নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের প্রাণপুরুষ নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু। তাইহোকু বিমান দুর্ঘটনায় নেতাজির ‘মৃত্যু’ নিয়ে বহুকাল থেকেই বির্তক চলছে। বিষয়টি তাঁর পরিবারের একাংশ স্বীকার করলেও অনেকেই তা মানেননি। এর মধ্যে জাপানের রেনকোজি মন্দিরে রাখা নেতাজির ‘চিতাভস্ম’ দেশে ফেরানোর আর্জি জানিয়েছেন ‘কন্যা’ অনীতা পাফ। তারই প্রতিবাদে গবেষকদের আহ্বানে বৃহস্পতিবার কলকাতায় আয়োজিত হল প্রতিবাদ সভা। এদিনের অনুষ্ঠানে নেতাজির নাতনি এবং গবেষকরা দাবি করেন, বিমান দুর্ঘটনায় যাঁর মৃত্যুর কোনও সুনির্দিষ্ট প্রমাণ নেই, তাঁর চিতাভস্ম এল কোথা থেকে? ভুয়ো চিতাভস্ম দেশে ফেরানোর আর্জির বিরুদ্ধে তাঁরা তীব্র প্রতিবাদ জানান।
নিয়ম মেনে লন্ডনের ন্যাশনাল আর্কাইভ থেকে ১৯৫৬ সালের তাইওয়ান সরকারের রিপোর্ট কলকাতায় নিয়ে আসেন গবেষক সৈকত নিয়োগী এবং সৌম্যব্রত দাশগুপ্ত। গত ২৯ মে তাঁরা কলকাতায় সেই রিপোর্ট প্রকাশ করেন। যেখানে বিমান দুর্ঘটনায় নেতাজির মৃত্যুর প্রমাণ মেলেনি বলে দাবি করা হয়েছিল। ওই দুই গবেষকসহ বেশ কয়েকজন গবেষকের ডাকেই এদিন কলকাতার মহাবোধি সোসাইটিতে চিতাভস্মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ সভার আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে নেতাজির নাতনি তথা মেজদা শরৎচন্দ্র বসুর বড় ছেলে অশোকনাথ বসুর কন্যা জয়ন্তী রক্ষিত, নেতাজি অনুগামী তথা সারা ভারত ফরওয়ার্ড ব্লকের সাধারণ সম্পাদক জি দেবরাজন, বিচারক তথা লেখক বিপ্লব রায়, প্রবীণ সাংবাদিক তরুণ গোস্বামীসহ অনেকেই উপস্থিত ছিলেন।
গবেষক সৈকত ও সৌম্যব্রত বলেন, নেতাজির স্বঘোষিত কন্যা ভুয়ো চিতাভস্ম ভারতে আনতে চাইছেন। জানুয়ারি মাসে তা আনার আর্জি জানানো হয়েছে। এটা একটা গভীর ষড়যন্ত্র। বিমান দুর্ঘটনার নেতাজির মৃত্যুর কোনও প্রমাণ নেই! তাই আমরা প্রতিবাদে নেমেছি। মঞ্চে উঠে নেতাজির নাতনি জয়ন্তীদেবী বলেন, ‘চিতাভস্ম’ ভারতে আনার তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি। আমার বাবা স্বর্গীয় অশোকনাথ বসু, আমার ঠাকুরদা নেতাজির মেজদা শরৎচন্দ্র বসু কোনওদিন ওই বস্তুটিকে নেতাজির চিতাভস্ম বলে মানেননি। তাই নেতাজি পরিবারের তরফ থেকে আমরা এই চিতাভস্ম আনার তীব্র প্রতিবাদ করছি।