সংবাদদাতা, বহরমপুর: বড়ঞা ব্লকে প্রধানমন্ত্রী জলজীবন মিশন কার্যত মুখ থুবড়ে পড়েছে। বড়ঞা ২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের বেশ কয়েকটি গ্রামে এখনও এক ফোঁটাও জল আসেনি। চার বছর আগে মাটির তলায় পাইপ বসানো হয়েছে। বাড়ি বাড়ি পরিস্রুত পানীয় জলের সংযোগও দেওয়া হয়েছে। কিন্তু জল আসেনি। কেন্দ্র সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফুঁসছে বাসিন্দারা। উপভোক্তাদের অভিযোগ, ঘর ঘর জল বলে মোদি সরকারের ঢাক পেটানোই সার। ঘটা করে বাড়ি বাড়ি কানেকশন দেওয়া হয়েছে। আজও পানীয় জল মেলেনি। গরম পড়তে শুরু করায় পুঞ্জিভূত ক্ষোভ রাস্তায় নামার উপক্রম হয়েছে। পানীয় জলের জন্য দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষায় থাকা মানুষ বলতে শুরু করেছেন, এই গ্রীষ্মে জল না পেলে আন্দোলন শুরু হবে।
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বড়ঞা ২ নম্বর পঞ্চায়েতে কেন্দ্রের বাড়ি বাড়ি পরিস্রুত পানীয় জল সরবরাহের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। বাড়ি বাড়ি কানেকশন দেওয়ার কাজও শেষ। উপভোক্তাদের দাবি, বাড়িতে পাইপ লাইনের কানেকশন দিতে সে সময় ঠিকাদার পরিবার প্রতি ১০০-২০০ টাকা আদায় করেছে। এরপর পরীক্ষামূলক একদিন পাইপ লাইনে জল আসায় গ্রামবসীদের মুখে হাসি ফুটেছিল। তারপর আর জলের দেখা পায়নি বেশ কয়েকট গ্রামের কয়েক হাজার পরিবার। নিমা, বাহাদুরপুর, ফতেপুর, পালি বোলপাড়া, পারশালিকা, রামেশ্বরপুর সহ একটি পঞ্চায়েতের দশটি গ্রামের মানুষ জল পাচ্ছেন না। এদিকে উত্তাপ বাড়তেই গ্রামগুলিতে পানীয় জলের সঙ্কট দেখা দিয়েছে। পারশালিকার বাসিন্দা সাগর বাগদি বলেন, চার বছর আগে বাড়িতে জলের কানেকশন দিয়ে গিয়েছে। আজ পর্যন্ত এক গ্লাস জল পাইনি। মোদি সরকার মানুষকে ভাঁওতা দিয়েছে। বাহাদুরপুরের সমীর শেখ বলেন, বাড়ি বাড়ি জল আসবে বলে মানুষ আশায় বুক বেঁধেছিল। চার বছরেও পছিপাড়া ছাড়া কেউ জল পায়নি। কবে কলে জল আসবে তার নিশ্চয়তাও নেই। মানুষের আশাভঙ্গ হয়েছে।পঞ্চায়েতের প্রধান জহিরুন্নেশা বিবি বলেন, দু’ জায়গায় পাম্প বসানোর কাজ চলছে। এই গ্রীষ্মেই বাড়িতে বাড়িতে জল মিলবে।