নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: জল প্রকল্পের কাজের কারণে রাস্তা খোঁড়া হয়েছিল দীর্ঘদিন আগে। জলের পাইপ বসে গিয়েছে কয়েক মাস হয়ে গিয়েছে। তারপরও রাস্তা মেরমত করার কোনও লক্ষণ নেই বলে অভিযোগ উঠল সাঁকরাইলে। এই রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন বহু যানবাহনের যাতায়াত। এখন সবসময় ধুলোর ঝড় উঠছে। শুরু হয়েছে মানুষের শ্বাসকষ্ট। ব্যবসার ক্ষতি হচ্ছে। সবমিলিয়ে নাজেহাল এখানকার বাসিন্দারা। হাওড়ার সাঁকরাইল ব্লকের চাঁপাতলা মোড় থেকে রেল স্টেশন পর্যন্ত সত্যেন বসু রোডের হাল কবে ফিরবে? প্রশ্ন নাগরিকদের।
২০২২ সালে সারেঙ্গা মানিকপুর থেকে সাঁকরাইল স্টেশন পর্যন্ত জল প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছিল। তখন প্রায় আড়াই কিলোমিটার রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি করা হয়। কয়েকমাস আগে চাঁপাতলা থেকে রেল স্টেশন পর্যন্ত রাস্তার পাশে পাইপ বসানোর কাজ সম্পূর্ণ হয়েছে। তারপর থেকেই রাস্তার অবস্থা চরম বেহাল। চাঁপাতলা সংলগ্ন বাদামতলার অবস্থা সবথেকে খারাপ। স্টেশন থেকে জাতীয় সড়কে যাওয়ার এটিই মূল পথ। দিনভর ছোট-বড় লরি, অটো, অগুন্তি টোটো ও বাইক চলাচল করে। এখন গোটা এলাকা ঢেকে গিয়েছে ধুলোর আস্তরণে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ‘কয়েক মাস ধরে সারাদিন ধুলোর দাপট। বাড়ির জানালা সবসময় বন্ধ করে রাখতে হচ্ছে। দোকানের সামনে প্লাস্টিকের পর্দা ঝুলিয়ে রেখেও মালপত্র বাঁচাতে পারা যাচ্ছে না।’ কাজল জানা নামে স্থানীয় এক ব্যবসায়ী বলেন, ‘ধুলোর চোটে কিছুক্ষণ পরপর দোকান পরিষ্কার করতে হয়। আশপাশের প্রতিটি দোকানেরই একই অবস্থা। মালপত্র নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। খদ্দের কমছে। এরপর ব্যবসা লাটে উঠবে।’ মহম্মদ আনসারি, জগদীশ সরকার নামে দু’জন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, ‘ধুলোর দাপটে বাড়ি থেকে বের হওয়াই দুষ্কর। দিনে তিনবেলা স্নান করতে হচ্ছে। তাতেও শান্তি নেই। সবসময় মাস্ক পড়ে থাকতে হচ্ছে।’ এই এলাকার প্রবীণ বাসিন্দাদের মধ্যে শ্বাসকষ্টের সমস্যা বাড়ছে বলে অভিযোগ জানালেন একাধিক ব্যক্তি। এই রাস্তার পাশে তিনটি হাই স্কুল ও একটি ব্লক হাসপাতাল আছে। প্রতিদিন বহু পড়ুয়া ও কয়েক হাজার মানুষ যাতায়াত করেন এখান দিয়ে। বেহাল রাস্তায় প্রায়দিনই টোটো উল্টে ঘটছে ছোটখাটো দুর্ঘটনা। অ্যাম্বুলেন্সে রোগী নিয়ে যেতে পর্যন্ত ভয় পাচ্ছেন চালকরা। সবার অভিযোগ, ‘বেহাল রাস্তা কবে সারাই করা হবে জানতে চেয়ে একাধিকবার পঞ্চায়েতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন বাসিন্দারা। কোনও সদুত্তর মেলেনি।’ সাঁকরাইল পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি সোনালি দাস বলেছেন, ‘দপ্তরের অভ্যন্তরীণ কিছু সমস্যার জন্য রাস্তা সারাই করতে দেরি হচ্ছে। তবে সাঁকরাইল স্টেশনের দিক থেকে রাস্তার কাজ শুরু হয়েছে।’ এর পাশাপাশি পঞ্চায়েত সমিতি আশ্বস্ত করে জানিয়েছে, বর্ষার আগে রাস্তার হাল ফেরানো হবে। নিজস্ব চিত্র