নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: টানা বৃষ্টির জেরে সবজি চাষে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে জেলায়। তুলনামূলকভাবে ফুল চাষে ক্ষতির পরিমাণ কম। তবুও জেলায় সবরকম ফুলের দাম লাগামছাড়া। ফলে মুখ ফেরাচ্ছে সাধারণ মানুষ। এক্ষেত্রে বড় ব্যবসায়ীদের একাংশের বিরুদ্ধে কালোবাজারির অভিযোগ তুলছেন ছোট ব্যবসায়ীরা। যার জেরে বাড়ছে দাম। এটা চলতে থাকলে আগামীতে বাজারে ‘কৃত্রিম’ সংকটও তৈরি হতে পারে বলেও আশঙ্কা তাঁদের।
উত্তর ২৪ পরগনা জেলায় মোট ২ হাজার হেক্টর জমিতে ফুল চাষ হয়েছে। তার মধ্যে ৬৫৬ হেক্টর জমি ক্ষতিগ্রস্ত। জেলার গাইঘাটা, ঠাকুরনগর, গোবরডাঙা, সুঁটিয়া, বনগাঁ এলাকায় ফুল চাষ হয়। ইছামতীর তীরবর্তী এই এলাকা এখনও জলমগ্ন। ফলে, ফুল গাছ কার্যত জলের তলায়। বেড়ে গিয়েছে দাম। এর পিছনে হাত রয়েছে ব্যবসায়ীদের একাংশের। দু’টি কারণে চড়ছে ফুলের দাম। আগে গাঁদা ফুল পাইকারি বিক্রি হতো ৬০ টাকা কেজি দরে। এখন দাম হয়েছে ৪০০ টাকা কেজি। রজনীগন্ধার দাম ৪০ থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০০ টাকা কেজি। ১০০ পিস গাঁদার আগে দাম ছিল ১০০ টাকা। এখন দাম হয়েছে ২০০ টাকা। এদিকে ১০০ পিস গোলাপের দাম ৭০ থেকে বেড়ে হয়েছে ৪০০ টাকা। তুলসী পাতার দাম বান্ডিল প্রতি ছিল ১ টাকার কম। এখন তা পাইকারি বাজারে বিক্রি হচ্ছে ১৫-২০ টাকায়। সুঁটিয়ার ফুল চাষি সুমন বিশ্বাসের কথায়, আমার চারবিঘা জমিতে গাঁদা, রজনীগন্ধা, গোলাপ সহ একাধিক প্রজাতির ফুল গাছ ছিল। কিন্তু তা একপ্রকার জলের তলায়। শুধু তাই নয়, প্রতিদিন সকালে বের হচ্ছে রোদ। আর দুপুরের দিকে বৃষ্টিতে ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে গাছে। আগে, প্রতিদিন অন্তত ৫০ কেজি করে বিভিন্ন ফুল বিক্রি করতাম। এখন হয় না। এনিয়ে বারাসতের ছোট ফুল বিক্রেতা তৃপ্তি কুণ্ডু ও প্রণতি সরকার বলেন, ফুলে ক্ষতি হয়েছে তা ঠিক। কিন্তু কিছু অসাধু বড় ব্যবসায়ী এটাকে কাজে লাগিয়ে কালোবাজারি করছে। আমাদের করার কিছু নেই। তাই ক্রেতা কমে গিয়েছে। সাধারণ মানুষ ফুল কেনা কমিয়ে দিয়েছেন। সামনে গণেশ পুজো, কীহবে বুঝতে পারছি না। প্রশাসনের এনিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। পাইকারি বিক্রেতা অমল বিশ্বাস বলেন, জলে ফুল নষ্ট হয়েছে। তাই ফুলের দাম বাড়ছে। আর আগামীতে আরও বাড়বে। তবে, কালোবাজারির অভিযোগ ভিত্তিহীন। এনিয়ে সারা বাংলা ফুলচাষি ও ফুল ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক নারায়ণচন্দ্র নায়েক বলেন, টানা বৃষ্টির দরুণ গাঁদা-দোপাটি সহ বিভিন্ন ফুলবাগানের মাটি ভিজে থাকায় গাছ নষ্ট হচ্ছে। একইসঙ্গে পাঁপড়িযুক্ত ফুলের ভিতরে বৃষ্টির জল ঢুকে যাওয়ায় ফুলের গুণমান নষ্ট হচ্ছে। পুজো মরশুমে ফুলের সংকট নিশ্চিত।