Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

পাহাড়ে পর্যটকের ঢল নামার প্রত্যাশা, হোটেলের প্রায় ৭০ শতাংশ রুম বুকিং

পাহাড়ে পর্যটকের ঢল নামার প্রত্যাশা, হোটেলের প্রায় ৭০ শতাংশ রুম বুকিং
  • ১৪ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: পরপর উৎসব। কমলা থেকে মেলো টি ফেস্ট। বড়দিন থেকে ইংরেজি নতুন বর্ষবরণ। দোসর হাড় কাঁপানো ঠান্ডা। তুষারপাতের প্রত্যাশা। সবমিলিয়ে জমজমাট দুই শৈল শহর-দার্জিলিং ও কালিম্পং। ইতিমধ্যে পাহাড়ের সিংহভাগ হোটেল ও লজের রুম বুকিং হয়েছে। ট্যুর অপারেটার ও হোটেল ব্যবসায়ীদের প্রত্যাশা-বড়দিন আসতে আসতে ফুল বুকিং হবে। অন্যদিকে, ঠান্ডায় কাঁপছে পাহাড় ও সমতল। গত ২৪ঘণ্টায় কোচবিহার এবং জলপাইগুড়িতে প্রায় ৩ থেকে ৪ডিগ্রি পারদ পতন হয়েছে। ঠান্ডায় শিলিগুড়িকে টেক্কা দিয়েছে এই দুই জেলা। তাদের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা শৈল শহর কালিম্পংয়ের আশপাশে।
Advertisement
শীত মানে কুয়াশার চাদরে ঘেরা পাহাড়। মাঝেমধ্যেই শাল ও পাইন গাছের মাথর উপর দিয়ে সূর্যের উঁকিঝুঁকি। সূর্যের আলোয় ঝকঝক করছে সবুজ চা বাগান। এমন আবহাওয়ার সঙ্গে একগুচ্ছ উৎসব অন্যমাত্রা যোগ করেছে পাহাড়ে। আজ, শনিবার কালিম্পংয়ে সূচনা হবে কমলা উৎসবের। তা রবিবার পর্যন্ত চলবে। এরপর ১৯ থেকে ২২ডিসেম্বর দার্জিলিং পাহাড়ে হবে মেলো টি ফেস্টিভ্যাল। এতে ম্যারাথন, ব্যান্ড, শর্ট ফ্লিম প্রতিযোগিতা এবং ট্রেকিং রয়েছে। শৈল শহরের পর্যটন শিল্পের বিকাশ এবং বিকল্প কর্মসংস্থানের সৃষ্টি করতেই এমন উৎসবের আয়োজন করছে দার্জিলিং জেলা পুলিস। তা শেষ হতে না হতেই বড়দিন এবং ইংরেজি নতুন বর্ষবরণ উৎসব। সর্বত্র সাজো সাজো রব। কালিম্পংয়ের জেলাশাসক বালাসুব্রহ্মণ্যম বলেন, তৃতীয় বর্ষ কমলা উৎসব নিয়ে জোর প্রস্তুতি নিয়েছি। উৎসবে ব্যাপক ভিড় হবে বলে মনে করছি। দার্জিলিংয়ের পুলিস সুপার প্রবীণ প্রকাশ বলেন, মেলো টি ফেস্টিভ্যাল নিয়ে ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ২৫০টি ব্যান্ড উৎসবে শামিল হবে। শর্ট ফ্লিম প্রতিযোগিতায় অংশ নেবে ৬০জন। আগামী ১৯তারিখ ভার্চুয়ালি উৎসবের উদ্বোধন করবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবারের উৎসবে স্থানীয়দের পাশাপাশি পর্যটকদের ঢল নামবে বলেই আশা করছি।
এখন পাহাড়মুখী পর্যটকরা। এতে ট্যুর অপারেটার ও হোটেল ব্যবসায়ীরা রীতিমতো উচ্ছ্বসিত। স্থানীয় সূত্রে খবর, দুই পাহাড়ে হোটেল, লজ ও হোমস্টের প্রায় ৭০শতাংশ রুম বুকিং হয়েছে। বড়দিন আসতে আসতে তা ১০০শতাংশ হবে বলে মনে হচ্ছে। ট্যুর অপারেটার সম্রাট সান্যাল বলেন, অনুকুল আবহাওয়া, তুষারপাতের প্রত্যাশা ও বিভিন্ন উৎসবের জেরে পাহাড়ে পর্যটকদের ভিড় বাড়ছে। এবার ব্যবসা ভালো হবে বলেই মনে হচ্ছে। বিভিন্ন প্রান্তের পর্যটকরাও পাহাড়ের আবহাওয়া সম্পর্কে নিয়মিত খোঁজ খবর নিচ্ছেন।
এদিকে, দিনের তাপমাত্রা বাড়লেও ভোরে ও সন্ধ্যায় ঠান্ডা এবং কুয়াশার দাপট অব্যাহত। শিলিগুড়ির তুলনায় কোচবিহার ও জলপাইগুড়িতে ঠান্ডার তীব্রতা বেশি। আবহাওয়া দপ্তর সূত্রের খবর, বৃহস্পতিবার কোচবিহার ও জলপাইগুড়ির সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল-১৩.১ থেকে ১৩.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। শুক্রবার তা নেমে দাঁড়িয়েছে কোচবিহার ৯.৭ এবং জলপাইগুড়িতে ১০.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যা শৈল শহর কালিম্পংয়ের আশপাশে। এদিন এখানকার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৯.৫ডিগ্রি সেলসিয়াস। দার্জিলিং ও শিলিগুড়ির সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল যথাক্রমে ১ এবং ১২.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
সম্পর্কিত সংবাদ