বাপ্পাদিত্য রায়চৌধুরী, কলকাতা: পিএফে ন্যূনতম পেনশন বৃদ্ধি নিয়ে অনড় মনোভাব দেখিয়ে চলেছে কেন্দ্রীয় সরকার। একাধিক কমিটি পেনশন বৃদ্ধির পক্ষে সওয়াল করলেও তোয়াক্কা করেনি অর্থমন্ত্রক। বিরোধীরা তো বটেই, বিজেপি সাংসদদের একাংশ এনিয়ে প্রতিবাদে সরব হলেও আমল দেয়নি কেন্দ্র। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি একাধিকবার পেনশন বৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি দিলেও, তা কার্যকর হয়নি। তা নিয়ে দেশজুড়ে এতদিন আন্দোলন করে এসেছেন প্রবীণরা। এবার তাঁদের পথেই প্রতিবাদে পথে নামছে বিজেপি ঘনিষ্ঠ শ্রমিক সংগঠন ভারতীয় মজদুর সংঘ বা বিএমএস। আগামী ১৭ আগস্ট দেশজুড়ে প্রতিবাদ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে তারা।
পেনশন নিয়ে যারা আন্দোলনে নেমেছে, তাদের মধ্যে অন্যতম ইপিএস-৯৫ পেনশনভোগীদের সর্বভারতীয় সংগঠন ন্যাশনাল অ্যাজিটেশন কমিটি। মহারাষ্ট্রের বুলদানায় বছরের পর বছর ধরে রিলে অনশন চালাচ্ছে তারা। পাশাপাশি প্রতিটি রাজ্যের বিক্ষোভ সমাবেশ যেমন চলছে, তেমনই দিল্লিতেও একাধিকবার প্রতিবাদ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে তারা। তাদের দাবি মাসিক পেনশন ন্যূনতম সাড়ে সাত হাজার টাকা করা হোক। সঙ্গে দেওয়া হোক ডিএ এবং চিকিৎসা সংক্রান্ত সুযোগ সুবিধা। এই সংগঠনের পাশাপাশি বিএমএস’ও পিফের আওতায় থাকা পেনশন বৃদ্ধিতে সরকারের কাছে দরবার করেছে। তবে বহুদিন তাদের দাবি ছিল মাসিক ন্যূনতম পেনশন পাঁচ হাজার টাকা করা হোক। সূত্রের খবর, তারা সেই দাবি সাড়ে সাত হাজার টাকায় নিয়ে গিয়েছে। সঙ্গে যুক্ত করেছে ডিএ এবং চিকিৎসা সংক্রান্ত খরচও। এই বিষয়ে নরেন্দ্র মোদি সরকারের উপর চাপ সৃষ্টি করতে চায় তারা। পেনশনের পাশাপাশি পিএফ এবং ইএসআই সংক্রান্ত দাবিও এই তালিকায় রাখতে চায়। তাদের দাবি, ইএসআইয়ের সুবিধা দেওয়া হোক মাসিক ৪২ হাজার টাকা পর্যন্ত রোজগার করা কর্মীদের। বর্তমানে ২১ হাজার টাকা পর্যন্ত যাঁরা রোজগার করেন, তাঁরাই এএসআইয়ের সুবিধা পান। অন্যদিকে পিএফের সুবিধা পাওয়ার জন্য মাসিক বেতনের উর্ধ্বসীমা বর্তমানে ১৫ হাজার টাকা থাকলেও, তা বাড়িয়ে ৩০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব দিয়েছে বিএমএস। এছাড়াও আন্দোলনের কর্মসূচিতে আরও বেশ কিছু দাবিদাওয়া সামনে রেখেছে তারা।