Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বড়ঞা সহ মুর্শিদাবাদের বিভিন্ন এলাকায় কবিগানের প্রতি মানুষের আগ্রহ বাড়ছে

বড়ঞা সহ মুর্শিদাবাদের বিভিন্ন এলাকায় কবিগানের প্রতি মানুষের আগ্রহ বাড়ছে
  • ২২ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, বহরমপুর: ভাটা পড়া কবিগানে ফের জোয়ার এসেছে। কয়েক বছর ধরে গ্রাম বাংলায় প্রায় প্রতিটি গ্রামেই কবিগানের আসর বসছে। কবিগানের প্রতি মানুষের আগ্রহ বাড়ায় শিল্পী ও সহশিল্পীরা কবিগানের স্বর্ণযুগের প্রতীক্ষা করছেন। তবে প্রবীণ কবিয়ালদের দাবি, বর্তমানে বহু শিল্পী কবিগানে বাউল, কীর্তন, আধুনিক গানের মিশ্রণ ঘটানোয় প্রাচীন লোকসঙ্গীত তার মূল ধারা থেকে সরে যাচ্ছে। কবিগানের ঘরানা বদল আগামী দিনের পক্ষে অশনি সংকেত। আধুনিকতার প্রভাব খাটিয়ে কবিগানের আকর্ষণ কতদিন ধরে রাখা সম্ভব তা নিয়ে অনেকেই সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। 

Advertisement

গুজ লাগুই, হরু ঠাকুর বাংলায় কবিগানের প্রচলন ঘটিয়েছিলেন। হরু ঠাকুরের শিষ্য ভোলা ময়রা পরবর্তীতে বাংলায় কবিগানকে জনপ্রিয়তার শীর্ষে নিয়ে গিয়েছিলেন। ভোলা ময়রার সময়কালে সঙ্গীতপ্রিয় অ্যান্টনি ফিরিঙ্গি বাংলায় নুনের ব্যবসা করতে এসে কবিগানে আকৃষ্ট হন। অ্যান্টনি সাহেব বাংলা শিখে কবিগান রপ্ত করে ভোলা ময়রার সঙ্গে পাল্লা দিয়েছিলেন বলে কবিয়ালদের দাবি। ভোলা ময়রা, অ্যান্টনি ফিরিঙ্গির সময়কালকেই বাংলায় কবিগানের স্বর্ণযুগ হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। কবি পালায় দুই শিল্পীর সঙ্গে ঢোল বাদক ও সঙ্গতকার থাকেন। একপক্ষ ধর্ম অন্যপক্ষ অধর্ম, এক কবিয়াল নারী, অন্যজন পুরুষ, একজন ভক্ত অপরজন ভগবান এমন চরিত্র নিয়ে শুরু হয় গানে গানে যুক্তি তর্কের খেলা। যুক্তি পাল্টা যুক্তি যত ক্ষুরধার হয় শ্রোতারা তত মজা নেন। মাঝে কিছুদিন প্রাচীন লোকশিল্পে ভাটা পড়েছিল। শিল্পীরা বায়না পেতেন না। চর্চা ও পালাগানের অভাবে কার্যত শিল্পীদের মগজাস্ত্র ভোঁতা হতে শুরু করেছিল। ফের কবিগানের সুদিন ফিরতে শুরু করেছে। চৈত্র, বৈশাখ মাসে অধিকাংশ গ্রামে হরিবাসর, নাম সংকীর্তনের আসর বসে। আর এই সব হরিবাসর কবিগানের আসর দিয়েই শেষ হচ্ছে। গত শনিবার বড়ঞা ব্লকের গৌরিনগরে কবিগানের আসর বসেছিল। পরদিন তার পাশের গ্রাম পারশালিকায় অন্য দুই শিল্পীর কবিগানের আসর জমে উঠেছিল। আজ সোমবার বড়ঞা ব্লকের কড়ালিতলায় বসছে কবির আসর। পারশালিকায় কবিগান গাইতে এসে নদীয়ার কবিয়াল তুফান বিশ্বাস বলেন, কবিগানের সুদিন ফিরছে। তবে গুজ লাগুই, হরু ঠাকুর, ভোলা ময়রার যুগের কবিগানের ধারার বদল ঘটছে। কবিগানে অন্যগানের অনুপ্রবেশ ঘটায় এই শিল্প কতদিন টিকে থাকবে তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। তুফানবাবুর বিপরীতে ছিলেন বীরভূম জেলার কবিয়াল মিলি দাস। মিলি দাস বলেন, বাংলায় প্রচুর মহিলা কবিয়াল রয়েছেন। আমি অল্প বয়স থেকেই কবিগানের চর্চা করছি। আধুনিক শ্রোতাদের ধরে রাখতে, তাঁদের মজিয়ে রাখতে কবিগানেও ভিন্ন গানের মিশ্রণ ঘটাতে আমরা বাধ্য হচ্ছি। শ্রোতারাও তা ভালোভাবে নিচ্ছেন। কবিগানের প্রবীন শ্রোতা গোলকবিহারী ঘোষ বলেন, কবিগানে শাস্ত্র আলোচনার মধ্য দিয়ে লোকশিক্ষা হয়। প্রচুর জ্ঞান অর্জন করা যায়।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ