নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: জন্মাষ্টমী মানেই তালের রকমারি পদে কৃষ্ণ বন্দনা। এতে থাকে তালের বড়া, মালপোয়া, ফুলুরি থেকে শুরু করে ক্ষীর ও তালের লুচি। কৃষ্ণনগর সহ তামাম বঙ্গে জন্মাষ্টমী যেন ভক্তিপ্রিয় তথা ভোজনরসিক বাঙালির কাছে একটা আবেগের বিষয়। প্রতিবছরই জন্মাষ্টমীর সকালে ঘরে, ঘরে পুজোর আয়োজনের সঙ্গে রান্নাঘরে এসব সুস্বাদু পদ তৈরি হয়। কিন্তু এবার জন্মাষ্টমীর আয়োজন করতে গিয়ে বাজারে তেলের অগ্নিমূল্যে ছ্যাঁকা খাচ্ছে বাঙালি।
বাজারে এখন সাদা তেল কেজি প্রতি ১৪০ টাকা। সর্ষের তেলও প্রতি কিলো ১০০ থেকে ১৪০ টাকার মধ্যে ওঠানামা করছে। যদিও আগেই তেলের দাম ছিল ৮০–৯০ টাকা। সেখানে প্রায় দ্বিগুণ দামের ঝাঁজে রান্নাঘরে গৃহিনীদের চোখ দিয়ে জল গড়াচ্ছে।
কৃষ্ণনগর শহরের বাসিন্দা ঘূর্ণির মলয় দাস বলেন, প্রতি বছর জন্মাষ্টমীতে বাড়িতে তালের বড়া, তালের ক্ষীর বানাই। কিন্তু এবার তেলের দামে তো ছ্যাঁকা দিচ্ছে। মুদির বাজারে সবকিছুর দাম বেড়েছে, তার উপর তেলের এত দাম হলে বাড়িতে শ্রীকৃষ্ণের ভোগের আয়োজন কীভাবে হবে? তাই দোকান থেকে অল্প তালের বড়া কিনেই বাড়িতে পুজো সারা হয়েছে। শুধু গেরস্থ মানুষই নন, হিমশিম খাচ্ছেন মিষ্টি ব্যবসায়ীরাও। জন্মাষ্টমী উপলক্ষ্যে কৃষ্ণনগরের বাজারে মিষ্টির দোকানগুলিতে গত শুক্রবার রাত থেকেই ছিল উপচে পড়া ভিড়। শনিবার সকাল থেকেই দোকানে তালের বড়া, মালপোয়া, ক্ষীর, তালের ছানার পায়েসের জন্য ক্রেতার ভিড় লেগে ছিল। চাহিদা বেশি থাকলেও উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় লাভের অঙ্ক নিয়ে চিন্তায় পড়েন ব্যবসায়ীরা। কৃষ্ণনগরের মিষ্টি ব্যবসায়ী দেবাশিস হালদার বললেন, এবার বিক্রিবাটা ভালো হয়েছে ঠিকই। কিন্তু খরচের তুলনায় লাভ খুব একটা হয়নি। তেলের দাম বাড়লেও আমরা জিনিসের দাম খুব বেশি বাড়াতে পারিনি।