Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

আর লাইনে দাঁড়াতে চায় না আম জনতা, এসআইআর, রান্নার গ্যাস, উন্নয়ন ইস্যুতে মাটিগাড়া-নকশালবাড়িতে তরজা

পাকা রাস্তার দু’পাশে সবুজ চা বাগান। রাস্তার ধারে ছোট একটি বাজার। চা, ঘুগনি, ডিম সেদ্দ, সব্জি, লটারির টিকিট প্রভৃতির অস্থায়ী দোকান। চা শ্রমিকদের জটলা। সংশ্লিষ্ট বাজার সেজে উঠেছে জোড়াফুল ও পদ্ম ফুলের ঝান্ডা, ব্যানার ও ফ্লেক্সে।

আর লাইনে দাঁড়াতে চায় না আম জনতা, এসআইআর, রান্নার গ্যাস, উন্নয়ন ইস্যুতে মাটিগাড়া-নকশালবাড়িতে তরজা
  • ৮ এপ্রিল, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সুব্রত ধর, নকশালবাড়ি: পাকা রাস্তার দু’পাশে সবুজ চা বাগান। রাস্তার ধারে ছোট একটি বাজার। চা, ঘুগনি, ডিম সেদ্দ, সব্জি, লটারির টিকিট প্রভৃতির অস্থায়ী দোকান। চা শ্রমিকদের জটলা। সংশ্লিষ্ট বাজার সেজে উঠেছে জোড়াফুল ও পদ্ম ফুলের ঝান্ডা, ব্যানার ও ফ্লেক্সে। এর থেকেই স্পষ্ট-গ্রামে ছড়িয়েছে ভোটের উত্তাপ। এটা এশিয়ান হাইওয়ের অটল মোড়। এখানেই ভোটের হাওয়া নিয়ে প্রশ্ন করতেই শ্রমিকদের একাংশের বক্তব্য, এসআইআর, রান্নার গ্যাস সবেতেই লাইনে দাঁড়িয়ে হয়রান হতে হচ্ছে। তাই তাঁরা খাল কেটে আর কুমির আনতে চান না। পাল্টা কয়েকজনের দাবি, রাজ্যের জন্যই মিলছে না কেন্দ্রীয় সরকারের সুবিধা। এজন্যই রাজ্যে পরিবর্তন হচ্ছে। এখানেও ফের ফুটবে পদ্ম। উভয়পক্ষের এমন তরজা ঘিরে সরগরম  স্থানীয় রাজনীতি।

Advertisement

মাটিগাড়া, বাগডোগরা ও নকশালববাড়ির উপর দিয়ে বিস্তৃত এশিয়ান হাইওয়ে। এই রাস্তা সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলির লাইফ লাইন হিসেবে পরিচিত। অবিরাম ছুটছে যানবাহন। বাইক, টোটো, সিটি অটো, বাস ও লরি চলাচল করছে। এই রাস্তা দিয়ে চলাচলের সময় ভোটের হাওয়া বোঝার উপায় নেই। কারণ, ভোট প্রচার নিয়ে তাপ-উত্তাপ নেই। এই লাইফ-লাইনের বিভিন্ন মোড়ে ভোট প্রচারের ছবিটা জমজমাট। যার মধ্যে অটল মোড় একটি। এই মোড় থেকে বা পাশে পাকা রাস্তা যাচ্ছে ঘোষপুকুরের দিকে। রাস্তার দু’পাশে সবুজ  চা বাগান। সবুজ ঘেরা এমন গ্রামের ওলি-গলিতে চলছে ভোট নিয়ে নানা চর্চা। 
অটল মোড়ে চা-ঘুগনি খেতে খেতে রমেন টুডু বলেন, দিদি (তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়) লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, স্বাস্থ্যসাথী, যুবসাথী দিয়েছেন। কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকার এসআইআরের নাম করে লাইনে দাঁড় করিয়ে হয়রান  করিয়েছে। অনেকের ভোটাধিকার কেড়েছে। কেন্দ্র ১০০ দিনের কাজ ও আবাস যোজনা সহ বিভিন্ন প্রকল্প বন্ধ করে রেখেছে। তাই এবারের ভোট বুঝে শুনেই দেব।  
পাশেই হাতিঘিষা মোড়ের ভোট প্রচারের দৃশ্যটাও একই। এখানে জোড়াফুল, ও পদ্মের পাশাপাশি কাস্তে-হাতুড়ি-তারার ঝান্ডা উড়ছে। এখানেই চায়ের দোকানের আড্ডায় দিনমজুর গোপাল বর্মন, হরেন রায়রা বলেন, এই গ্রামে রাস্তা, পানীয় জলের ব্যবস্থা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় করেছেন। কিন্তু, একদা এই গ্রাম ‘দত্তক’ নিয়েও বিজেপির এক  জনপ্রতিনিধি কিছুই করেননি। তাই দিদির ঋণ ভুলিনি। তাছাড়া, এসআইআরের পর রান্নার গ্যাসের জন্যও দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। অনেককে কাঠের উনুনে রান্না করতে হচ্ছে। তাই আমরা খাল কেটে আর কুমির আনতে চাই না। 
এর পালটা সোনা বর্মন ও জীবন রায়রা বলেন, কেন্দ্রীয় সরকারের বহু ভালো প্রকল্প রয়েছে। সেগুলি বাস্তবায়িত করতে দিচ্ছে না বর্তমান রাজ্য সরকার। তাছাড়া এখানে ওরা বাংলাদেশের স্লোগান দিচ্ছে। তাই এবারও এখানে পদ্মফুল ফুটবে। 
শুধু গ্রামবাসী নয়, ভোট নিয়ে তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যেও চলছে বাগযুদ্ধ। আইএনটিটিইউসি’র দার্জিলিং জেলা সভাপতি (সমতল) নির্জল দে বলেন, এখানে ওদের সাংগঠনিক জোর নেই। দিল্লি থেকে ভাড়া করা লোক এনে ভোট প্রচার করছে। এখান থেকে এবার পদ্মকে উচ্ছেদ করবই। পালটা বিদায়ী বিধায়ক তথা বিজেপি প্রার্থী আনন্দময় বর্মন বলেন, তৃণমূল কী বলছে তা নিয়ে মাথা ঘামাচ্ছি না। এবার গতবারের লিড বাড়ানোই আমার লক্ষ্য।

সম্পর্কিত সংবাদ