বিশ্বজিৎ দাস, কলকাতা:
বিশ্বজিৎ দাস, কলকাতা:
পিজি হাসপাতালের প্রাইভেট কেবিন বিশিষ্ট নতুন হাসপাতাল ‘অনন্য’-কে পৃথকভাবে কোনও অর্থসাহায্য করবে না রাজ্য। প্রাইভেট কেবিন ভাড়া সহ রোগীদের চিকিৎসার বিল থেকেই নিজেদের খরচ তুলতে হবে তাদের। অর্থাৎ, পিজির এই বাজেট হাসপাতাল পরিচালনার জন্য সরকার কোনও ভরতুকি দেবে না। খরচ জোগাড়ে সম্পূর্ণ স্বাবলম্বী হয়ে চলতে হবে। এই প্রথম রাজ্যের কোনও হাসপাতাল তথা সরকারি স্বাস্থ্যব্যবস্থায় এই ধাঁচের আর্থিক মডেল চালু হল। বৃহস্পতিবার এক নির্দেশনামা জারি করে এই কথা জানিয়েছে রাজ্য। পাশাপাশি ইনডোর কেবিন ভাড়ার বিস্তারিত তালিকা এবং আউটডোরের খরচও জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনামার দ্বিতীয় পয়েন্টে সাফ বলে দেওয়া হয়েছে, ‘অনন্য’ চলবে ‘সেলফ সাসটেইনিং’ ধাঁচে। দেওয়া হবে না কোনও ধরনের সরকারি ভরতুকি বা আর্থিক সাহায্য। নিজস্ব আয় থেকেই যাবতীয় খরচ মেটাতে হবে তাদেরকেই।
প্রসঙ্গত, কিছুদিন আগে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় উডবার্ন ওয়ার্ডের ধাঁচে পিজি হাসপাতালে প্রাইভেট কেবিন বিশিষ্ট এই বাজেট হাসপাতালের উদ্বোধন করেছেন। পিজি কর্তৃপক্ষের কাছে সেখানকার কেবিনগুলির বেড ভাড়া শুনে তিনি ভাড়া কমাবেন বলে কথা দিয়েছিলেন। বৃহস্পতিবারের নির্দেশনামায় ‘অনন্য’তে বেড ভাড়ার বিস্তারিত তালিকা তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে মমতার কথামতো সিঙ্গল অকুপেন্সি কেবিনের ভাড়া রাখা হয়েছে দৈনিক ৫ হাজার টাকা। স্যুইটের ভাড়া রাখা হয়েছে রোজ ৮ হাজার টাকা। এইচডিইউ’র ভাড়া (ভেন্টিলেটর বা বাইপ্যাপ মেশিন খরচ বাদে) রাখা হয়েছে দৈনিক ১২ হাজার টাকা। সমস্ত খরচ নিয়ে আইসিইউ’র এক দিনের ভাড়া থাকবে ১৫ হাজার টাকা। নির্দেশে আরও জানানো হয়েছে, এখানকার আউটডোরে ডাক্তার দেখানোর খরচ পড়বে ৩৫০ টাকা। ৩০০ টাকা পাবেন চিকিৎসক। পিজি ৫০ টাকা পাবে প্রশাসনিক খরচ হিসেবে। তবে দুপুর ৩টে থেকে সেখানে আউটডোর চলবে সপ্তাহের প্রতিটি কাজের দিনে। হাসপাতাল সূত্রে খবর, ‘অনন্য’র আয়ের ২০ শতাংশ পাবেন (ওষুধ, টেস্ট বাদে) কর্মরত সরকারি চিকিৎসকরা। প্রধানত বেড ভাড়া ও অপারেশন বা প্রসিডিওর খরচ থেকে আসবে তাঁদের আয়ের অংশ।
২০২৩ সালের ২৩ নভেম্বর প্রকল্পটি শুরু হয়। ১০ তলা বাড়ির সর্বোচ্চ তলে আছে ৮টি ভিআইপি স্যুইট। বাকি হাসপাতালজুড়ে আছে ১০২টি সুসজ্জিত কেবিন। আইসিইউ, অপারেশন থিয়েটারের অংশ বাদে প্রতিটি তলে রয়েছে ১৭টি কেবিন। সব মিলিয়ে ১১০টি কেবিন ছাড়াও আছে ৫টি এইচডিইউ এবং ১৬টি আইসিইউ বেড। কয়েকটি রিকভারি বেডও থাকছে। অক্টোবরের শেষ সপ্তাহে চালু হবে আউটডোর। নভেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে প্রথম ধাপে চালু হবে একটি তল অর্থাৎ ১৭টি কেবিন। কেবিন ভাড়ার মধ্যে চিকিৎসকদের ফিজ ও খাওয়াদাওয়ার খরচ ধরা থাকছে। তবে তাতে থাকছে না রোগপরীক্ষা ও ওষুধের খরচ। অপারেশন হবে প্যাকেজে। স্বাস্থ্যসাথী কার্ডের মাধ্যমে হাসপাতালের খরচ মেটানো যাবে বলেও জানিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী।