সংবাদদাতা, বনগাঁ: ১৯৪৭ সালে ১৫ আগস্ট ভারত স্বাধীন হলেও দেশভাগের ‘ভুল’ মানচিত্রের খেসারত দিতে হয়েছিল বনগাঁবাসীদের। তিনদিন পর অর্থাৎ ১৮ আগস্ট বনগাঁ সহ নদীয়া ও মুর্শিদাবাদের বিস্তীর্ণ এলাকা ভারতের অন্তর্ভুক্ত হয়। ওই দিনটির তাৎপর্য স্মরণ করতে গত ১৬ বছর ধরে ১৮ আগস্ট বনগাঁ আদালতে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন আইনজীবীরা। এ বছরও সোমবার আইনজীবীরা জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন আদালত চত্বরে।
র্যাডক্লিফের তৈরি মানচিত্রে বাংলার কিছু অংশ বিতর্কিতভাবে অবস্থান করছিল। বনগাঁ ছিল পাকিস্তানের অংশ। এ নিয়ে নানা জায়গায় প্রতিবাদ গড়ে ওঠে। মাউন্টব্যাটন দ্বিতীয় বারের জন্য মানচিত্র তৈরির নির্দেশ দেন। ১৭ আগষ্ট মধ্যরাতে বনগাঁ ভারতে অন্তর্ভুক্ত হয়। ১৯৪৭ সালে আগষ্ট মাসে শেষের দিকে বনগাঁয় বিজয় উৎসব করা হলেও এরপর আর সেভাবে এই দিন উদযাপন হয়নি। ১৭ বছর আগে বনগাঁ আদালতের আইনজীবী অখিল রায়চৌধুরী এই বিশেষ দিন উদযাপন করার পরিকল্পনা করেন। তারপর থেকে ১৮ তারিখ আদালত চত্বরে আইনজীবীরা জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন।
বনগাঁর ইতিহাস নিয়ে গবেষণা করেন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক নারায়ণ মণ্ডল। তিনি বলেন, ‘দেশভাগের আগে বনগাঁর অর্ধেকের বেশি বাসিন্দা মুসলমান সম্প্রদায়ের ছিলেন। বনগাঁ ভারতে অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় তাঁদের অনেকে পাকিস্তান চলে যান। পরিবর্তে বহু নতুন মানুষ এখানে আসেন। তাঁদের কাছে এই দিনটির কোনো গুরুত্ব সেভাবে ছিল না। স্কুল, কলেজ বা সেমিনার করে ১৮ আগষ্টের গুরুত্ব নতুন প্রজন্মকে জানানোও হয় না।’ এর পাশাপাশি সুনীল রায় নামে এক অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক বলেন, ‘১৮ আগষ্টের ইতিহাস নতুন প্রজন্মের জানা উচিত। বনগাঁবাসীর মন থেকে মুছে যাচ্ছে সে ইতিহাস।’ বনগাঁর বাসিন্দা তন্ময় দে নামে অন্য এক শিক্ষক বলেন, ‘প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই দিন কোনও অনুষ্ঠান হয় না। ১৫ আগষ্ট থেকে ১৮ আগষ্ট পর্যন্ত স্বাধীনতা বিষয়ক নানা অনুষ্ঠান করা হোক প্রশাসনের পক্ষ থেকে।’