নিজস্ব প্রতিনিধি, রানাঘাট: আর ক’দিনের মধ্যেই ফুলিয়ায় উদ্বোধন হতে চলেছে ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব হ্যান্ডলুম টেকনোলজির। এই কলেজ থেকে হ্যান্ডলুম টেকনোলজি নিয়ে পড়াশোনা করে সফল কেরিয়ার গড়ার ভবিষ্যৎ হাতছানি দিচ্ছে আগামীর পড়ুয়াদের কাছে। উল্লেখ্য, শান্তিপুর-ফুলিয়ার হস্তচালিত তাঁতে কাপড়ের নাম দেশজোড়া। তাই এখানেই কেন্দ্রীয় বস্ত্রমন্ত্রক প্রায় ৮০ কোটি টাকা ব্যয়ে এই ইনস্টিটিউট গড়ে তুলেছে।
Advertisement
রবিবার সাংবাদিক সম্মেলন করে শান্তিপুর পঞ্চায়েত সমিতির সহ সভাপতি তথা বিজেপি নেতা চঞ্চল চক্রবর্তী বলেন, ২০১৫ সাল থেকে ফুলিয়া আইটিআই ক্যাম্পাসে চলছিল হ্যান্ডলুম টেকনোলজির কোর্স। ২০১৭ সালে কেন্দ্রীয় বস্ত্রমন্ত্রক ফুলিয়া আইটিআই ক্যাম্পাসের পাশেই এই নতুন কলেজ তৈরি করার সিদ্ধান্ত নেয়। সেইমতো কেন্দ্রীয় বস্ত্রমন্ত্রকের আর্থিক বরাদ্দে এতদিন ধরে চলছিল নতুন কলেজ তৈরি। সব মিলিয়ে খরচ হয়েছে ৮০ কোটি টাকা। নতুন বছরের শুরুতেই, অর্থাৎ ৪ জানুয়ারি ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব হ্যান্ডলুম টেকনোলজির ক্যাম্পাসের উদ্বোধন করবেন কেন্দ্রীয় বস্ত্রমন্ত্রী গিরিরাজ সিং। এছাড়াও কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার, রানাঘাটের সংসদ জগন্নাথ সরকার সহ একাধিক ব্যক্তির উপস্থিতির সম্ভাবনা রয়েছে। ভবিষ্যতে এই কলেজ থেকে পাশ করে কেন্দ্রীয় বস্ত্রমন্ত্রক সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে চাকরির একাধিক সুযোগ থাকছে। শুধু তাই নয়, এই কলেজ তৈরি হওয়ায় ফুলিয়ার গুরুত্ব যে বাড়বে তা বলাই বাহুল্য। কিন্তু শান্তিপুর এবং ফুলিয়ার হস্তচালিত তাঁতশিল্প যখন অন্তিম প্রহর গুনছে, তখন কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে একটি ইনস্টিটিউট তৈরি করেই কি সমস্যার সমাধান সম্ভব? বিষয়টি নিয়ে সরাসরি রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসকে কাঠগড়ায় তুলেছেন বিজেপি নেতা তথা পঞ্চায়েত সমিতির সহ সভাপতি চঞ্চল চক্রবর্তী। তিনি বলেন, রাজ্য সরকার তাঁত শিল্পকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। মাত্রাতিরিক্ত ইলেক্ট্রিকের বিলের জন্য অনেকেই তাঁতের কাজ ছেড়ে টোটো চালাচ্ছেন। সার্বিকভাবে ধ্বংসের মুখে তাঁরা। কেন্দ্রীয় সরকার বাঁচাতে চাইছে। সেই জন্যই এই উদ্যোগ। যদিও বিজেপি নেতার এই দাবির বিরোধিতা করেছে তৃণমূল। শান্তিপুর ব্লক এ তৃণমূলের সভাপতি সুব্রত সরকার বলেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শান্তিপুরের তাঁতিদের জন্য কী কী করেছেন তা এখানকার সকলেই জানেন। আজ হঠাৎ করে একটা ইনস্টিটিউট তৈরি করে তাঁতিদের জন্য সব কিছু করে দেওয়া হয়ে যায় না। আমরা সেই কলেজের সাফল্য কামনা করি। কিন্তু তার মধ্যে দিয়ে কতখানি কর্মসংস্থান হবে? এ প্রশ্নও রয়েছে।



