সংবাদদাতা, কাটোয়া: কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালে আউটডোরে খোদ সুপারের সঙ্গেই তর্কে জড়ালেন প্রথম বর্ষের এক পিজিটি। আসলে হাসপাতালে পিজিটিদের বিরুদ্ধে অভিযোগের দীর্ঘ তালিকা। মর্জিমাফিক তাঁরা আউটডোরে আসছেন। তাই নিয়ে বলার জন্য সুপারের সঙ্গে অভব্য আচরণ করার অভিযোগ উঠল এক হবু চিকিৎসকের বিরুদ্ধে। প্রসূতিরা যন্ত্রণায় কাতরালেও পিজিটিরা ঠিকমতো দেখভাল করছেন না। মঙ্গলবার দুপুরে আউটডোরে সময়মতো পিজিটি না আসায় আচমকা দেখতে গিয়েছিলেন সুপার। তখনই তাঁর সঙ্গে ‘অভব্য আচরণ’ করার অভিযোগ ওঠে এক পিজিটির বিরুদ্ধে।
কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালের সুপার বিপ্লব মণ্ডল বলেন, আমার কাছে কয়েকদিন ধরেই অভিযোগ আসছিল, পিজিটিরা ঠিকমতো ডিউটি করছেন না। এদিন আমি আউটডোর থেকে মহিলা ওয়ার্ড সব জায়গাতেই ভিজিট করে অভিযোগ খতিয়ে দেখতে গিয়েছিলাম। কিন্তু আউটডোরে একজন প্রথম বর্ষের পিজিটি দেরি করে আসেন। এদিকে রোগীদের লম্বা লাইন। আমি পিজিটিকে বলতেই তিনি আমার সঙ্গে তর্ক ও বাগবিতণ্ডা শুরু করে দেন। ওয়ার্ডেও রোগীরা আমার কাছে অভিযোগ করছেন যে, পিজিটিরা ঠিকমতো আসছেন না। আমি এবার থেকে প্রত্যেক পিজিটির সাপ্তাহিক হাজিরা রিপোর্ট তৈরি করে জেলা স্বাস্থ্যদপ্তরে পাঠাব।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, হাসপাতালের প্রসূতি বিভাগে ৫ জন স্ত্রী রোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক রয়েছেন। আর প্রথম ও দ্বিতীয় বর্ষে দু’জন করে পোস্ট গ্রাজুয়েট ট্রেনি বা পিজিটি রয়েছেন মোট চারজন। হাসপাতালের দাবি, কাটোয়ায় এখন ৪১ জন প্রসূতি ভর্তি রয়েছেন। গড়ে প্রতিদিন প্রায় ১৪ থেকে ১৫টি করে প্রসব হয়। নিয়ম অনুযায়ী দেখভাল করাই পিজিটিদের কাজ। অভিযোগ, সেখানে কোনও পিজিটিই জরুরি ফোন কল ছাড়া হাসপাতালে পা দেন না। আউটডোরেও মর্জিমাফিক বসছেন। বলতে গেলেই সুপারের সঙ্গে তর্কে জড়াচ্ছেন। সুপারের দাবি, রাজ্য সরকার পিজিটিদের মধ্যে স্ত্রী রোগ সংক্রান্ত পড়ুয়াদেরই দু’বছরের জন্য মহকুমা স্তরের হাসপাতালগুলিতে পাঠান। এতে স্ত্রী রোগ বিশেষজ্ঞদের কাজে সহায়তা করা হবে। প্রসূতি মৃত্যুও ঠেকানো যাবে। অভিযোগ, কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালে পিজিটিদের কাজে অবহেলার কথা এবার সিএমওএইচকে জানাবেন সুপার। এদিন সুপারের সামনেই প্রসূতিরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। তাঁরা রীতিমতো ক্ষোভ প্রকাশ করে বলছেন, চিকিৎসকরা ঠিকমতো আসছেন না। সারাদিন অসুস্থ বোধ করলেও কাউকে পাওয়া যায় না। তাই এবার পিজিটিদের কাজের খতিয়ান জেলা স্বাস্থ্যদপ্তরে পাঠাবে হাসপাতাল। তারা কোন সময়ে, কতক্ষণ হাসপাতালে আসছেন, তার পুরো রিপোর্ট তৈরি করা হচ্ছে।
কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালে এই মুহূর্তে প্রসূতি, পুরুষ, মহিলা, শিশু সহ মোট ২৮৬টি শয্যার অনুমোদন রয়েছে। কিন্তু হাসপাতালের ভিতরে জায়গা অপরিসর থাকায় ২৫৬টি শয্যা রয়েছে। তাছাড়া কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালের উপর পূর্ব বর্ধমান, নদীয়া, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ প্রভৃতি জেলার একাংশ নির্ভরশীল। ধীরে ধীরে কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালের পরিকাঠামো উন্নত হচ্ছে। আনা হচ্ছে আধুনিক যন্ত্রপাতি। আগেই হাসপাতালে মুমূর্ষু রোগীদের জন্য তৈরি হয়েছে এইচডিইউ বিভাগ। রোগীদের চাপ সামলাতে হিমশিম খেতে হয় চিকিৎসকদের। কিন্তু পিজিটিদের এমন আচরণে পরিষেবা নিয়েই প্রশ্ন উঠে যাচ্ছে।