Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ফুচকার মতোই টপাটপ শিবরামের সেদ্ধ ডিম খেয়ে ফেলেন ক্রেতারা

ফুচকার মতোই টপাটপ শিবরামের সেদ্ধ ডিম খেয়ে ফেলেন ক্রেতারা
  • ১৮ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, বোলপুর: দূর থেকে দেখে মনে হবে ফুচকাওয়ালা ফুচকা বিক্রি করছে। কিন্তু কাছে যেতেই চক্ষু চড়কগাছ, ফুচকা কোথায়? এ তো আস্ত সেদ্ধ ডিম বিক্রি চলছে। ডিম বিক্রেতা দিচ্ছেন, আর মানুষজন টপাটপ গিলছেন। কেউ ছটা, কেউ সাতটা, কেউ আটটা। বোলপুরের চিত্রার মোড় গেলেই প্রতিদিন সন্ধ্যায় দেখতে পাওয়া যাবে এই চিত্র। হ্যাঁ, এখানে ফুচকার মতো করেই সেদ্ধ ডিম বিক্রি করেন বোলপুরের স্কুলবাগানের বাসিন্দ শিবরাম অধিকারী। ক্রেতাদের কাছে তিনি শিবু নামেই অধিক পরিচিত। সেই হাফ বয়েল ও সেদ্ধ ডিম খেতে প্রতিদিন কয়েকশো মানুষ তাঁর দোকানে ভিড় করেন। হাতে একটি ছোট্ট স্টিলের চামচ। তা দিয়েই বিদ্যুৎগতিতে ডিম ছাড়াতে পারেন শিবরাম। প্রতিদিন এমনি করেই প্রায় ছ’শো থেকে ৭০০ পর্যন্ত ডিম বিক্রি হয় তার দোকানে। ক্ষুধার্ত মানুষরা ডিম খেয়ে যেমন সন্তুষ্ট হন, তেমনই মাথার ঘাম পায়ে ফেলে উপার্জন করতে পেরে খুশি শিবরাম নিজেও। 
Advertisement
দারিদ্রকে সঙ্গী করেই শিবরামের বড় হয়ে ওঠা। সংসার চালাতে ১৯৯৭ সালে বোলপুরের চিত্রা সিনেমা হলের পাশে একটি খাবারের দোকান করেন শিবরামের বাবা কাশীনাথ অধিকারী। সাড়ে তিন ফুট বাই ছয় ফুটের সেই এক চিলতে দোকানে ডিম ও সান্ধ্য টিফিন পাওয়া যায়। বাবার শারীরিক সমস্যার কারণে বোলপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র শিবরাম সপ্তম শ্রেণিতে পড়ার সময় থেকেই দোকানের হাল ধরেন। তবে, এর মাঝে পড়াশোনাও চালিয়ে গিয়েছেন। যদিও কলেজের গণ্ডি আর পার করা হয়নি তাঁর। অভাবে তাড়নায় পড়াশোনা ছাড়তে হয়েছে। 
কী পাওয়া যায় শিবুর দোকানে? হাফ বয়েল ও সেদ্ধ ডিম, ডিমের কারি, ওমলেট ও হাত রুটি।‌ তবে শিবুর দোকানের জনপ্রিয় সেদ্ধ ডিমের জন্যই। ফুচকা বিক্রেতার কাছে যেমন শালপাতা ধরে ফুচকা প্রেমীরা গোল হয়ে দাঁড়ান। শিবরাম ঠিক একই পদ্ধতিতে ডিম বিক্রি করেন। স্টিলের চামচ দিয়ে ডিমের খোসা ছাড়াতে তার সময় লাগে মাত্র তিন থেকে চার সেকেন্ড। হাফ বয়েলের ক্ষেত্রে ডিমের ওপরের অংশ ছাড়ানোটাই শিবুর হাতের ক্যারিশমা। তাতে নুন ছিটিয়ে খোসা সমেতই ডিম তুলে দেন ক্রেতার হাতে। এরপর ক্রেতাকে পায় কে।‌ টপাটপ চলতেই থাকে— পাঁচটা, ছ’টা, সাতটা। ‌বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত প্রতিদিন ডিম বিক্রি হয় প্রায় ছ’শো থেকে ৭০০। ডিম বিক্রি করতে করতে তিনি বলেন বাঁধা খদ্দেররা রোজই ভিড় করেন বলে খুব ভালো লাগে। তবে সন্ধ্যায় যে ভিড় হয়, তা সামলাতে হিমশিম খেয়ে যাই। তবে মানুষের ভালোবাসায় সংসার ঠিকঠাক চলছে, এটাই আনন্দের।
সম্পর্কিত সংবাদ