সংবাদদাতা, বহরমপুর: রাসায়নিক সারের সঙ্গে অনুখাদ্য ট্যাগ করে বিক্রি করায় চাষিরা চরম ফ্যাসাদে পড়েছেন। বস্তা প্রতি ইউরিয়ার সঙ্গে এক লিটার করে অনুখাদ্য কিনতে বাধ্য করা হচ্ছে চাষিদের। যার দাম ২৪০ টাকা। অনুখাদ্য না নিলে চাষিরা ভর্তুকি মূল্যে ইউরিয়া পাচ্ছেন না। বোরো চাষের সময় রাসায়নিক সারের সঙ্গে তরল অনুখাদ্য ট্যাগ করায় কেন্দ্র সরকারের উপর চাষিদের ক্ষোভ উত্তরোত্তর বাড়ছে। চাষিদের দাবি, ভর্তুকি মূল্যে ইউরিয়া কিনতে হলে অনুখাদ্য নেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। অথচ সেই অনুখাদ্যে কোনও কাজ হচ্ছে না। এই বিষয়ে কেন্দ্রের হস্তক্ষেপের দাবি জানাচ্ছেন তাঁরা। ব্যবসায়ীদের দাবি, রাসায়নিক সার কোম্পানিগুলো এই ট্যাগিং ব্যবস্থা চালু করেছে। অনুখাদ্য না নিলে সারের সঙ্গে সেই দাম জুড়ে দেওয়া হচ্ছে।
মুর্শিদাবাদ জেলায় প্রায় ৮০ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষ হয়। ধান রোপণের সময়ে এবং নিরানের সময় চাষিরা জমিতে ইউরিয়া ব্যবহার করেন। এখন নিরানের কাজ চলছে। নিরানের সময়ে বিঘা প্রতি ৩০-৪০ কেজি হিসেবে ইউরিয়া দিতে হচ্ছে। সমবায় সমিতি থেকে ইউরিয়া কিনলে ভর্তুকি মূল্যে তার দাম পড়ছে ২৪৬ টাকা প্রতি ব্যাগ (৪৫ কেজি)। কিন্তু তার সঙ্গে চাষিদের এক লিটার তরল অনুখাদ্য নিতে হচ্ছে। যার দাম ২৪০ টাকা। ফলে ভর্তুকি মূল্যে ইউরিয়ার দাম পড়ে যাচ্ছে ৪৮৬ টাকা। খোলাবাজারে অনুখাদ্য ছাড়া ইউরিয়ার দাম পড়ছে ৩৫০ টাকা।
তরল অনুখাদ্য ধানের কোনও উপকারে লাগছে না। এমন দাবি করে চাষিদের ক্ষোভ ক্রমশ বাড়ছে। চাষিদের অভিযোগ, কেন্দ্র সরকার চাষিদের ভর্তুকি মূল্যে রাসায়নিক সার দিতে চাইলে অনুখাদ্য ট্যাগ করা বন্ধ করতে হবে। কেন্দ্র রাসায়নিক সার উৎপাদনকারীদের মুনাফার কথা ভাবছে। চাষিদের কথা ভাবছে না।
বড়ঞা ব্লকের পারশালিকার ধান চাষি স্বপন ঘোষ বলেন, ২৪৫ টাকার ইউরিয়া ৩৫০ টাকায় কিনতে হচ্ছে। অনুখাদ্য ধানের উপকারে লাগলে মেনে নিতাম। অহেতুক অনুখাদ্য কেন কিনতে যাব। ধান চাষি লিয়াকত আলি বলেন, সব কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের চক্রান্ত। সরকার সার প্রস্তুতকারকদের কথা ভাবছে। চাষিদের তার খেসারত দিতে হচ্ছে। সারের সঙ্গে অনুখাদ্য ট্যাগিং ব্যবস্থার বদল দরকার।
ফার্টিলাইজার ব্যবসায়ীদের দাবি, তাঁদের কিছু করার নেই। উৎপাদনকারী সংস্থায় এই সিস্টেম চালু করেছে। ফার্টিলাইজার ব্যবসায়ী নির্মলকৃষ্ণ ঘোষ বলেন, রাসায়নিক সারের জোগানের কোনও অভাব নেই। তবে কোম্পানির কাছে আমাদের অনুখাদ্য সহ সার কিনতে হচ্ছে। চাষিরা না নেওয়ায় অনুখাদ্য গোডাউনে পড়ে নষ্ট হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা বাধ্য হয়ে সারের সঙ্গে অনুখাদ্যের দাম জুড়ে দিচ্ছেন।