ওয়াশিংটন: ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে নামায় অত্যাধুনিক মিসাইল সহ বিভিন্ন অস্ত্রের ভাণ্ডারে টান পড়েছে। একইসঙ্গে তেহরানের পালটা হামলায় পশ্চিম এশিয়ার একাধিক সেনাঘাঁটি ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সম্প্রতি প্রকাশিত একটি রিপোর্টে তা জানিয়েছে পেন্টাগন। সোমবার প্রকাশিত ওই রিপোর্টে বিষয়টি স্পষ্ট করেছেন পেন্টাগনের এক ইনস্পেক্টর জেনারেল। প্রতিরক্ষা, বিদেশ ও আন্তর্জাতিক উন্নয়ন থেকে তথ্যের ভিত্তিতে এই রিপোর্ট তৈরি করা হয়েছে।
গত ফেব্রুয়ারি মাসে যৌথভাবে ইরানে হামলা চালায় আমেরিকা ও ইজরায়েল। পালটা জবাব দেয় তেহরানও। দু’পক্ষের লড়াইয়ে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পশ্চিম এশিয়া। পেন্টাগনের রিপোর্ট অনুযায়ী, ১ এপ্রিল থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত একাধিক বিমান ও ড্রোন ধ্বংস করেছে তেহরান। এর মধ্যে রয়েছে অত্যাধুনিক এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন। প্রতিটি ড্রোনের দাম ৩ কোটি মার্কিন ডলার। একইসঙ্গে সাতটি কেসি-১৩৫ রিফুয়েলিং এয়ারক্রাফ্ট ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। জুলাই মাসের শেষে প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ জানান, যুদ্ধে এখনও পর্যন্ত ৩ হাজার ৭৫০ কোটি মার্কিন ডলার খরচ হয়েছে। তবে সেনাঘাঁটি ও কূটনৈতিক বিল্ডিংয়ের ক্ষয়ক্ষতির হিসাব দেননি হেগসেথ। নয়া রিপোর্ট অনুযায়ী, ইরাক, কুয়েত, বাহরিন, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, ওমান, জর্ডনের একাধিক এলাকায় হামলা চালিয়েছে তেহরান। এর জেরে প্রায় ১৮ কোটি ৪০ লক্ষ টাকার লোকসান হয়েছে। বিশেষজ্ঞ মহলের দাবি, অস্ত্রের ঘাটতি মেটাতে প্রায় তিন বছর সময় লাগবে। যদিও তা মানতে নারাজ আমেরিকা। যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই ট্রাম্প দাবি করেছেন, আমেরিকার হাতে পর্যাপ্ত অস্ত্র রয়েছে। সোমবার সোশ্যাল মিডিয়ায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট লেখেন, ‘আমেরিকার ইতিহাসে সবথেকে উচ্চমানের অস্ত্র প্রস্তুত করা হচ্ছে। পশ্চিম এশিয়ায় থাকা আমাদের বাহিনীর সদস্যদের হাতে প্রতি মুহূর্তে তা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।’ তবে পরিস্থিতি যে আদতে ভালো নয়, পেন্টাগনের রিপোর্টে তেমনই ইঙ্গিত মিলেছে।