নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: গভীর সংকটে দেশের অর্থনীতি। তার থেকেও বেশি আম জনতা। সেই ইঙ্গিত মিলল রিজার্ভ ব্যাংকের সাম্প্রতিক রিপোর্টে। তাতে বলা হয়েছে, একান্ত প্রয়োজনীয় কেনাকাটার বাইরে অপ্রয়োজনীয় এবং বিলাসদ্রব্য ক্রয়ের সূচক এক ধাক্কায় অনেক কমে গিয়েছে। একইভাবে কমেছে দেশের অর্থনীতি এবং আর্থিক লেনদেনের উপর আম জনতার বিশ্বাসের সূচক। সামগ্রিক পরিবার, গৃহস্থ এবং একক— তিনটি ক্ষেত্রের সমীক্ষাই বলছে, কমে যাচ্ছে ক্রেতাদের আর্থিক স্বাচ্ছন্দ্যের বিশ্বাস। এক বছর আগের তুলনায় তো বটেই, এমনকী সেই প্রবণতা ক্রমবর্ধমান। অর্থাৎ কমেই চলেছে। মার্চ মাসে রিয়েল প্রাইভেট কনজাম্পশনের সূচক ছিল ৭। মে মাসে তা কমে হয়েছে ৬.৮। আবার ২০২৫ সালের মে মাসে যে কনজিউমার সেন্টিমেন্ট সূচক ছিল ৯.৩, সেটিই গত মাসে হয়েছে ৭.৫।
এক ধাক্কায় ক্রেতাদের বিশ্বাসের এই সূচক এবং ক্রয়ক্ষমতা তথা প্রবণতা কমে যাওয়ার অর্থ মানুষের হাতে
উদ্বৃত্ত অর্থ থাকছে না। এই সূচক তখনই বৃদ্ধি পায়, যখন আম জনতা নিজের নিত্যপ্রয়োজনীয় তথা অত্যাবশ্যকীয় পণ্য কেনাকাটার বাইরেও কিছু অপ্রয়োজনীয় পণ্য কেনে। অর্থাৎ শখের জিনিসও ক্রয় করে। কারেন্ট সিচুয়েশন ইনডেক্স ৯৫ থেকে কমে হয়েছে ৯০। ভবিষ্যতে আবার অর্থের আমদানি হবে, আগামী দিনে আয় বাড়বে, সঞ্চয় বৃদ্ধি পাবে, সাশ্রয় হবে কিছুটা ইত্যাদি আশাকে বলা হয়ে থাকে ফিউচার এক্সপেকটেনশন ইনডেক্স। সেটিও দেড় পয়েন্ট কমে গিয়েছে।
রিপোর্টে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক বলেছে, এই পরিস্থিতির জন্য সাধারণ মানুষ সবথেকে বেশি মূল্যবৃদ্ধিকেই দোষারোপ করেছে। আর দ্বিতীয় কারণ কর্মসংস্থান। যে শিক্ষাগত যোগ্যতা ও ডিগ্রি আছে, তার সঙ্গে সঙ্গতি
রেখে চাকরি ও কর্মসংস্থান হচ্ছে না। আবার অন্যদিকে, বিগত কয়েক বছর ধরে সংসার খরচ করে যে অর্থ সাশ্রয় করা যাচ্ছিল, সেটি আর করা যাচ্ছে না। অথচ নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে যাচ্ছে। সেই কারণেই অপ্রয়োজনীয় বিলাসদ্রব্য ক্রয়, ভ্রমণ, হোটেল-রেস্তরাঁয় খাওয়ায় কোপ পড়েছে। সবথেকে আশঙ্কার হল, সংসার খরচ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং পরিবহণ বাবদ প্রত্যেক মাসে যে ব্যয় হচ্ছে, তার বাইরে গিয়ে অন্যকিছুর কথা ভাবতেই পারছেন না সাধারণ মানুষ। নিট ফল? কনজিউমার স্পেন্ডিং সূচক ৭৮ থেকে কমে হয়েছে ৭৪। সোজা কথায় অর্থনীতি চরম শঙ্কায় আম জনতা।