নিজস্ব প্রতিনিধি, ফাঁসিদেওয়া (শিলিগুড়ি): কালেভদ্রে দেখা মেলে! পাঁচ বছরে এমন উপাধি জুটেছে ফাঁসিদেওয়ার বিজেপি বিধায়ক দুর্গা মুর্মুর। যা দিয়েছেন স্থানীয়রাই। একইসঙ্গে তাঁরা এমএলএ’র এলাকা উন্নয়ন তহবিলের টাকা খরচ নিয়েও তুলেছেন প্রশ্ন। তাঁদের অভিযোগ, ‘কুবেরের ধন’ পেয়েও কাজ করতে পারেননি বিধায়ক। তিনি মহকুমা পরিষদের বিরোধী দলনেতা বিজেপির অজয় ওরাওঁয়ের থেকেও উন্নয়নমূল কাজে পিছিয়ে রয়েছেন। বিজেপি বিধায়ক তথা প্রার্থী অবশ্য অভিযোগ মানতে নারাজ। তাঁর দাবি, সমস্তটাই অপপ্রচার।
শিলিগুড়ি মহকুমার তিনটি বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে নেপাল ও বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী ফাঁসিদেওয়া অন্যতম। চা বাগান ঘেরা এই কেন্দ্র খড়িবাড়ি ব্লকের চারটি ও ফাঁসিদেওয়া ব্লকের সাতটি মিলিয়ে মোট ১১টি গ্রাম পঞ্চায়েত নিয়ে গঠিত। একুশের নির্বাচনে এসটি সংরক্ষিত এই কেন্দ্রটি কংগ্রেসের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেয় বিজেপি। বিধায়ক হন দুর্গা। স্থানীয় মেজবানগছ গ্রামে তাঁর বাড়ি। এখন গ্রামে গ্রামে বিধায়কের ভূমিকা নিয়ে চলছে জোরচর্চা।
ফাঁসিদেওয়া বাজারে চায়ের দোকানে আড্ডা দেওয়ার সময় ছোটনা টুডু নামে চা বাগানের এক কর্মী বলেন, পাঁচ বছরে এখানে বিধায়ককে দেখা যায়নি। ফোনে যোগাযোগ করলেও তাঁর সাড়া মেলেনি। ঘোষপুকুর বাজারে কমল ঘোষ নামে এক ব্যবসায়ী বলেন, গত বিধানসভা ভোটের পর থেকেই উধাও হয়ে যান এমএলএ। ফোন করলেও তাঁকে সহজে পাওয়া যেত না। কখনো কখনো ফোন ধরলেই বলতেন, কলকাতায় রয়েছি।
শুধু ফাঁসিদেওয়া বাজার বা ঘোষপুকুর বাজার নয়, বিধাননগর, চটহাট, খড়িবাড়ি সহ বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দাদের কাছে থেকে এমন জবাব মিলেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ভোটের পর থেকে ‘ডুমুরের ফুল’ হয়ে যান দুর্গা। বিজেপির একাংশ এনিয়ে অস্বস্তিতে। পদ্ম শিবিরের পঞ্চায়েত স্তরের এক জনপ্রতিনিধি বলেন, বিধায়কের জায়গায় আমরা প্রক্সি দিয়েছি। দলের কর্মী-সমর্থকদের জন্য থানা, পুলিশের কাছে আমরা গিয়েছি। এখানকার তৃণমূল কংগ্রেসের কো-অর্ডিনেটর কাজল ঘোষ বলেন, এজন্যই স্থানীয়রা বিধায়কের উপাধি দিয়েছেন ‘অমাবস্যার চাঁদ’।
বিজেপির বর্তমান বিধায়ক তথা প্রার্থী দুর্গা অবশ্য বলেন, আমার সম্পর্কে অপপ্রচার করছে তৃণমূল। বিধানসভা থেকে ফিরেই এলাকায় পড়ে থাকতাম। কয়েকদিন আগেই আদিবাসী এক মহিলার উপর অত্যাচারের প্রতিবাদে আন্দোলন করেছি।
শুধু তাই নয়, বিধায়ক কোটার টাকায় এলাকায় উন্নয়নমূলক কাজ করা নিয়েও উঠছে বিস্তর প্রশ্ন। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, পাঁচ বছরে বিধায়কের পাওয়ার কথা ৩ কোটি ২০ লক্ষ টাকা। কিন্তু ১ কোটি ২০ লক্ষ টাকার বেশি বিধায়ক খরচই করতে পারেননি। তৃণমূলের কো-অর্ডিনেটর বলেন, এখানে বিধায়কের কাজ দূরবীন দিয়েও খুঁজে পাওয়া দুষ্কর।
স্থানীয়রা বলেন, বিধায়কের তুলনায় মহকুমা পরিষদের বিরোধী দলনেতা বিজেপিরই অজয় নিজের গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় তিন বছরে কোটি কোটি টাকার কাজ করেছেন। এবার তিনিও প্রার্থী পদের দাবিদার ছিলেন। অজয় বলেন, পিএমজিওয়াই, রাজ্যের পঞ্চম অর্থ কমিশন, কেন্দ্রের পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের প্রায় ২২-২৩ কোটি টাকার কাজ করেছি।
যদিও বিধায়কের দাবি, প্রশাসন অসহযোগিতা করলেও সোলার লাইট, পানীয় জল, রাস্তা সহ বেশকিছু প্রকল্প বাস্তবায়িত করেছি। প্রচুর প্রকল্পের প্রস্তাব জমা করেছি। সবকিছু না জেনে অনেকে হাওয়া গরমের চেষ্টা করছেন।