নয়াদিল্লি: অবশেষে যুদ্ধ শেষের ঘোষণা! প্রাথমিক সমঝোতাপত্রে সই করেছেন ইরান ও আমেরিকার প্রেসিডেন্ট। সেই চুক্তির অন্যতম শর্ত—হরমুজ প্রণালী দিয়ে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনা। কয়েকদিন ধরেই শান্তিচুক্তি স্বাক্ষর হওয়ার জল্পনায় ভর করে বিশ্ববাজারে নিম্নমুখী হয়েছে অশোধিত তেলের দর। বৃহস্পতিবার ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম নেমে গিয়েছে ব্যারেল প্রতি ৭৭.৮০ ডলারে, যা গত তিন মাসে সর্বনিম্ন।
গত ২ মার্চ ছিল ইরান-আমেরিকা যুদ্ধ শুরুর পর বাজার খোলার প্রথম দিন। সেদিন ব্রেন্ট ক্রুডের দর ছিল ৭৭.৭৪ ডলার। ইরান যুদ্ধের জেরে মার্চ মাসের শেষেই তা ১১৮ ডলার ছাড়িয়ে যায়। বিশ্ববাজারে জ্বালানির দর অস্বাভাবিক বৃদ্ধির ধাক্কা এসে লাগে ভারতেও। প্রথমে বাড়ানো হয় রান্নার গ্যাসের দাম। তারপর পশ্চিমবঙ্গ সহ পাঁচ রাজ্যের ভোট মিটতেই বৃদ্ধি করা হয় পেট্রল-ডিজেলের দাম। চার দফায় প্রায় ৮ টাকা। স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও জ্বালানি বাঁচাতে গাড়ি সফর কাটছাঁট করার বার্তা দিয়েছেন দেশবাসীকে। এবার বিশ্ববাজারে অশোধিত তেলের দাম কমতেই জ্বালানির দামে সুরাহার দাবি তুলেছে আম জনতা। কিন্তু সব আশায় জল ঢেলে দিয়েছে মোদি সরকার। কেন্দ্রীয় পেট্রলিয়াম প্রতিমন্ত্রী সুরেশ গোপী এদিন সাফ জানিয়ে দিয়েছেন—এখনই তেলের দাম কমবে না। হরমুজ পার হয়ে অশোধিত তেলগুলিকে ভারতে আসতে হবে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে বেশ কিছুটা সময় লাগবে। ভারতবাসীকে যুদ্ধের আঁচ থেকে বাইরে রাখতে কেন্দ্রের ১২ হাজার কোটি টাকা লোকসান হয়েছে। তেলের উপর শুল্কও কমানো হয়েছিল। তাই কেন্দ্র ও তেল সংস্থাগুলিকে সেই লোকসানের বোঝা কিছুটা কমাতে হবে। সময় লাগবে।
তথ্য-পরিসংখ্যান বলছে, আন্তর্জাতিক বাজারে অশোধিত তেলের দর এক ডলার নামলেই ভারতে পেট্রল ৫০-৬০ পয়সা সস্তা হতে পারে। তাহলে গত মার্চ থেকে জুনে ব্রেন্ট ক্রুডের দর প্রায় ৪০ ডলার কমেছে। সেক্ষেত্রে তো প্রায় ২০ টাকা কমতে পারে পেট্রলের দাম! কিন্তু সাম্প্রতিক অতীতেও এমন পরিস্থিতিতে আম জনতাকে কোনো সুরাহা দেয়নি মোদি সরকার। যদিও যুদ্ধের কারণে লাগু হওয়া বিধিনিষেধ এবার কিছুটা শিথিল হওয়ার ইঙ্গিত মিলেছে সরকারি সূত্রে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সরকারি আধিকারিক বলেছেন, ‘বিশ্বজুড়ে তেলের দাম কিছুটা স্থিতিশীল হলে, জ্বালানির উপর জারি বিধিনিষেধ শিথিল করা হবে।’