অগ্নিভ ভৌমিক, কালীগঞ্জ (চাঁদঘর): এক গ্রাম বানায় আর অন্য গ্রাম খায়। হেরোইনের রমরমা কারবার বদলে দিয়েছে পলাশীপাড়ার পাশাপাশি দুই গ্রামের সার্বিক চিত্র। আর্থিক থেকে সামাজিক—জীবনযাত্রার সর্বস্তরেই ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে মাদকের এই কারবার। এলাকায় ঢুঁ মারলেই দুই গ্রামের আকাশ-জমিন পার্থক্যটা চোখে পড়ে। একটি গ্রাম হেরোইন তৈরি করে ফুলেফেঁপে উঠেছে। আর পড়শি গ্রাম নেশায় নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছে। দুই গ্রামের থানা ও বিধানসভা আলাদা হলেও হেরোইন বেঁধে দিয়েছে একসূত্রে।
Advertisement
পলাশীপাড়া থানা ও বিধানসভার অন্তর্গত নলদহ। অপর গ্রামটি হলো কালীগঞ্জ থানা ও বিধানসভার অন্তর্গত চাঁদঘর। হেরোইন তৈরির আঁতুড়ঘর নলদহ। ঘরে ঘরে যেন কুটিরশিল্প। আর উৎপাদিত হেরোইনের অন্যতম বড় বাজার চাঁদঘর। হেরোইনের যেন খোলাবাজার এই গ্রাম। গ্রামের কচিকাঁচা থেকে বুড়ো—সবার হাতে হাতে ঘোরে পুরিয়া। নেশায় বুঁদ সকলেই। উদ্বেগ বাড়িয়েছে প্রশাসনেরও। কেনান, তৈরি হয়েছে সামাজিক ও সাংসারিক অস্থিরতা। নেশাড়ুদের সংসার ভেঙে খানখান হয়ে যাচ্ছে। গ্রামের কিছু ভালো মানুষের কথায়, ‘আমাদের পড়শি গ্রামটি একে শেষ করে দিল আমাদের গ্রামকে।’
কৃষ্ণনগর পুলিস জেলার ডিএসপি মত্তাকিনুর রহমান বলেন, ‘হেরোইন কারবার পুরোপুরি বন্ধ করতে আমরা লাগাতার অভিযান চালাচ্ছি। বহু কারবারি ধরা পড়েছে।পাশাপাশি ওই এলাকার গ্রামের বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলছি, যাতে তাঁরা এই নেশা থেকে সরে আসে।’
কালীগঞ্জ ব্লকের পলাশীর কাছে জাতীয় সড়ক থেকে রাজ্য সড়ক চলে গিয়েছে পলাশীপাড়া বিধানসভা বা তেহট্ট-২ ব্লকের দিকে। সেই রাজ্য সড়কের উপরেই পড়ে মুর্শিদাবাদ লাগোয়া বড়ো চাঁদঘর পঞ্চায়েত। রাজ্য সড়ক থেকে এবড়ো খেবড়ো রাস্তা ঢুকে গিয়েছে গ্রামের ভিতরে। ওই পঞ্চায়েতের ছোটচাঁদঘর পূর্বপাড়া গ্রাম। ঢুকলেই বাসিন্দাদের আর্থিক দুরাবস্থা নজরে পড়ে। গ্রামে পাকা বাড়ির পাশাপাশি কাঁচা বাড়িও রয়েছে অনেকের। কিন্তু সিংহভাগ মানুষই আর্থিকভাবে স্বচ্ছল নয়। যে টুকু আয় নেশার পিছনে ব্যয়। গ্রামবাসীদের কথায়, ‘বাড়ির কর্তারাই নাকি নেশার ডুবে থাকে সারাদিন। ফলে অনেকের উপার্জনের রাস্তাও বন্ধ হয়ে গিয়েছে। জানা গিয়েছে, ২০০৭ সালে চাঁদঘর এলাকায় ব্যাপক পরিমাণে পোস্তর চাষ হয়েছিল। জমিতে ধান চাষের মতো পোস্তর গাছ লাগিয়েছিলেন চাষিরা। পুলিস প্রশাসন সেই চাষ বন্ধ করে দিয়েছিল। কিন্তু চাষ বন্ধ হলেও গ্রামবাসীদের নেশা কাটেনি। শুরুর দিকে হেরোইন সেভাবে পেয়ে বসেনি। এখন ঘরে ঘরে সেই হেরোইন।
শীতের দুপুরে পূর্বপাড়ার গ্রামের রাস্তায় রোদ পোহাচ্ছিলেন বছর ষাটের এক বাসিন্দা। কথায় কথায় তিনি বলছিলেন, ‘নাহ, আমাদের গ্রামে কোনও সমস্যাই নেই। সব সমস্যা রাস্তার ওপারের গ্রামে।’ ঠিক তখনই পাশে দাঁড়িয়ে থাকা ব্যক্তি বৃদ্ধের কথায় থাবা বসিয়ে বলেই ফেললেন, ‘আমাদের গ্রামের লোকজন ওই নলদহ গ্রামে সব টাকা দিয়ে আসছে। ওরা এখন বড় বাড়ি বানিয়ে চার চাকা গাড়িতে ঘোরে। আমাদের গ্রাম নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছে।’
রাজ্য সড়কের উল্টো দিকেই নলদহ গ্রাম। হেরোইন ব্যবসার আঁতুরঘর। রাজ্য তথা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে নলদহে তৈরি হেরোইন রপ্তানি করা হয়। সেই গ্রামের অধিকাংশ মানুষের পেল্লাই বাড়ি। বাড়িতে কোটি টাকার ডেকরেশন। সবটাই নাকি হেরোইন ব্যবসার মুনাফা। পুলিস প্রশাসনের তরফে বিগত এক বছরে একাধিক অভিযান চালানো হয়। কিন্তু মাদকের কারবারে পুরোপুরি লাগাম পড়েনি বলেই দাবি গ্রামবাসীদের।
নলদহের এক বাসিন্দা বলছিলেন, ‘এ এমন এক জিনিস, যা আমাদের গ্রামকে তছনছ করে দিচ্ছে। গ্রামের বাচ্চা-বুড়োরা টাকা হাতে পেলেই হেরোইন খেতে চলে যাচ্ছে। বাড়িতে টাকা দিচ্ছে না। অভাব বাড়ছে সংসারে। সামাজিক ভারসাম্য নষ্ট করে দিচ্ছে এই অভিশপ্ত মাদক।’
দুই সতীন গ্রামের ভালো মানুষের রা কিন্তু একটাই—বন্ধ হোক মাদক কারবার।
কৃষ্ণনগর পুলিস জেলার ডিএসপি মত্তাকিনুর রহমান বলেন, ‘হেরোইন কারবার পুরোপুরি বন্ধ করতে আমরা লাগাতার অভিযান চালাচ্ছি। বহু কারবারি ধরা পড়েছে।পাশাপাশি ওই এলাকার গ্রামের বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলছি, যাতে তাঁরা এই নেশা থেকে সরে আসে।’
কালীগঞ্জ ব্লকের পলাশীর কাছে জাতীয় সড়ক থেকে রাজ্য সড়ক চলে গিয়েছে পলাশীপাড়া বিধানসভা বা তেহট্ট-২ ব্লকের দিকে। সেই রাজ্য সড়কের উপরেই পড়ে মুর্শিদাবাদ লাগোয়া বড়ো চাঁদঘর পঞ্চায়েত। রাজ্য সড়ক থেকে এবড়ো খেবড়ো রাস্তা ঢুকে গিয়েছে গ্রামের ভিতরে। ওই পঞ্চায়েতের ছোটচাঁদঘর পূর্বপাড়া গ্রাম। ঢুকলেই বাসিন্দাদের আর্থিক দুরাবস্থা নজরে পড়ে। গ্রামে পাকা বাড়ির পাশাপাশি কাঁচা বাড়িও রয়েছে অনেকের। কিন্তু সিংহভাগ মানুষই আর্থিকভাবে স্বচ্ছল নয়। যে টুকু আয় নেশার পিছনে ব্যয়। গ্রামবাসীদের কথায়, ‘বাড়ির কর্তারাই নাকি নেশার ডুবে থাকে সারাদিন। ফলে অনেকের উপার্জনের রাস্তাও বন্ধ হয়ে গিয়েছে। জানা গিয়েছে, ২০০৭ সালে চাঁদঘর এলাকায় ব্যাপক পরিমাণে পোস্তর চাষ হয়েছিল। জমিতে ধান চাষের মতো পোস্তর গাছ লাগিয়েছিলেন চাষিরা। পুলিস প্রশাসন সেই চাষ বন্ধ করে দিয়েছিল। কিন্তু চাষ বন্ধ হলেও গ্রামবাসীদের নেশা কাটেনি। শুরুর দিকে হেরোইন সেভাবে পেয়ে বসেনি। এখন ঘরে ঘরে সেই হেরোইন।
শীতের দুপুরে পূর্বপাড়ার গ্রামের রাস্তায় রোদ পোহাচ্ছিলেন বছর ষাটের এক বাসিন্দা। কথায় কথায় তিনি বলছিলেন, ‘নাহ, আমাদের গ্রামে কোনও সমস্যাই নেই। সব সমস্যা রাস্তার ওপারের গ্রামে।’ ঠিক তখনই পাশে দাঁড়িয়ে থাকা ব্যক্তি বৃদ্ধের কথায় থাবা বসিয়ে বলেই ফেললেন, ‘আমাদের গ্রামের লোকজন ওই নলদহ গ্রামে সব টাকা দিয়ে আসছে। ওরা এখন বড় বাড়ি বানিয়ে চার চাকা গাড়িতে ঘোরে। আমাদের গ্রাম নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছে।’
রাজ্য সড়কের উল্টো দিকেই নলদহ গ্রাম। হেরোইন ব্যবসার আঁতুরঘর। রাজ্য তথা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে নলদহে তৈরি হেরোইন রপ্তানি করা হয়। সেই গ্রামের অধিকাংশ মানুষের পেল্লাই বাড়ি। বাড়িতে কোটি টাকার ডেকরেশন। সবটাই নাকি হেরোইন ব্যবসার মুনাফা। পুলিস প্রশাসনের তরফে বিগত এক বছরে একাধিক অভিযান চালানো হয়। কিন্তু মাদকের কারবারে পুরোপুরি লাগাম পড়েনি বলেই দাবি গ্রামবাসীদের।
নলদহের এক বাসিন্দা বলছিলেন, ‘এ এমন এক জিনিস, যা আমাদের গ্রামকে তছনছ করে দিচ্ছে। গ্রামের বাচ্চা-বুড়োরা টাকা হাতে পেলেই হেরোইন খেতে চলে যাচ্ছে। বাড়িতে টাকা দিচ্ছে না। অভাব বাড়ছে সংসারে। সামাজিক ভারসাম্য নষ্ট করে দিচ্ছে এই অভিশপ্ত মাদক।’
দুই সতীন গ্রামের ভালো মানুষের রা কিন্তু একটাই—বন্ধ হোক মাদক কারবার।



