Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ফিজিক্স নিয়ে পড়তে না পারার আক্ষেপ, স্কুলে ল্যাব তৈরিতে পেনশনের সাত লক্ষ টাকা দান প্রাক্তনীর

ফিজিক্স নিয়ে পড়তে না পারার আক্ষেপ, স্কুলে ল্যাব তৈরিতে পেনশনের সাত লক্ষ টাকা দান প্রাক্তনীর
  • ২ মার্চ, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
সংবাদদাতা, পতিরাম: বালুরঘাট হাইস্কুল থেকে পদার্থবিদ্যায় লেটার মার্কস পাওয়া প্রথম ছাত্র সূর্য্যরাম মণ্ডল। ১৯৬৪ সালে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় তাঁর এই রেজাল্টে হইচই পড়েছিল বালুরঘাট শহরে। কিন্তু, দুঃখের বিষয়, অর্থের অভাবে সেবছর কলেজে ভর্তি হতে পারেননি এই কৃতি। পরেরবছর পদার্থবিদ্যায় ভর্তি হতে চাইলেও ভাগ্য সাথ দেয়নি। পদার্থবিদ্যা নিয়ে পড়াশোনা করতে না পারার সেই আক্ষেপ থেকে গিয়েছে আজও। পরবর্তীতে ব্যাঙ্কে চাকরি পান। বর্তমানে সূর্য্যরামবাবু ৭৫-এর গণ্ডি পেরিয়েছেন। তাই পুরনো স্কুলের জন্য নিজের গচ্ছিত পেনশনের সাতলক্ষ টাকা দান করেছিলেন। সেই টাকায় বালুরঘাট হাইস্কুলে তৈরি হয়েছে পদার্থ ও রসায়ন বিদ্যার ল্যাবরেটরি। সেই কাজ শেষ হতে শনিবার নিজের স্কুলে এসে তা পরিদর্শন করেগেলেন কলকাতা নিবাসী সূর্য্যরাম মণ্ডল। বালুরঘাট হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক শ্রীজিত্ সাহা বলেন, আমাদের এই প্রাক্তনীর দেওয়া ৭ লক্ষ টাকায় স্কুলে আধুনিক ল্যাব তৈরি হয়েছে। যা প‌ড়ুয়াদের কাজে লাগবে। 
Advertisement
এবিষয়ে সূর্য্যরামবাবু বলেন, বালুরঘাট হাইস্কুল থেকে আমি প্রথম পদার্থবিদ্যায় লেটার পেয়েছিলাম। কিন্তু টাকার অভাবে পদার্থবিদ্যা নিয়ে পড়াশোনা করতে পারিনি। ইচ্ছে ছিল পদার্থবিদ্যার জন্য কিছু করব। তাই পেনশনের গচ্ছিত অর্থের ৭ লক্ষ টাকা দান করেছি। 
ওই টাকায় কাজ হচ্ছে, আজ দেখে ভালো লাগছে। আমি চাই, আমার মত আর কেউ যেন আর্থিক অভাবে নিজের সখের বিষয়ে পড়াশোনা থেকে বঞ্চিত না হয়। 
সূর্য্যরাম মণ্ডলের বাড়ি ছিল বালুরঘাট শহরের আখিরাপাড়ায়। তিনি ছোটবেলা থেকেই বালুরঘাট হাইস্কুলে পড়াশোনা করেছেন। ১৯৬৪ সালে উচ্চমাধ্যমিকে ৬৪.২% নম্বর পেয়েছিলেন। প্রিয় বিষয় পদার্থবিদ্যা ও অংকে লেটার মার্কস ছিল। কিন্তু দুঃস্থ পরিবারের সূর্য্যরামবাবুর সেই বছর কলেজে পদার্থবিদ্যায় ভর্তির টাকা ছিল না। 
পরের বছর পদার্থ বিদ্যা নিয়ে ভর্তি হতে গেলেও একবছর দেরি হওয়ায় সেই বিষয়ে সুযোগ পাননি।  স্কলারশিপ ও ব্যাঙ্কে লোন নিয়ে জয়পুরে এগ্রিকালচার নিয়ে পড়েন। পরবর্তীতে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কে চাকরি পান। ১৫ বছর চাকরি থেকে অবসর নিলেও প্রিয় বিষয়ের প্রতি টান থেকেই গিয়েছে। তাই স্কুলের স্বার্থে পেনশন থেকে টাকা অনুদান দিয়েছেন তিনি। 
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ