সংবাদদাতা, পুরুলিয়া: ফুলের চারা চাষ করেই লাভের মুখ দেখছেন গগনাবাইদ গ্রামের শতাধিক চাষি। কেউ সরকারি সাহায্য পেয়েছেন, কেউ আবার নিজেদের উদ্যোগে ফুল ও সব্জি চারা চাষ করে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন। জেলার বিভিন্ন প্রান্ত ছাড়াও ভিন জেলাতে গিয়েও চারা বিক্রি করে লাভের মুখ দেখছেন চাষিরা।
Advertisement
পুরুলিয়া জেলার কাশীপুর ব্লকের অন্তর্গত প্রত্যন্ত গ্রাম গগনাবাইদ। সাদামাটা এই গ্রাম ফুলপ্রেমীদের কাছে বিশেষ খ্যাতি পেয়েছে। কাশীপুর থেকে বাঁকুড়া যাওয়ার পিচ রাস্তা ছেড়ে খানিকটা এগলেই রাস্তার দু’ধারের জমিতে দেখা মিলবে একের পর এক ফুলের চারা। সেই সঙ্গে রয়েছে রকমারি সব্জি চারাও। ধান ও সব্জি চাষের তুলনায় চারা তৈরি এবং বিক্রি করেই লাভবান হচ্ছেন চাষিরা। ওই গ্রামেরই বাসিন্দা নিতাই মাজি সম্প্রতি উদ্যানপালন দপ্তরের পক্ষ থেকে গ্রিন শেড তৈরির জন্য সহায়তাও পেয়েছেন। চারা তৈরির পাশাপাশি নার্সারিও তৈরি করেছেন। নিতাইবাবু বলেন, প্রথমে বাগনান থেকে চারা এনে বিভিন্ন জায়গায় বিক্রি করতাম। তারপর নিজেরাই চারা তৈরি করা শুরু করি। এখন দু’টাকা থেকে শুরু করে ১০০০ টাকা পর্যন্ত গাছের চারা রয়েছে। নিতাইবাবু বলেন, ধান বা সব্জি চাষ করার তুলনায় কয়েকগুণ লাভ রয়েছে চারা তৈরি করে বিক্রি করতে পারলে। প্রথমে গ্রামে কয়েকজন করলেও এখন শতাধিক পরিবার বিভিন্ন ফুলের এবং সব্জি চারা তৈরি করেন। সেই চারা কেউ নিজেরা বিভিন্ন হাটে গিয়ে বিক্রি করেন। আবার অনেকে আছেন যাঁরা গ্রাম থেকে চারা কিনে নিয়ে গিয়ে বিভিন্ন জায়গায় ফেরি করেন। শীতের মরশুমে ইনকা, দেশি গাঁদা, চন্দ্রমল্লিকা, গোলাপ, পিটুনিয়া, ডালিয়া সহ রকমারি ফুলের চাহিদা সবচেয়ে বেশি রয়েছে। ওই গ্রামেরই বাসিন্দা কেদার মণ্ডল বৃদ্ধা মায়ের সঙ্গে জমিতে কাজ করতে করতে বলেন, দাদুর আমল থেকেই সব্জির চারা তৈরি করে বিক্রি করা হতো।
তবে গত প্রায় এক দশকে ফুলের চারা করে গ্রামের অনেকেই স্বনির্ভর হয়েছেন। ধান ও সব্জি চাষ করতে অনেক জমি লাগবে। অত বেশি জমি পাব কোথায়? খুব কম জায়গায় ফুলের ও সব্জি চারা অনেক বেশি পরিমাণে করা সম্ভব। লাভ রয়েছে। গ্রামেই এখন চার-পাঁচটা নার্সারি হয়ে গিয়েছে। সরকারের কাছ থেকে ভালো জাতের বীজ পেলে আরও সুবিধা হবে।
তবে গত প্রায় এক দশকে ফুলের চারা করে গ্রামের অনেকেই স্বনির্ভর হয়েছেন। ধান ও সব্জি চাষ করতে অনেক জমি লাগবে। অত বেশি জমি পাব কোথায়? খুব কম জায়গায় ফুলের ও সব্জি চারা অনেক বেশি পরিমাণে করা সম্ভব। লাভ রয়েছে। গ্রামেই এখন চার-পাঁচটা নার্সারি হয়ে গিয়েছে। সরকারের কাছ থেকে ভালো জাতের বীজ পেলে আরও সুবিধা হবে।



