নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: অবৈধ লোটো গেমে আসক্ত হয়ে সর্বস্বান্ত হচ্ছেন নন্দীগ্রামবাসী। থানা থেকে ৫০মিটার দূরে থানা মোড়, হাসপাতাল মোড়, বাসস্ট্যান্ড সহ অন্তত ২০টির বেশি জায়গায় রমরমিয়ে ওই অবৈধ খেলা চলছে। সেগুলি বন্ধ করতে গিয়ে প্রাণনাশের হুমকি পাচ্ছেন পঞ্চায়েতের জনপ্রতিনিধিরা। পুলিসকে জানিয়েও ওই কারবার বন্ধ হচ্ছে না বলে অভিযোগ। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, পুলিসের মদতে উত্তর ২৪পরগনার টিটাগড় এবং হাওড়ার বাগনানের লোটো জগতের দুই কিংপিন নন্দীগ্রামজুড়ে এই অবৈধ কারবার চালাচ্ছে। প্রতিদিন কয়েক লক্ষ টাকা লুট হচ্ছে। সর্বস্বান্ত হচ্ছেন নন্দীগ্রামের সাধারণ মানুষ। নাকের ডগায় এরকম অবৈধ কারবার চলার পরও একেবারে চুপ পুলিস।
সোনাচূড়া বাজার, ভাঙাবেড়িয়া বাজার ও ব্রিজ, সাউদখালি, নন্দীগ্রাম হসপিটাল মোড়, থানা মোড়, বাসস্ট্যান্ড এলাকায় রমরমিয়ে এই কারবার চলছে। টোটো চালক, ছোট-বড় দোকানদার সহ অনেকেই বিকেলের পর লোটো কাউন্টারে ভিড় করছেন। রাতারাতি ধনী হওয়ার নেশায় টিকিট কেটে কম্পিউটার স্ক্রিনে ভাগ্য পরীক্ষার খেলায় অনেকেই সর্বস্বান্ত হচ্ছেন। এই অবৈধ খেলার বহু কাউন্টার গজিয়ে উঠেছে গোটা নন্দীগ্রামজুড়েই। এরসঙ্গে স্থানীয়স্তরে কিছু রাজনৈতিক নেতার মদত রয়েছে বলেও অভিযোগ। ভাগ্য বদলের এই খেলায় হাজার হাজার টাকার বাজি ধরে অনেকেই কপাল চাপড়ে বাড়ি ফিরছেন। অনেকেই জমি, দোকান বিক্রি করে দিচ্ছেন। অভিযোগ, নন্দীগ্রাম থানার এক সিভিক ভলান্টিয়ার এরসঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত। সব জেনেও নিশ্চুপ পুলিস।
সোনাচূড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান আশিস মণ্ডল বলেন, আমার পঞ্চায়েত এলাকায় প্রায় ১০-১২টি লোটো কাউন্টার চলছে। মানুষজন ওইসব কাউন্টারে বাজি ধরে সারাদিনের উপার্জিত টাকা খুইয়ে দিনের শেষে হতাশ হয়ে বাড়ি ফিরছেন। হতাশা কাটাতে ভরসা মদ ও মাদক। এভাবে এলাকার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। সোনাচূড়া বাজারে লোটোর কারবার বন্ধ করার জন্য আমি লাগাতার চেষ্টা করেছি। কিছুদিনের জন্য একবার বন্ধ হয়। তারপর লাগাতার প্রাণনাশের হুমকি পেয়েছি। এনিয়ে থানায় বহুবার অভিযোগ জানানো হয়েছে। কিন্তু, পুলিস কোনও পদক্ষেপ নেয়নি। নন্দীগ্রাম-১ বিডিও সৌমেন বণিক বলেন, লোটো একটি অবৈধ গেম। নন্দীগ্রামে এই অবৈধ কারবার বন্ধ করার জন্য পুলিসকে বলব। নন্দীগ্রাম থানার আইসি প্রসেনজিৎ দত্ত বলেন, লোটো খেলা বন্ধ করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। আগেও এর বিরুদ্ধে অভিযান হয়েছে। ফের পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এই অবৈধ কারবারের বিরুদ্ধে পুলিস বরাবর কঠোর পদক্ষেপ নেয়।