Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ফাঁকিবাজ প্রধান ও উপপ্রধানরা নিজেরাই পদত্যাগ করুন, না হলে দল ব্যবস্থা নেবে

ফাঁকিবাজ প্রধান ও উপপ্রধানরা নিজেরাই পদত্যাগ করুন, না হলে দল ব্যবস্থা নেবে
  • ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: ফাঁকিবাজ পঞ্চায়েত প্রধান ও উপপ্রধানরা নিজেরাই দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নিন। তা না হলে দল ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হবে। বৃহস্পতিবার বাঁকুড়ায় রুদ্ধদ্বার পর্যালোচনা বৈঠকে পঞ্চায়েতমন্ত্রী প্রদীপ মজুমদার প্রধান-উপপ্রধানদের এই বার্তা দিয়েছেন। বৈঠকে খাদ্য প্রতিমন্ত্রী তথা রানিবাঁধের বিধায়ক জ্যোৎস্না মাণ্ডি প্রধানদের ফাঁকিবাজি নিয়ে সরব হন। পঞ্চায়েত প্রধান ও উপপ্রধানরা দিনের পর দিন অফিসে যান না বলে প্রতিমন্ত্রী তোপ দাগেন। প্রতিমন্ত্রীর বিষোদ্গার শুনে ওইদিন রবীন্দ্র ভবনের ভরা প্রেক্ষাগৃহে উপস্থিত প্রধানদের মধ্যে গুঞ্জন শুরু হয়। বিষয়টি নিয়ে শুক্রবারও জেলার রাজনৈতিক মহল ও ত্রিস্তর পঞ্চায়েতে আলোচনা হয়। সাধারণত পর্যালোচনা বৈঠকে বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়ে প্রধানদের সাফল্য বা ব্যর্থতা চুলচেরা বিশ্লেষণ হয়। তবে এবারের বৈঠকে পঞ্চায়েতে প্রধানদের গরহাজিরার বিষয়টি উঠে আসায় জেলাজুড়ে চর্চা শুরু হয়েছে। 
Advertisement
খাদ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমি বিভিন্ন পঞ্চায়েত পরিদর্শন করেছি। বহু পঞ্চায়েতে প্রধান দিনের পর দিন অফিসে আসেন না। আমার বিধানসভা কেন্দ্রে বিষয়টি বেশি লক্ষ্য করা গিয়েছে। এভাবে চলতে থাকলে উন্নয়ন ব্যাহত হবে। আমাদের দল যোগ্য ভেবেই সংশ্লিষ্ট সদস্যদের প্রধান, উপপ্রধান করেছেন। কিন্তু, তাঁরা এভাবে পঞ্চায়েত অফিসকে এড়িয়ে গেলে কীভাবে কাজকর্ম হবে?
পঞ্চায়েতমন্ত্রী বলেন, সব প্রধান ফাঁকিবাজ এমনটা নয়। তবে খাদ্য প্রতিমন্ত্রী গিয়ে যখন দেখেছেন, সেইসব পঞ্চায়েতে নিশ্চয়ই ওই ধরনের ঘটনা ঘটেছে। মানুষ প্রধান, উপপ্রধান, সদস্যদের কাছ থেকে অনেক কিছু প্রত্যাশা করে। পঞ্চায়েতের উপর উন্নয়নের অনেকাংশ নির্ভর করে। ফলে ফাঁকিবাজি বরদাস্ত করা হবে না। ফাঁকিবাজদের বিরুদ্ধে কী আপনারা ব্যবস্থা নেবেন? এই প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী বলেন, ফাঁকিবাজর নিজেরাই পদ থেকে অব্যাহতি নিতে পারেন। তাতে কোনও বাধা নেই। তা না হলে দল ব্যবস্থা নেবে। নিচুতলার সব খবর আমাদের কাছে পৌঁছয়। ফলে কে কী করছেন, তা আমরা জানি। বিষয়টি বৈঠকে উপস্থিত ত্রিস্তর পঞ্চায়েতের জনপ্রতিনিধিদের বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, বাঁকুড়ার বহু পঞ্চায়েত সময়ে খোলা ও বন্ধ হয় না। পুজোর মুখে সিমলাপালের লক্ষ্মীসাগর গ্রাম পঞ্চায়েত নির্দিষ্ট সময়ের অনেক পরে খোলায় বিভিন্ন কাজ নিয়ে আসা বাসিন্দারা ক্ষোভ ব্যক্ত করেন। ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, বেলা ১১টা পর্যন্ত পঞ্চায়েতের গেট তালাবন্ধ ছিল। ওইরকম জেলার অন্যান্য ব্লকেও পঞ্চায়েত খেয়ালখুশি মতো খোলা ও বন্ধ করা হয় বলে অভিযোগ। কর্মীদের দাবি, দীর্ঘদিন নিয়োগ না হওয়ায় পঞ্চায়েতে লোকবল তলানিতে ঠেকেছে। কর্মী-আধিকারিকদের বহু পদ শূন্য পড়ে রয়েছে। ফলে একজনকে একাধিক পঞ্চায়েতের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সেই কারণে একদিক সামলাতে গিয়ে অন্যদিকে সমস্যা হচ্ছে। 
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পঞ্চায়েত প্রধান বলেন, প্রশাসনিক সভা, বৈঠকে যোগ দিয়ে আমাদের বিভিন্ন জায়গায় যেতে হয়। দলের হয়ে সাংগঠনিক কর্মসূচিতেও যোগ দিতে হয়। ফলে সবদিন পঞ্চায়েতে উপস্থিত থাকা সম্ভব হয় না। তবে মানুষ যাতে পরিষেবা থেকে বঞ্চিত না হয়, সেই দিকে আমরা খেয়াল রাখি। উন্নয়ন বজায় রাখতেও যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ