সংবাদদাতা, কল্যাণী: একটা সময় ছিল যখন স্টুডিয়োর ব্যবসা রমরমিয়ে চলত। অনেকেই শখ করে কোনও উৎসব, পার্বণে স্টুডিওয় গিয়ে ছবি তোলাতেন। কিন্তু কালের গতিতে এখন সেই ঝোঁক অনেকাংশেই হ্রাস পেয়েছে। মোবাইল ফোনের ক্যামেরার আধিপত্যে কমে গিয়েছে ছবি তোলার স্টুডিওর কদর। এক কথায় ‘সফট’ ছবির ধাক্কায় ক্রমশ কমে যাচ্ছে ‘হার্ড’ ছবির বাজার। স্টুডিও ব্যবসায়ীরা জানাচ্ছেন, মোবাইল ফোনের সঙ্গে লড়াই করে এখনও যেসব স্টুডিও টিকে আছে, সেখানে মূলত অফিস, আদালত, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সহ বিভিন্ন কাজে ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় ছবির বাইরে অন্য ছবি তেমন আর তোলা হয় না।
কিন্তু ধুকতে বসা সেই স্টুডিওর ব্যবসায় হঠাৎ করে যেন জোয়ার এসেছে। সকাল বিকেল ভিড় হচ্ছে শহর ও গ্রামাঞ্চলের স্টুডিওগুলিতে। ছবি তুলতে ব্যস্ত আমজনতা। কল্যাণী, চাকদহ, হরিণঘাটা এলাকার বেশ কিছু স্টুডিও মালিকদের এখন নাওয়া-খাওয়ার সময় নেই। এলাকার বাসিন্দাদের প্রয়োজন মেটাতে কোনও কোনও দোকান অনেক রাত পর্যন্ত খোলা থাকছে। কিন্তু কারণটা কী? জানা গিয়েছে, কারণ একটাই। এসআইআরের জন্য ইনিউমারেশন ফর্ম ফিলাপের সময় প্রতি নাগরিকের একটি করে সাম্প্রতিক পাসপোর্ট সাইজের ছবি লাগছে। তাই হঠাৎ স্টুডিওমুখী আমজনতা।
এই ভিড় দেখে খুশি স্টুডিও ব্যবসায়ীরাও। এই বিষয়ে কল্যাণী মেইন স্টেশন চত্বরে থাকা বহু পুরনো এক স্টুডিওর কর্মচারী বলেন, স্টুডিওর ব্যবসা গিলে খেয়েছে মোবাইল। আমাদের স্টুডিও থেকে সাধারণত দৈনিক অল্প কিছু পাসপোর্ট ছবি আর কিছু ফটো ফ্রেম বিক্রি হয়। কিন্তু এসআইআর চালু হওয়ার পর থেকে মানুষ কাগুজে ছবির প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেছে। এই চাহিদা সারা বছর থাকলে আমাদের আর দুশ্চিন্তায় পড়তে হত না।