Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ফড়েদের নয়, বহরমপুরে চাষিরা নিজেরাই খেতের সব্জি বাজারে বসে বিক্রি করছেন

ফড়েদের নয়, বহরমপুরে চাষিরা নিজেরাই খেতের সব্জি বাজারে বসে বিক্রি করছেন
  • ৪ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: শীতের সব্জি বাজারে আসা শুরু হয়েছে। অথচ খুচরো বাজারে সব্জির দাম চড়া। এদিকে মাঠ থেকে সব্জি তুলে বাজারে পাঠালে দাম পান না চাষিরা। লাভের টাকা ঢোকে ফড়েদের পকেটে। শীতের মরশুমে আগাম সব্জি ফলিয়ে বেশি দাম পাওয়ার আশায় এবার চাষিরাই সব্জি নিয়ে হাটে বসছেন। সরাসরি সব্জি বিক্রি করে বাড়তি মুনাফা পাচ্ছেন চাষিরা। অপরদিকে ক্রেতাদের দরাদরিতে বাজার চলতি দামের থেকেও চাষিরা একটু কম দামে সব্জি বিক্রি করছেন। এর ফলে সুবিধা হচ্ছে উভয়পক্ষের। 
Advertisement
অন্যান্য বছর নভেম্বরের শেষ সপ্তাহ থেকে সব্জির দাম নামতে শুরু করে। কিন্তু এবার সব্জির দাম অনেকটাই বেশি। খুচরো বাজারে বেশি দাম থাকার ফলে পাইকারি বাজারে চাষিরা নিজেরাই খেতের ফসল নিয়ে হাজির হচ্ছেন। বাজার চলতি দামের থেকে কিছুটা কম দামে তাঁরা ফসল বিক্রি করে ভালো মুনাফা করছেন। ইদানীং খুচরো বাজারে দামের ঠেলায় পাইকারি বাজার ঘুরে সব্জি কিনছেন সাধারণ মানুষ। এর ফলে মরশুমি সব্জি আগাম ফলিয়ে লাভবান হচ্ছেন গ্রামের চাষিরা। 
শীত পড়তেই ফুলকপি, বাঁধাকপি, গাজর, বিট ও মুলো ব্যাপক পরিমাণে বাজারে আসা শুরু হয়েছে। খুচরো বাজারে একটু বড় মাপের ফুলকপি ও বাঁধাকপি কিনতে ২৫ থেকে ৩০ টাকা খরচ হচ্ছে। তবে সাধারণ মাপের এক একটি কপি বিক্রি হচ্ছে ২০ টাকা দরে। পাইকারি বাজারে চাষিদের থেকে সেই কপি মিলছে ১২-১৫ টাকায়। অন্যান্যবার চাষিরা এই কপি খেত থেকে ৩-৪ টাকা দরে বিক্রি করেন। ফড়েরা সেই কপি কিনে বাজারের ব্যবসায়ীদের বিক্রি করে দ্বিগুণ ও তিনগুণ লাভবান হন। এবার চাষিরা নিজেরাই বাজার চলতি দামের থেকেও কমে কপি বিক্রি করে লাভ পাচ্ছেন। যাঁরা আগাম সিম চাষ করেছেন, তাঁরাও এখন লাভবান হচ্ছেন। খোলা বাজারে সিম বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকা কেজি দরে। পাইকারি বাজারে চাষিরা ৩০ টাকা দরে বিক্রি করছেন। পাশাপাশি খুচরো বাজারে বরবটি ৪০ টাকা, বেগুন ৫০ টাকা, টমেটো ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। চাষিরা এসব সব্জি কেজিপিছু ১০-১৫ টাকা দাম কমিয়ে সরাসরি বিক্রি করছেন বাজারে। খেত থেকে এইসব সব্জি বিক্রি করলে মোটেও এতটা দাম পান না চাষিরা। 
বহরমপুরের নতুন বাজারে সকালের দিকে অনেক চাষি খেত থেকে সব্জি এনে বিক্রি করেন। চাষের জমি থেকে সরাসরি বাজারজাত করায় বাড়তি মুনাফা হচ্ছে বলেই দাবি চাষিদের। বহরমপুরের মানকরার সব্জি চাষি বিকাশ মণ্ডল বলেন, অন্যান্য বছর এইসময় এক একটি কপি চার পাঁচ টাকায় বিক্রি করতাম। এখন পাইকারি বাজারে সেই কপি বিক্রি করছি ১২ থেকে ১৫ টাকায়। আগাম ফসল ফলিয়ে কিছুটা সুবিধা হয়েছে। খোলা বাজারে যা দাম, তার থেকে অনেকটাই কমে সব্জি দিতে পারছি। আগে খেত থেকে যাঁরা সব্জি নিয়ে যেতেন, তাঁরাই লাভবান হতেন। এখন আমরা একটু লাভের মুখ দেখতে পাচ্ছি। 
লালবাগের সব্জি চাষি নাজমুল হক বলেন, মটরশুঁটি ১৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে বিভিন্ন বাজারে। আমি আমার ক্ষেতের মটরশুঁটি বিক্রি করছি ১২০-১৩০ টাকা কেজি দরে। করলা বিক্রি হচ্ছে ৬০-৭০ টাকা কেজি দরে। আমি ৫০ টাকায় বিক্রি করছি। সাধারণ মানুষ সরাসরি কিনছেন। 
নতুন বাজারে সব্জি কিনতে এসে সমর গোলদার বলেন, সাধারণত স্বর্ণময়ী বাজার থেকে সব্জি কিনি। এখন খুচরো বাজারে যা সব্জির দাম, তাতে ৫০০ টাকা খরচ করেও ব্যাগ ভরছে না। তাই সারা সপ্তাহের জন্য নতুন বাজারে সব্জি কিনতে এসেছি। এখানে দেখছি অনেক চাষি খেত থেকে তুলে আনা টাটকা সব্জি বিক্রি করছেন। ওঁদের কাছে দাম তুলনামূলক কম। 
সম্পর্কিত সংবাদ