Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

ঠাট্টার নামে গায়ে ছোড়া হল পেট্রোল! অগ্নিদগ্ধ অটোচালক

কালীপ্রতিমা বিসর্জন দিয়ে ফেরার পর এক ব্যক্তির অগ্নিদগ্ধ হওয়ার ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে দক্ষিণ দমদমের বেদিয়াপাড়ায়।

ঠাট্টার নামে গায়ে ছোড়া হল পেট্রোল! অগ্নিদগ্ধ অটোচালক
  • ২৪ অক্টোবর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: কালীপ্রতিমা বিসর্জন দিয়ে ফেরার পর এক ব্যক্তির অগ্নিদগ্ধ হওয়ার ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে দক্ষিণ দমদমের বেদিয়াপাড়ায়। বৃহস্পতিবার ভোরের ওই ঘটনায় অগ্নিদগ্ধ রঞ্জিত কর্মকার বর্তমানে আর জি কর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। পেশায় তিনি একজন অটোচালক। তাঁর পিঠের একাংশ পুড়ে গিয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, তাঁর গায়ে পেট্রোল ঢেলে পুড়িয়ে মারার চেষ্টা হয়েছে। যদিও এনিয়ে থানায় কোনও লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়নি। পুলিশ খবর পেয়ে অগ্নিদগ্ধ রঞ্জিতের সঙ্গে কথাও বলেছে। প্রাথমিক তদন্তে তারা জেনেছে, বন্ধুদের হাসিঠাট্টার মধ্যেই কেউ তাঁর গায়ে পেট্রোল ছিটিয়ে দিয়েছিল। অপর এক যুবক সিগারেট ধরানোর জন্য দেশলাই জ্বালাতেই আগুন ধরে যায় তাঁর গায়ে। কমিশনারেটের তরফে জানানো হয়েছে, অভিযোগ দায়ের হলে আইনানুগ পদক্ষেপ করা হবে। 

Advertisement

দক্ষিণ দমদম পুরসভার ১১ নম্বর ওয়ার্ডের বেদিয়াপাড়া তারকনাথ কলোনি এলাকায় ছোটো ছোটো অনেক কালীপুজো হয়েছে। বাড়ির পাশের একটি কালীপুজোয় রঞ্জিতবাবু সহ বাকিরা একসঙ্গে হইহুল্লোড়ও করেছেন। ভাইফোঁটার জন্য প্রত্যেকের বাড়িতেই এসেছে আত্মীয়স্বজন। বুধবার মধ্যরাতে পাড়ার বাসিন্দা ও তাঁদের আত্মীয়রা মিলে ম্যাটাডর ও বাইকে প্রতিমা নিরঞ্জনে যান। রতনবাবুর ঘাটে প্রতিমা নিরঞ্জনের পর ভোর সাড়ে ৪টে নাগাদ তাঁরা সকলে বাড়ি ফেরেন। তারপর রঞ্জিতবাবু ও পাড়ার কয়েকজন বন্ধুবান্ধব একটি জায়গায় বসে গল্প করছিলেন। স্থানীয়দের দাবি, নিরঞ্জন সেরে ফেরার পর জানা যায়, একটি বাইকের তেল শেষ হয়ে গিয়েছে। ওই বাইকে তেল দেওয়ার জন্য অন্য একটি বাইক থেকে কিছুটা তেল বের করা হয়েছিল। তা নিয়ে ঠাট্টা চলার সময় কেউ রঞ্জিতবাবুর পিঠে পেট্রোল ছুড়ে দিয়ে। এটা কী ধরনের মজা, প্রশ্ন তুলে কিছুটা রাগারাগিও করেন রঞ্জিতবাবু। কিছু সময় পর সেখানে থাকা আরেক যুবক সিগারেট ধরানোর জন্য দেশলাই ধরাতেই আগুন লেগে যায় রঞ্জিতবাবুর পিঠে। সঙ্গে সঙ্গে পাড়ার বাসিন্দারা আগুন নিভিয়ে তাঁকে আর জি কর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান।
রঞ্জিতবাবুর শাশুড়ি মনা দাস বলেন, ‘আমার বড় জামাইয়ের গায়ে পেট্রোল ঢেলে পোড়ানোর চেষ্টা হয়েছে। জামাইয়ের পিঠ থেকে নীচের দিকে অনেকটা ঝলসে গিয়েছে।’ স্থানীয়দের একাংশের দাবি, অভিযুক্তরা শাসক দলের নেতাদের ঘনিষ্ঠ।
স্থানীয় কাউন্সিলার তথা পুরসভার সিআইসি (ওয়াটার) মৃন্ময় দাস বলেন, ‘আমি আক্রান্তের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছি। উনি আমায় জানিয়েছেন, বিসর্জন থেকে ফিরে মজা-ঠাট্টা চলছিল। একটি বাইক থেকে অন্য বাইকে তেল ঢোকানো হচ্ছিল। সেই সময় তার পিঠে পেট্রোল ছুঁড়ে দেওয়া হয়। পরে সিগারেট ধরাতে গিয়ে এই ঘটনা ঘটেছে। ঘটনাস্থলে থাকা পাঁচজনের নামও তিনি বলেছেন। আমি চাই, আইন আইনের পথে চলুক। পুলিশ কড়া পদক্ষেপ করুক।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ