোজিদি, অমিতজির কী এসে গেল! বিজেপি নেতা প্রশান্ত চক্রবর্তীর বলেন, রাজ্য সরকার দাম নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না বলেই এই পরিস্থিতি।



