নয়াদিল্লি: দীর্ঘ টানাপোড়েনের পরে যুদ্ধ শেষের ইঙ্গিত। সব ঠিক থাকলে ১৯ জুন স্বাক্ষরিত হবে আমেরিকা-ইরানের শান্তিচুক্তি। কাটবে হরমুজের জটিলতাও। বিশেষজ্ঞদের কথায়, এই শান্তিচুক্তি স্বস্তি আনবে সাধারণের জীবনেও। হেঁশেল থেকে তেলের পাম্প, বিমান পরিষেবা এমনকী ব্যাংক ঋণের মাসিক কিস্তি (ইএমআই)-বিভিন্ন ক্ষেত্রেই এর প্রভাব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বেশ কয়েকমাস ধরেই জ্বালানি সংকটে ভুগছে গোটা বিশ্ব। মার খাচ্ছে ব্যবসাও। এই পরিস্থিতিতে তেল ও গ্যাস পরিবহণের লাইফলাইন হরমুজ খোলার পাশাপাশি ইরানি তেলে নিষেধাজ্ঞা উঠলে বড়োসড়ো স্বস্তি পাবে আন্তর্জাতিক বাজার। ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক বাজারে অশোধিত তেলের দর একধাক্কায় অনেকটাই কমেছে। ব্রেন্ট ক্রডের দাম সোমবার ৫ শতাংশ কমে হয় প্রতি ব্যারেলে ৮২.৮৪ ডলার। গত ১০ মার্চের পর দর এতটা নামল। জ্বালানির দর নিম্নমুখী হওয়ায় পরিবহণ ও উৎপাদন খরচে সুরাহা মিলতে পারে। সস্তা হবে খাবার থেকে শুরু করে নিত্য প্রয়োজনীয় যাবতীয় জিনিস। বিশ্বব্যাপী ইউরিয়া রপ্তানিতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রয়েছে পশ্চিমের দেশগুলির। হরমুজ সংকট কাটলে সারের বাজারও চাঙ্গা হবে। রান্নার গ্যাস নিয়ে মধ্যবিত্তের সংসারে ভোগান্তির অন্ত নেই। জোগানে বাধা কাটলে এক্ষেত্রে স্বস্তি মিলতে পারে। উপকৃত হতে পারে ছোটো খাবারের দোকান সহ বড়ো রেস্তরাঁও। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই বিমান পরিষেবায় ব্যাঘাত ঘটেছে। ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জেরে পশ্চিম এশিয়ার একাধিক দেশে বারবার আকাশসীমা বন্ধ করতে হয়েছে। বিমানের জ্বালানির সমস্যাও চরমে। এবার অপরিশোধিত তেলের দাম নিম্নমুখী থাকলে অ্যাভিয়েশন টারবাইন ফুয়েল তথা এটিএফের দাম কমবে। ফলে বিমানের ভাড়া কমার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের কথায়, সামগ্রিকভাবে এটি মুদ্রাস্ফীতির উপরও প্রভাব ফেলবে। অর্থনৈতিক পরিস্থিতি অনুকূল হলে সুদের হারে ইতিবাচক পরিবর্তন হতে পারে। কমতে পারে ইএমআইও। আপাতত ১৯ তারিখের দিকে তাকিয়ে সবাই।



