নিজস্ব প্রতিনিধি, মেদিনীপুর: দু’টি গ্রাম পঞ্চায়েতের মধ্যে যাতায়াতের একমাত্র ভরসা ভগ্নপ্রায় বাঁশের সেতু। সেই সেতু পেরিয়েই প্রতিদিন স্কুল-কলেজে যেতে হচ্ছে পড়ুয়াদের। বর্তমানে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার মরশুমে সাইকেল কাঁধে নিয়ে ঝুঁকি নিয়েই পারাপার করছেন পরীক্ষার্থীরা। ছবিটা কেশপুর ব্লকের কেশপুর ও সরিষাখোলা গ্রাম পঞ্চায়েতের মাঝে অবস্থিত কুমিরচক এলাকার। গ্রামবাসীরা জানালেন, এই দুই নদীর মধ্যে দিয়ে গেছে পারাং নদী। নদীর একদিকে রসুনচক, আন্দিচক সহ একাধিক গ্রাম রয়েছে। আর অন্যদিকে বিস্তীর্ণ জনপদ। গ্রীষ্মকালে কোনোমতে পারাপার সম্ভব হলেও বর্ষায় কার্যত দুই গ্রাম পঞ্চায়েতের মধ্যে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। কেশপুর পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি চিত্তরঞ্জন গড়াই বলেন, কেশপুরজুড়ে নানা সেতু তৈরি হয়েছে। ওই এলাকারও সমস্যার সমাধান করা হবে। প্রসঙ্গত, বাম আমলে কেশপুরের উন্নয়ন নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠত। সামান্য সরকারি প্রকল্পের সুবিধাটুকু পেতেন না মানুষ। বর্তমান সময়ে ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের আওতায় কেশপুরজুড়ে নানা প্রকল্পের কাজ হচ্ছে। তবে এখনও কিছু এলাকায় সেতু তৈরি না হওয়ায় সমস্যায় পড়ছেন সাধারণ মানুষ। এলাকাবাসীর অভিযোগ, বহুবার প্রশাসনের দ্বারস্থ হওয়া সত্ত্বেও সমস্যার সমাধান হয়নি। স্থানীয় নেতামন্ত্রীদের থেকে একাধিকবার আশ্বাস মিললেও বাস্তবে স্থায়ী সেতু নির্মাণের কাজ শুরু হয়নি। এনিয়ে রাজনৈতিক তরজা চরমে উঠেছে। মেদিনীপুর সাংগঠনিক জেলা বিজেপির সহ সভাপতি শঙ্কর গুছাইত বলেন, তৃণমূল নেতারা কাটমানি আর দুর্নীতি নিয়ে ব্যস্ত। তাই সেতু তৈরির সময় পায়নি। কেশপুর ব্লক তৃণমূলের সভাপতি প্রদ্যুৎ পাঁজা বলেন, ৩৪ বছরের বাম জামানায় মাত্র ১টি সেতু তৈরি হয়েছে। আমরা প্রায় ২০টি সেতু তৈরি করেছি। আরও কিছু সেতু তৈরির টেন্ডার হচ্ছে। এছাড়া শুধু কেশপুর ব্লকে ৫০০ কিলোমিটার রাস্তা তৈরি হবে। বিজেপির নেতাদের জন্য বিনামূল্যে ছানি অপারেশন করার ব্যবস্থা করছি।



