Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ফালাকাটায় সাতটি বাড়ি ভেঙে ফেলল দাঁতাল

ফালাকাটায় সাতটি বাড়ি ভেঙে ফেলল দাঁতাল
  • ৪ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
সংবাদদাতা,ফালাকাটা: মাঝরাত। কুয়াশা ঘিরেছে গ্রামকে। বাড়ির উঠোনে দাঁড়িয়ে দাঁতাল। ভেঙে তছনছ করছে একের পর এক ঘরবাড়ি। পালিয়ে না গিয়ে ভাঙা বাড়ির মেঝেতেই পরিবার নিয়ে বসে পড়লেন রনিতা তুরি। হাতজোর করে হাতির কাছে চাইলেন প্রাণভিক্ষা। হাতির তখন সুর সপ্তমে। ঘর বাড়িতে তার ‘অভিযান’ অব্যাহত। প্রাণভিক্ষার আর্জিতে সায় দেয় গজরাজ। আঘাত হানেনি পরিবারের সদস্যদের। ফিরে যায় দাঁতালটি। বৃহস্পতিবার মাঝরাতে তাসাটি চা বাগানের বড়লাইনে এই দাঁতালটি এলাকার ৭টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত করে। 
Advertisement
লাগাতার বুনো হাতির তাণ্ডবে অতিষ্ঠ ফালাকাটা ব্লকের তাসটি চা মহল্লার বাসিন্দারা। হাতির আতঙ্কে ঠাণ্ডায় রাত জেগে কাটাতে হচ্ছে বাসিন্দাদের। যদিও বনদপ্তর টহলদারি করছে। তবে কুয়াশার জেরে হাতির গতিবিধি বুঝতে সমস্যা হচ্ছে। সেই সুযোগে হাতির পাল লোকালয়ে চলে আসছে। লাগাতার হাতির হানায় চাষআবাদেও ক্ষতি হচ্ছে।  সন্ধ্যা নামলেই তৈরি হচ্ছে আতঙ্কের পরিবেশ। জনশূন্য থাকছে রাস্তাঘাট। একইভাবে বৃহস্পতিবার মধ্যরাতেও সুনীল ওরাওঁ, বাবলু ভৌমিক, শম্ভু তরি, অজিত খারিয়া, রনিতা তুরি, মেঘনাথ মাঝিদের ঘরে হানা দিয়ে মজুত চাল এবং আটা সাবাড় করে। ক্ষতিগ্রস্ত রনিতা বলেন, একটি ঘরে আমাদের ছোট সংসার। রাত আড়াইটা নাগাদ একটি দাঁতাল হামলা চালিয়ে পুরঘর ভেঙে ফেলে। আমরা পালিয়ে যাইনি। ঘরের মেঝেতে বসে হাতির কাছে প্রাণভিক্ষা চাই। পরে এলাকাবাসীরা চেচামেচি করলে হাতিটি চলে যায়। আমরা প্রাণে বাঁচি। এখন শোয়ার মত ঘর নেই। এই অবস্থায় কিভাবে ঠাণ্ডায় রাত কাটাবো, সেটাই দুঃশ্চিন্তা। 
একইভাবে ক্ষতিগ্রস্ত মেঘনাথ মাঝি জানান, শোয়ার ঘরে হাতি তাণ্ডব চালায়। কোনওরকমে আমার ছেলে প্রাণে বাঁচতে পালিয়ে এসে কোয়াটার আশ্রয় নেয়। আমরা চাই, বনদপ্তর টহলদারি বাড়িয়ে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করুক। 
অপরদিকে বনদপ্তর জানিয়েছে, হাতিটি এলাকা ছেড়েছে। নিয়ম মেনে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে।  নিজস্ব চিত্র
সম্পর্কিত সংবাদ