Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ফি বছর কেন কৃষ্ণনগরেই বইমেলা? অন্য স্থানেও আয়োজনের দাবি

ফি বছর কেন কৃষ্ণনগরেই বইমেলা? অন্য স্থানেও আয়োজনের দাবি
  • ২০ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, রানাঘাট: বুধবার থেকে কৃষ্ণনগরে শুরু হয়েছে নদীয়া জেলা বইমেলা। কিন্তু যেখানে জেলা বইমেলা ঘুরিয়ে ফিরিয়ে জেলার বিভিন্ন জায়গায় হওয়ার কথা, সেখানে প্রতিবার কৃষ্ণনগরেই কেন? আক্ষেপ নদীয়ার অন্যান্য অংশের বইপ্রেমীদের। বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক দীর্ঘদিনের হলেও, চলতি বইমেলা শুরু হতেই ফের মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে পুরোনো সেই বিতর্কই।।
Advertisement
নদীয়ার সদর শহর কৃষ্ণনগর হাওয়ায় জেলাতে তার গুরুত্ব যে সবচেয়ে বেশি তা বলাই বাহুল্য। কিন্তু সদর শহর ছাড়াও রানাঘাট, কল্যাণী, শান্তিপুর, নবদ্বীপের মতো শহরগুলিও নদীয়ার যথেষ্ট সমৃদ্ধ এবং উন্নত জনবহুল শহর। প্রায় প্রতিটি শহরেরই তাই ‹সুপ্ত› বাসনা রয়েছে বইমেলা আয়োজন করার। কিন্তু কেবলমাত্র সদর শহরেই জেলা বইমেলাকে ‘কুক্ষিগত’ করে রাখা হচ্ছে বলে দাবি অন্যান্য শহরের বইপ্রেমীদের। বছর দুয়েক আগে একবার শান্তিপুর পাবলিক লাইব্রেরির মাঠে এবং আরও আগে একবার রানাঘাটে হলেও পরবর্তীতে আর বইমেলার আয়োজন অন্যত্র হয়নি। 
বিষয়টি নিয়ে আক্ষেপের সুরে নদীয়ার বীরনগর এলাকার বইপ্রেমী বাসুদেব রায় বলেন, কৃষ্ণনগর জেলার সদর শহর হওয়ায় তার গুরুত্ব থাকবে এটাই স্বাভাবিক। বাকি শহরগুলিও তো জেলার অংশ। তাই জেলার একমাত্র সরকারি বইমেলা অন্তত কয়েক বছর অন্তর অন্য শহরে করাই যায়। কিন্তু প্রতি বছর নদীয়া জেলা বইমেলা কৃষ্ণনগর পাবলিক লাইব্রেরির মাঠেই হচ্ছে। এটা কাম্য নয়। 
বুধবার রানাঘাটের স্থানীয় উদ্যোগে আয়োজিত একটি বইমেলার মঞ্চে দাঁড়িয়েই বিষয়টি নিয়ে আক্ষেপ করলেন খোদ রানাঘাট পুরসভার চেয়ারম্যান কোশলদেব বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, কেন নদীয়া জেলা বইমেলা আয়োজন করার সুযোগ পাব না আমরা? জেলার অন্যতম বড় শহর রানাঘাট। একইভাবে কল্যাণীও রয়েছে। অথচ প্রতিবছর সেই বইমেলা শুধুমাত্র কৃষ্ণনগরে হয়। মাঝে মধ্যে আমরা যদি সুযোগ পাই তাহলে নদীয়া দক্ষিণের বইপ্রেমীরা খুশি হন। চাহিদা মেটাতে আমাদের আলাদা আলাদা বইমেলার আয়োজন করতে হয়। আমরা এই ব্যবস্থার পরিবর্তন চাই। 
যদিও বিষয়টি নিয়ে নদীয়া জেলায় অতিরিক্ত জেলাশাসক প্রলয় রায়চৌধুরী বলেন, ‘বইমেলা আয়োজন করার জন্য আমরা অন্য কোনও জায়গা থেকে আবেদন পাইনি‌। লোকাল লাইব্রেরি অথরিটি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’ প্রসঙ্গত, প্রশাসনের একটি অংশের আবার দাবি, কেবলমাত্র বইমেলা করলেই হল না তাতে বই কীরকম বিক্রি হচ্ছে সেটিও দেখার বিষয়। বছর দুয়েক আগে শান্তিপুরে আয়োজন হলেও দেখা গিয়েছে বইয়ের বিক্রি সেভাবে হয়নি। তাছাড়া কৃষ্ণনগর ভৌগোলিকভাবে জেলার ঠিক মাঝখানে। ফলে তেহট্টের মানুষ যেমন আসতে পারেন এখানে, তেমন চাইলে কল্যাণীর থেকে লোকজনও আসতে পারবেন। কিন্তু কল্যাণীতে বইমেলার আয়োজন হলে তেহট্টের মানুষের পক্ষে যাওয়া মোটেও সহজ নয়।
সম্পর্কিত সংবাদ